Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

একজন ডা. শেখ মহিউদ্দিন

একজন ডা. শেখ মহিউদ্দিন
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার রফিকুল হকের হুইল চেয়ারটি নিজে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন/ ছবি: বার্তা২৪.কম
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অনেক শিল্পপতির আগমনে সেই অফিস-কারখানার কর্মচারীদের চলাচল সীমিত করা হয়। কেউ কেউ আছেন প্রটোকল পেতে ভালোবাসেন। তারা যতক্ষণ যে কম্পাউন্ডে অবস্থান করবেন এমনকি যে করিডোরে হাঁটা-চলা করবেন সে সব এলাকায় সেই অফিসের স্টাফদের চলাচলও সীমিত করার নজির অহরহ।

মালিক যখন হাজির হবেন, তাকে রিসিভ করার জন্য মূল ফটকে প্রথম সারির কর্তারা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকবেন। অনেকেই মালিকের উপস্থিতিতে হাত ঘষতে ঘষতে তালুর চামড়া তুলে ফেলেন। এটা এখন অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। একই দৃশ্য চোখে পড়বে মন্ত্রী কিংবা সরকারি বড় কর্তার পরিদর্শনেও।

কিন্তু আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক উল হক হাসপাতালে যা দেখলাম তা যেনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করার মতো নয়। হাসপাতালটির পরিচালকের সঙ্গে কথা বলছিলাম, পরিচালক কথার এক ফাঁকে বললেন, ‘আমি যে বেশি সময় দিতে পারছি না আমাদের নির্বাহী পরিচালক স্যার এসেছেন।’

কথা শেষে তার সঙ্গে বের হলে সামনের করিডোরে দেখা মেলে নির্বাহী পরিচালক বিশিষ্ট শিল্পপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিনের। যার হাতেই শ্রীবৃদ্ধি হচ্ছে দেশের আলোচিত আটটি হাসপাতাল, চারটি মেডিকেল কলেজ, আকিজ বেকারি, আকিজ বিড়ি, আকিজ মাদার কেয়ার, আকিজ ফার্মাসিউটিক্যাল ও আকিজ কলেজিয়েট স্কুলসহ অনেক খ্যতনামা প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু কী অসাধারণ, তাকে যেনো কেউ গায়ে মাখছেন না। যে যার কাজে নিমগ্ন। এমনকি যে ক্লিনারটি করিডোর মোছার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তিনিও তার কাজ চালিয়ে গেলেন আপন মনে। অনেক সময় দেখানোর জন্য যত্নসহকারে কাজ করে থাকেন অনেকে। এখানে কিন্তু তেমনটা লক্ষণীয় নয়। ভাবটা এমন যেনো তিনি মালিককে চিনতেই পারলেন না। একেবারেই স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে থাকলেন। আর ১০টা রোগিকে যেভাবে এড়িয়ে চলেন।

এখানে বলে রাখা আবশ্যক, আদ্-দ্বীনের হাসপাতালগুলোতে খালি পায়ে হাঁটার ব্যবস্থা রয়েছে। সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এ জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। একদল কর্মী রয়েছে যারা মব হাতে সার্বাক্ষণিক চক্কর দিতে থাকেন। এখানেও কর্মীটি আপনমনে কাজ চালিয়ে গেলেন।

ঘুরে ঘুরে কয়েকটি বিভাগে গেলেন, কিন্তু রোগিদের বুঝবার কোনো জোঁ নেই হাসপাতালটির খোদ মালিক এসেছেন দেখতে। তার এই আগমনের হেতু হচ্ছে নাক-কান-গলা রোগিদের ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/19/1550553357398.jpg

মিনিট বিশেক পরে শুরু হলো সেই অনুষ্ঠান। সেখানে নিজে গিয়ে বসলেন দর্শক সারিতে। আর তারই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তাদের বসিয়ে দিলেন মঞ্চে ভিআইপি আসনে। আলোচনায় অংশ নিলেন দর্শক সারি থেকেই উঠে গিয়েই। কোরআন তেলাওয়াত করলেন অনুষ্ঠানের শুরুতে, তাফসীর ও শানে নযুলসহ।

অতিথি বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যরিস্টার রফিক উল হকের হুইল চেয়ারটি নিজে ঠেলে নিয়ে গেলেন ফিতা কাঁটার জন্য। এখনকার দিনে বিষয়টি অনেকটা অবাক করার মতো। অন্তত তার মতো সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেওয়াদের কাছে তো নয়ই। তিনি যেন একবারে অন্য ধাঁচের। না আছে নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি, না আছে প্রটোকলের বাহুল্যতা।

আর অবাক হতে হলো আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের ডিজিএম (প্রশাসন) তারিকুল ইসলাম মুকুলের সঙ্গে আলাপ করে। তিনি বললেন, ‘স্যার এমনই। সাধারণত কখনই মঞ্চে বসেন না। ওনি এখনও অনেক সময়ে নিজে হাতে হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন করার মেশিন চালান। মেঝেতে টিস্যু কিংবা কাগজ পড়ে থাকতে দেখলে নিজে কুঁড়িয়ে ফেলে দেন।’

