Alexa

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্কুল

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্কুল

শত বছর পেরিয়ে গেছে এই আজিম উদ্দিন স্কুলের/ ছবি: বার্তা২৪.কম

কিশোরগঞ্জ থেকে ফিরে: কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে বিশাল মাঠ ও বৃক্ষশোভিত দৃষ্টিনন্দন আজিম উদ্দিন স্কুল। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মেহেরপুরের মুজিবনগরে গঠিত মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম পড়েছেন এই স্কুলে।

১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে মহীরুহের মতো বিদ্যালয়টির। এই বিদ্যালয়ের মাঠে ছুটে বেড়ানো শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশ ও দেশের বাইরে তাদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। প্রতিদিনই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হচ্ছে সোনালি পালক।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে এই স্কুলের। তৎকালীন মেজর এম. শফিউল্লাহর নেতৃত্বে এক প্লাটুন সেনাবাহিনী এখানে অবস্থান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বহু লোকজনকে প্রশিক্ষণ দেয়।

স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মতিয়ুর রহমানের পুত্র ও প্রতিষ্ঠানের কৃতি ছাত্র আতিকুর রহমান ভৈরবে পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক আফতাব উদ্দিন মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন।

শতবর্ষ পূর্বে কিশোরগঞ্জে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকল্পে দানবীর মুন্সী আজিম উদ্দিন আহাম্মদ নগদ বিশ হাজার টাকা দান করেন এবং ঐ টাকায় চার একর ৬২ শতাংশ জমি স্কুলের নামে ক্রয় করে উক্ত জমিতে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালীন সময়ে পিছিয়ে থাকা মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মুন্সী আজিম উদ্দিন আহাম্মদ প্রথমে শহরতলীর সাঁতারপুরে, তারপর অত্র বিদ্যালয়টি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555487880708.gif
শতবর্ষী স্কুলের কৃতি তিন ছাত্র, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হীরণ চন্দ্র গোস্বামী। পরে বাবু বসন্ত কুমার চক্রবর্তী বিদ্যালয়ের হাল ধরেন। তার সময় ১৯২২ সালে বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র রেবতী মোহন বর্মণ অবিভক্ত বাংলায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এন্ট্রান্স পরিক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।

স্কুলের কৃতি ছাত্রদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. ওসমান গনি (তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরও ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন), বাংলা তথা ভারতের নন্দিত ফুটবলার চুনী গোস্বামী, নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন, কবি আবিদ আজাদ অন্যতম।

আজিমউদ্দিন স্কুল পরবর্তীতে অনেক চড়াই উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে। এই অবস্থায় বিদ্যালয়টির অগ্রগতি ব্যাহত হলে ১ জানুয়ারি ১৯৫১ সালে ত্রাতার ভূমিকা নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মোঃ মতিউর রহমান। যাঁর হাতের ছোঁয়ায় বিদ্যালয়টি প্রাণ ফিরে পায় নতুন করে। যাকে বলা হয় আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের আধুনিক রূপকার। তিনি কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি ও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে এক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করেন।

স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন শোকরানা নিজেও একজন শিক্ষকের সন্তান এবং একাধিকবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। তিনি বলেন, 'শতবর্ষী স্কুলের শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ঐতিহ্য রক্ষার্থে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্ব প্রদর্শন করে স্কুলের সুনাম বৃদ্ধি করছে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555487835268.gif
ঐতিহ্যবাহী স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন শোকরানা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

 

বর্তমানে স্থানীয় সমাজসেবক-রাজনীতিবিদ আমিনুল ইসলাম আশফাকের সভাপতিত্বে একটি নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :