Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

মহীবুল আজিজের সৃজন জগৎ

মহীবুল আজিজের সৃজন জগৎ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ, ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ


  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজের সৃজন জগৎ বহুমাত্রিক ও বর্ণময়। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণায় ভরপুর তার রচনাসম্ভার। ১৯ এপ্রিল জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতেই বললেন, 'প্রতিটি মুহূর্ত সৃষ্টিশীল থেকে জীবনকে উপভোগ করতে চাই। প্রতিক্ষণ আমি তাই ভাবনা ও লেখার মধ্যে থাকি।'

মহীবুল আজিজ বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি চমৎকার ফারসি জানেন। শিক্ষক লাউঞ্জের আড্ডায় সহজে বুঝিয়ে দিলেন ফারসি শব্দ ও বাক্য গঠন কৌশল। বললেন, 'আমার বাবা ফারসি বিশেষজ্ঞ ছিলেন। পারিবারিকভাবেই ভাষাটি আমার আয়ত্তাধীন। বাংলায় যে হাজার হাজার ফারসি শব্দ আছে, সে ভাষাটি জানা জরুরি।'

মহীবুল আজিজ জানান, 'বাংলা শব্দভাণ্ডারে সবচেয়ে বেশি শব্দ গৃহীত হয়েছে ফরাসি ভাষা থেকে। ধর্ম পালন, কোর্ট-কাচারি ও দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমরা ফারসি শব্দ ব্যবহার করছি।'

ফারসি ছাড়াও ইংরেজিতে মহীবুল আজিজের দখল রয়েছে। বাংলা ভাষার বিদগ্ধ শিক্ষক হয়েও ইংরেজিতে তিনি পারঙ্গম। যে কারণে অনুবাদে তিনি সিদ্ধহস্ত।

দূরপ্রান্তের চট্টগ্রামে অবস্থানকারী মেধাবী-লেখক মহীবুল আজিজ বিশ্ববরেণ্য ইতালো ক্যালভিনোর অসাধারণ গল্পগুলোর অনবদ্য অনুবাদ করেছেন।

ইতালো ক্যালভিনো হলেন সেই লেখক, যাকে চিহ্ণিত করা হয়, ‘লেখালেখির কাঠবেড়ালি’ নামে। কারণ, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও মননশীলতাকে অকাতরে ঢেলে দিয়ে অকল্পনীয় সৃজনী ক্ষমতা দেখাতে ক্যালভিনোর মতো খুব কম লেখকই পেরেছেন। তিনি মানব অনুভূতির অতলে ডুব দিয়ে তুলে এনেছেন অদেখা মানবিক বোধ ও অনুভবের জগৎ। সমাজ ও মানুষের এমন কিছু প্রপঞ্চ ক্যালভিনো এঁকেছেন, যা তিনি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে প্রায়-অসম্ভব। সেই মণিকাঞ্চন বাংলা ভাষার পাঠকদের সামনে উপস্থাপনের কৃতিত্ব মহীবুল আজিজের।

মহীবুল আজিজ জানান, কিউবার সান্তিয়াগো শহরের দ্য লাসভেগাসে ইতালো ক্যালভিনোর জন্ম ১৯২৩ সালের ১৫ অক্টোবর। আর মৃত্যু ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ সালে। কৃষিবিদ পিতার সঙ্গে তিনি নিজের দেশ ছাড়াও তাবৎ দক্ষিণ আমেরিকা চষে বেড়িয়েছেন। উদ্ভিদ বিজ্ঞানি মায়ের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন প্রাণবৈচিত্র্যের নিখুঁত পরিচয়। দুজনের প্রভাব তাঁর গল্পে স্পষ্ট। তিনি কৃষি ও বনানীময় মানুষের কথাগুলোকেই বলেছেন চরম অভিনব চমকের মাধ্যমে। গল্পের বুনন ও আঙিকের দিক থেকে তিনি তাঁর অসাধারণ পটুত্ব দিয়ে এখনো মাতিয়ে রেখেছেন বিশ্ব কথাসাহিত্যের পুরো দুনিয়াটিকেই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্যালভিনো ছিলেন ইতালির তুরিনে। ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের বিরোধিতায় তথন তিনি সমাজতন্ত্রের দিকে মনোদার্শনিকভাবে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের দশ বছরের মাথায়, ১৯৫৭ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক হাঙ্গেরিতে আগ্রাসনের প্রতিবাদে তিনি দল ছেড়ে দেন এবং নিজের লেখালেখির অঙ্গনেই স্থিত হন।