শেখ মহিউদ্দিনের সহধর্মিনী ডা. মাহফুজা জেসমিন যেন আরও একধাপ এগিয়ে। বলা চলে সৃষ্টিকর্তার অপার জুটি। হাসপাতালটির উপ-পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তারও কোনো আড়ম্বর নেই। নেই পোশাকের বাহারি প্রদর্শন। তিনিও দর্শক সারিতে বসেই অনুষ্ঠান উপভোগ করলেন। তিনি যে মালিকের সহধর্মিনী তার চাল চলনে বুঝবার কোনো উপায় নেই। আমারও বুঝতে সময় লেগেছে অনেকটা।

অনুষ্ঠানের আগে শেখ মহিউদ্দিনের চেম্বারে বসে কথা হয়। সেখানেও নেই কোনো বাহারি জৌলুস। যেন একজন নিরীহ সাধারণ ডাক্তার। আর দশটা ডাক্তার আর তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনিও তাদেরই একজন। কর্মীদের অবাধ যাতায়াত তার কক্ষে।

স্লোগান হচ্ছে সাশ্রয়ী মুল্যে উন্নত চিকিৎসা। আর সার কথা হচ্ছে টাকার জন্য যেন কেউ বিনা চিকিৎসায় না মারা যান। অর্থাৎ দরিদ্র রোগীদের জন্য সব সময়েই রয়েছে বিশেষ সুযোগ। দেশের একমাত্র বেসরকারি হাসতাপাল, যারা সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। ২০০৩ সাল থেকে এ যাবত ৭০ হাজার রোগীর ফ্রি চোখের ছানি অপারেশন করেছে। খুলনা, যশোর অঞ্চলে গর্ভবতী মহিলাদের ফ্রি চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সিজার যখন ট্রেডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নরমাল ডেলিভারির রেকর্ড গড়েছে। সিজারে আগ্রহীদের কনসালটেশনের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারি করানো হচ্ছে।

ঢাকা সিটিতে মাত্র ৩৫০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা। নিরক্ষর হতদরিদ্রদের হাতের লেখা শিখিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দিয়ে নতুন নজির গড়েছেন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। সারা বছরেই থাকে নানা রকম ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা।

পেশাগত কারণে বাংলাদেশ ও দেশের সীমানার বাইরেও বড় বড় শিল্পপতিদের খুব কাছ থেকে দেখার জানার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু আকিজ পরিবারের এই সদস্য যেনো পুরোপুরি অন্য মাপের। অর্থ, প্রতিপত্তি, তার পায়ে লুটোপুটি খেলেও তাকে ছুঁতে পারেনি। উচ্চ শিক্ষা তাকে বিনয়ী আরও মানবিক আরও সাধারণ ও অনন্য করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব
হাইকোর্ট

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এই তিনজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ জলুাই তাদের শরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন না করায় একটি সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ তলবের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে হাইকোর্ট তিতাসের কর্মচারী নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা অনুসরণ না করায় আদালত সম্পূরক আবেদন করেন। আদালতের আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিতাসে ৭৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও চূড়ান্ত ফলে তাদের বাদ দেওয়া হয়। কোটা অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে মো. রেজাউল করিমসহ ৮ জন ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর রিট দায়ের করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ৬৩ জনকে নিয়োগ দেয় তিতাস। গত ২ এপ্রিল আরো ১৭ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ রিট আবেদকারীরা হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন।

এই আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে তলবের আদেশ দেন।

আদালতে তিতাসের আইনজীবী জানান, ৩০ শতাংশ  কোটা সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ। রিটের আইনজীবীরা তার এই বক্তব্যে আপত্তি জানান। 

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!
নারীশ্রমে প্রাণ পেলো মৃত নদী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সম্ভাব্য পানি সংকটের পদধ্বনিতে আশাবাদী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দেশটির নারীশক্তি। মৃতপ্রায় নদী বাঁচাতে ২০০০০ মহিলা নিরলস প্রচেষ্টা চালালেন দীর্ঘ চার বছর। নারীশ্রমে নবপ্রাণ পেয়ে বাঁচলো নদী।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য  দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের যে ভেলোর পরিচিত, সেখানে নাগানধি নদী পেলে নতুন জীবন। বহু মানুষও বেঁচে গেলেন তীব্র পানিকষ্ট থেকে।

তামিলনাড়ুর যে ২৪টি জেলা খরাপ্রবণ, তার মধ্যে অন্যতম ভেলোর। এই ভেলোরের মানুষদের কাছে বেঁচে থাকার, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির উৎস ছিল একমাত্র এই নাগানধি।

কিন্তু ১৫ বছর আগে এই নদীটি শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে যায়। নারীশ্রম মৃত নদীকে নবজন্ম দিয়েছে। ফলে মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষি সম্ভাব্য ক্ষয় থেকে রক্ষা পেয়েছে।

দক্ষিণ ভারত থেকে শত মাইল দূরে ভারতের উত্তর দিকেও একই ছবি দেখা গেছে। উত্তরাখণ্ডের পউরি গাড়ওয়ালের প্রায় ১০০ জন গ্রামবাসী ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে নানা মাপের রিজ়ার্ভার তৈরি করছেন। পানির স্বল্পতার কবল থেকে বাঁচতে স্বেচ্ছা শ্রম ও স্বেচ্ছা প্রণোদনায় এগিয়ে এসেছেন মানুষ। যে মানুষের মধ্যে অগ্রণী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেন গ্রামের নারীরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বার বার জানাচ্ছে যে, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের বড় বড় অনেক শহরই চরম পানি সংকটের মুখোমুখি হবে। এরই মাঝে চেন্নাই প্রভৃতি শহরে পানি স্বল্পতা ও সংকটের আঁচ পড়েছে।

আরও পড়ুন: চেন্নাইয়ে পানির তীব্র সংকট

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামেও যে পানির ভয়াবহ সংকট হাতছানি দিচ্ছে, তা সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্টভাবে চিত্রিত হয় নদী উদ্ধারের এই ঘটনাগুলো থেকেই। ভেলোরের ক্ষেত্রে ২০ হাজার মহিলার ৪ বছরের প্রচেষ্টায় ১৫ বছর আগে শুকিয়ে যাওয়া নাগানধি নদীকে আবারও স্রোতস্বিনী করা প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহু গ্রামে পানির জন্য রিজার্ভার, কুয়া, জলাধার তৈরি করছে মানুষ, যাতে প্রচুর নুড়ি পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। 

‘নাগানধি বাঁচাও’ প্রকল্পের ডিরেক্টর চন্দ্রশেখরণ কুপ্পান বলছেন, 'কোনও নদীকে পুনরায় বাঁচিয়ে তোলার জন্য শুধু তার বহমানতার দিকে নজর দিতে হয়, তা নয়।  নদীর গভীরতাও যাতে ঠিক থাকে সেদিকেও নজর দিতে হয়।  এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিও যাতে মাটি শুষে নিয়ে জমিয়ে রাখে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  তাই বৃষ্টি হলে সেটা এজাতীয় নদীর ক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়। '

উল্লেখ্য, নদীটি মৃতপ্রায় হলে ভেলোরের অর্ধেকের বেশি কৃষক পানির অভাবে গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে থাকেন। কারণ তারা চাষের জন্য পানি পাননি দীর্ঘদিন। নদী নতুন জীবন পাওয়ায় বেঁচেছে জনপদ, কৃষি ও কৃষক।

ভেলোরের আগে দক্ষিণ ভারতের আরেক জায়গায় একই সংকট ঘণীভূত হয়েছিল। কর্ণাটকের বেদবতী এবং কুমুদবতী নামে দুটি নদীও সংস্কারের অভাবে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। দুটি নদীকেই স্বেচ্ছাশ্রমে পুনরায় নাব্যতা দিয়েছিলেন স্থানীয় মানুষ, যাদের সিংহভাগ ছিলেন গ্রামীণ নারী।

পানি সংকটের সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাঁচতে ভারতীয় গ্রামের নারীরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। তারা গ্রামে গ্রামে রিজার্ভার বা কুয়া বানাচ্ছেন। দক্ষিণ ভারতের কান্যায়মবাদি ব্লকের সালামানাথাম গ্রামের একজন নারী একাই প্রায় ৩৬ টা কুয়া খুঁড়েছেন।   

উত্তর ভারতেও এমন ঘটনা ঘটছে। সেখানে পউরি গাড়ওয়ালের ১৩ বছরের ছাত্রী দীপা রাওয়াত এবং তার বন্ধু স্কুল শেষে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য রিজ়ার্ভার তৈরি করতে মাটি খুঁড়ে চলে আজকাল।  সেখানকার সরকারি স্কুলগুলো প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকেই এই কাজে উৎসাহ দেয়।  বলা হয়েছে, এক একটি রিজ়ার্ভার যাতে অন্তত ২ ফুট গভীর হয় সেদিকে নজর দিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'শহরের পাশাপাশি গ্রামগুলোতে মানুষের সচেতন হওয়া খুব জরুরি এখনই। যাতে ভবিষ্যতের জন্য তারা পানি সঞ্চয় করে রাখতে পারেন। নইলে সমস্যা বাড়বে। কারণ গ্রামগুলো দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। জলের উৎসও কমছে। দিন দিন জল যত কমবে লোকজন চলে যাবেন এই এলাকা থেকে।  তাই গণ সচেতনতা ও অংশগ্রণ ছাড়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তির কোনও আশা নেই।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র