পূর্ণকালীন লেখক জীবনে ক্যালভিনো তিনটি উপন্যাস ও অসংখ্য ছোট গল্প রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টির মধ্যে দ্য ক্রো কামস লাস্ট, দ্য ব্যরন ইন দ্য ট্রিজ, কসমিকোমিকস, দ্য হোয়াইট সুনার, দ্য ইয়ুথ ইন তারিন অন্যতম। জীবন পরিচালনার জন্য মাঝে মাঝে সাংবাদিকতার পেশা গ্রহণকারী ক্যালভিনোর অভিনবত্ব দেখানোর জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। একটি গল্প তিনি শুরু করেছেন এভাবে: ‘একটি শহর ছিল, যেখানে সবাই নিষিদ্ধ। শুধু একটি বিষয় নিষিদ্ধ ছিল না, আর তা হলো ডাঙ্গুলি। ফলে সবাই শহরের পেছনের বড় মাঠে জড়ো হতো। আর দিন পার করে দিত ডাঙ্গুলি খেলেই।’

চমৎকার রূপক আর চিত্রকল্প দিয়ে ক্যালভিনো একটি অবরুদ্ধ জনপদকে কয়েক লাইনেই বুঝিয়ে দিতেন। এমন উদাহরণ একটি নয়, অসংখ্য রয়েছে তাঁর আখ্যানের ভাঁজে ভাঁজে। বাংলা ভাষার পাঠক তাঁর গল্পের হাত ধরে শিহরণ জাগানো জগতের সন্ধানে ছুটে যাবেন। অনাস্বাদিত বিষয়ের আনন্দ পাবেন।

মহীবুল আজিজ ঝরঝরে ভাষায়, গভীর তথ্য বিন্যাসে অনুবাদের সঙ্গে ক্যালভিনোর যে জীবনালেখ্য দিয়েছেন, সেটি নিঃসন্দেহে একটি মূল্যবান পাওনা। ক্যালভিনোর এমন গল্পগুলোকেই তিনি অনুবাদের জন্য বেছে নিয়েছেন, যা সমাজের অনেক লুকনো ক্ষতকে উন্মোচিত করে এবং ঘুঁনে ধরা সমাজের পাটাতন ধরে তীব্র নাড়া দেয়। ‘গ্রন্থাকারে এক জেনারেল’, ‘একটা কিছু কর’, ‘বিড়াল এবং পুলিশ’, ‘বিবেক’, ‘শত্রুর চোখ’, ‘আকাশমুখো নৃগোষ্ঠি’ ইত্যাদি গল্পে স্বাধীনতা, মানবিকতা, নৈতিক স্বাতন্ত্রিকতার অমল মাত্রায় ক্যালভিনো ব্যক্তিসত্তার অচলায়তন ভেঙে মুক্তির দরোজায় কড়া নাড়িয়েছেন।

মহীবুল আজিজের মতে, উত্তরাধুনিক বা বিশ্বায়নের মানুষের একক ও সার্বভৌম জাগৃতির গান ক্যালভিনোর গল্পের অন্তর্গত মূলস্রোত। প্রথা, প্রতিষ্ঠা, দর্শনের নামে মানবসত্তার বন্দিত্বকে অস্বীকার করে মানবমুক্তির অলংকারে পরিণত করার কৃতিত্বের জন্যে ক্যালভিনোর গল্পগুলো পাঠকের মনের গভীরে অমোচনীয় দাগ রেখে যায়।

মহীবুল আজিজ বলেন, শুধু নিজের জন্মদিনেই নয়, প্রতিটি দিনই আমি নিজস্ব লেখার নিভৃতিতে কাটাই, যেখানে ক্যালভিনো, চিনুয়া আবেচে, আর. কে. নারায়ণ থাকেন সরব উপস্থিতিতে, যাদের কাউকে কাউকে আমি পেয়েছিলাম ক্যামব্রিজে অবস্থানকালীন দিনগুলোতে। 'বর্ণ সন্তান' উপন্যাসে আমি বিলাতে দেখা সুপ্ত রেসিজম আর বাঙালি ডায়াসপোরাকে তুলে এনেছি। আমাদের এক্সোডাসে আখ্যান বিশ্বায়নের এ যুগেও আমরা ছেঁকে বের করতে পারনি, অথচ স্থানীয় সমাজের মতোই বৈশ্বিক বাঙালি সমাজ আমাদের নিরীক্ষা ও মনোযোগ দাবি করে।

মহীবুল আজিজ বিশ্বাস করেন, এক জীবনের মহার্ঘ আয়োজনে একজন মানুষের জন্য কণা পরিমাণ সময়ও অলসতা বা হতাশায় অপচয় করা শুধু ভয়ঙ্কর অপরাধই নয়, মারাত্মক পাপ। আমাদেরকে আমাদের কাজের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেই জীবন কাটাতে হবে। একমাত্র কাজের তুল্যমূল্যের নিরিখেই প্রতিপন্ন হবে একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা।

ড. মাহফুজ পারভেজ: কন্টিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম

আপনার মতামত লিখুন :

রাধাকৃষ্ণকে নিয়ে নবাবের নৃত্যনাট্য 'রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’

রাধাকৃষ্ণকে নিয়ে নবাবের নৃত্যনাট্য 'রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’
রাধা-কৃষ্ণ/ ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ভারতের এক নবাবের হাতে রচিত হয়েছিল কৃষ্ণচরিতের অনবদ্য শৈল্পিক রূপ। রাধা-কৃষ্ণকে নিয়ে নবাবের সেই ঐতিহাসিক নৃত্যনাট্যের নাম ছিল 'রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’, যার রচয়িতা ও নির্দেশক ছিলেন নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ।

অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ রাজধানী লক্ষ্ণৌকে সাজিয়ে ছিলেন শিল্প ও সাহিত্যের রাজধানীর বর্ণিল সাজে। তখন দিল্লির মুঘল সাম্রাজ্যের পতন কাল। সবার নজর উত্তর ভারতের লক্ষ্ণৌ কেন্দ্রিক রমরমা শাসকের দিকে।

শান-শওকত, নাট্য, গীত, আমোদ, প্রমোদ, নির্মাণের প্রাচুর্যে লক্ষ্ণৌ তখন ভরপুর। শিল্পপ্রেমী নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের নজরে এলো কৃষ্ণের উপাখ্যান। তিনি সেই কাহিনির রূপান্তর করলেন নাটকে, সঙ্গে যুক্ত করলেন গীতিআলেখ্য ও নৃত্যকলা। পুরো নাটকটি রচিত হয় উপমহাদেশের মধ্যযুগীয় ঋপদী ভাষা উর্দুতে।

উত্তর ভারতের বৃন্দাবনে যমুনা নদীর তীর, সেখানে রাধা এবং অন্যান্য গোপিনীদের সঙ্গে কৃষ্ণের লীলাখেলা ছিল, নবাব পছন্দ করলেন সেই প্রেমময় আখ্যান। যদিও ওয়াজিদ আলি শাহ তখন আনুষ্ঠানিক ভাবে নবাব হননি, তখন তিনি তার ভাই সিকান্দর হাসমতের সম্মানে এক জলসায় মঞ্চস্থ করেন নিজের লেখা গীতিনাটক ‘রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’।

পণ্ডিতরা এটিকেই প্রথম আধুনিক উর্দু নাটক বলে চিহ্নিত করে থাকেন। রাধাকৃষ্ণকে নিয়ে এটি ছিল একটি নৃত্যনাট্য। এই ধরনের নাটকগুলিকে ‘রহস’ও বলা হয়ে থাকে।

কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন যে কৃষ্ণের জন্ম হয়, তা হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে জন্মাষ্টমী উৎসব রূপে উদযাপিত। নবাবের নাটকে কৃষ্ণজীবনের অসামান্য উদ্ভাসন ঘটেছে। কৃষ্ণের আবির্ভাবের ঘোরতর সংকুল পরিস্থিতিতে প্রেমাবেগের ছটা বিচ্ছুরিত হয় নাটকের পুরোটা জুড়ে। আখ্যানে তখন ছিল দ্বাপর যুগের শেষ পর্যায়। সে সময় এক কৃষ্ণপক্ষের অষ্টম তিথির মধ্যরাতে মথুরার রাজা কংসের কারাগারে জন্ম নেন শ্রীকৃষ্ণ। ঐতিহাসিক মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দি দেবকীর কোলে জন্ম নিয়ে কৃষ্ণ হয়েছিলেন শুভবোধের প্রতীক। তার প্রেমদীপ্ত জীবন সাহিত্যের নানা অঙ্গনকেও স্পর্শ করে।

শিল্পমনস্ক নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ ছিলেন রাজনৈতিকভাবে দুর্ভাগ্যগ্রস্ত। আগ্রাসী ঔপনিবেশিক ইংরেজ ততদিনে বাংলা দখল করে দিল্লিও পদানত করেছে। শত শত বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সভ্যতার মহানগর দিল্লিকে লুটপাটের মাধ্যমে ইংরেজরা পরিণত করে মৃতের শহরে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566575897079.jpg
নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ/ ছবি: সংগৃহীত

 

শেষ মুঘল সম্রাট ও বিশিষ্ট কবি বাহাদুর শাহ জাফরকে বন্দি করে নির্বাসন দেওয়া হয় বার্মার রেঙ্গুনে। প্রসিদ্ধ কবি জওক, গালিব প্রমুখ ঘরছাড়া হয়ে পথে পথে ঘুরতে থাকেন।

ইংরেজ তারপর অযোধ্যায় দখল কায়েম করে। গান, বাজনা, গজলের নগরী লক্ষ্ণৌকে দখলদাররা রূপান্তরিত করে প্রেতপুরীতে। লক্ষ্ণৌর মার্জিত ও শিল্পী নবাব ওয়াজিদ আলি শাহকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে হটিয়ে বন্দি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতায়। নবাবকে সপরিবারে অন্তরীণ করে রাখা হয় কলকাতার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের বন্দর এলাকা মেটিয়াবুরুজে।

লক্ষ্ণেী ছেড়ে নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ কলকাতার মেটিয়াবুরুজে আসেন ১৮৫৬ সালের মে মাসে। নতুন শহরে এসেও নবাব শিল্পচর্চা থেকে বিরত থাকেননি। বন্দি ও অবরুদ্ধ জীবনকেও তিনি রাঙিয়ে তুলেন শিল্পের বহুবিধ উপাচারে। আদি কলকাতার সাংস্কৃতিক ভূগোলে নক্ষত্রের উজ্জ্বলতায় আবির্ভূত হন তিনি।

কলকাতায় নবাব জলসা, গান ও গজলের সঙ্গে নিয়ে আসেন ঋপদ সঙ্গীত। বিরিয়ানির প্রচলন আর সাংস্কৃতিক আসরের আয়োজন করে তিনি তার অবরুদ্ধ জীবনেও পরিণত হন কলকাতার কালচারাল আইকনে।

কলকাতার মেটিয়াবুরুজেও বহুবার ‘রাধা কানহাইয়া কা কিসসা’ মঞ্চস্থ হয়েছে ওয়াজেদ আলি শাহের উদ্যোগেই। তবে কলকাতায় মঞ্চস্থের সময় অবশ্য নাটকটির আঙ্গিকে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে গেছে। উত্তর ভারতের পটভূমি ও আবহের সঙ্গে মিশেছে বাংলার কিছু অনুষঙ্গ।

কলকাতার উপান্তের মেটিয়াবুরুজে অবস্থিত ওয়াজেদ আলি শাহের দরবারের শিল্প-সাহিত্যের চর্চা সমৃদ্ধ করেছিল কলকাতা তথা অবিভক্ত বাংলার সংস্কৃতিকে। উত্তর ভারতের চরিত্র কৃষ্ণকে তিনি শৈল্পিক বিন্যাসে নিয়ে আসেন কলকাতার আবহে। কৃষ্ণ জন্মের স্মৃতিতে পালিত জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণচরিতের নাট্যরূপদাতা মেটিয়াবুরুজের নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের শৈল্পিক অবদানও দোলা দিয়ে যায় ভক্ত ও বোদ্ধাদের মনে।

ছড়ার পাড়ে দোল খায় অপরূপ কাশফুল

ছড়ার পাড়ে দোল খায় অপরূপ কাশফুল
জলারধারে মেতে উঠেছে কাশফুল।

বর্ষাকে বিদায় দিয়ে প্রকৃতিতে এখন চলছে শরতের দাপট। শরতকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক। শিউলি ফুল, স্বচ্ছ আকাশ, মায়াবী জ্যোৎস্নার কারণেই এমন নাম হয়েছে। তবে এর মধ্যে অন্যতম কাশফুল। আর শরতকে স্বাগত জানাতে সবুজের মাঝে মেতে উঠেছে কাশফুল।

পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই সংলগ্ন ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড়ে দোল খায় শুভ্র কাশফুল। প্রাকৃতিক নিয়মেই সেখানে জন্মেছে কাশফুল। আর এই নজরকাড়া কাশফুলের সৌন্দর্যের কাছে ছুটে যাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকরা।

কাশফুলের শুভ্র আভা ও দৃষ্টিনন্দন রূপ যে কারও নজর কাড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর শরৎ ঋতু মানেই আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা ও কাশের বনে সাদা কাশের অপরূপ মেলা। শরৎ ঋতুর আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতিকে আরও মায়াবী রূপে সাজাতে কাশফুল যেন বিন্দুমাত্র কাপর্ণ্য করে না।

শরতকে বলা হয় ‘ঋতুর রাণী’। বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে শরতের আগমন মানেই অন্যরকম মুগ্ধতা। শরৎ নিয়ে কবিতা, গান গল্পের শেষ নেই। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় শরতের রুপ নিয়ে বলেছেন:

‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি/ছড়িয়ে গেল ছাড়িয়ে মোহন অঙ্গগুলি।

শরৎ তোমার শিশির ধোওয়া কুন্তলে/বনের পথে লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে

আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি’

বৃহস্পতিবার বিকালে ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড়ে কাশফুল দেখতে আসে মুন্নি, নাহাদ, সোয়েব, জেরিন, ফাতেমাসহ বেশ কয়েকজন। তারা জানান, রাস্তা থেকে কাশফুলের সৌন্দর্য ভালো দেখা যায়। এতো সুন্দর অপরূপ দৃশ্য না দেখলে আপসোস থেকে যাবে। তাই গাড়ি থেকে নেমে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসলাম।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। প্রতিবছরই এখানে কাশফুল ফোঁটে। প্রতিবছরই আমরা এখানে আসি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566533649610.gif

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা মো. আদনান আসিফ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘চা বাগানের ফাঁকে ছড়ার পাশে দু’দিকে এতো সুন্দর সাদা কাশফুলো মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়েছে। সেই সৌন্দর্য দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ।’

জানা গেছে, কাশফুলের ইংরেজি নাম Kans Grass ও উদ্ভিদতাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক নাম- Saccharum Sportaneum। এটি ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। কাশফুলের মঞ্জুরি দণ্ড ১৫-৩০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে, বীজে সূক্ষ্ম সাদা লোম থাকে।

কাশ উদ্ভিদ প্রজাতির, উচ্চতায় ৩-১৫ মিটার লম্বা হয়। আর এর শেকড় গুচ্ছমূল থাকে। পাতা রুক্ষ ও সোজা। পালকের মতো নরম এর সাদা সাদা ফুল। কাশ ফুল শুভ্রতার অর্থেও ভয় দূর করে শান্তির বার্তা বয়ে আনে। আর এ জন্যই শুভ কাজে ব্যবহার করা হয় কাশফুলের পাতা বা ফুল।

কাশ বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফুলের মধ্যে একটি। একটি ঘাস তার ফুল দিয়ে আমাদের মন জয় করে নিয়েছে। আমাদের শিখিয়েছে কোমলতা ও সরলতা। পৃথিবীতে কোনো ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের ফুলের এত কদর এবং মানুষের জয় করে নেওয়ার এই আবেদন আছে কিনা- সেটা জানা নেই। বাংলা সাহিত্যে এ ফুলের উপস্থিতিও ব্যাপক।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র