Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

তাহার জন্যে উপহার ‘অমূল্য’

তাহার জন্যে উপহার ‘অমূল্য’
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

কী এই ভালোবাসা? যে ভালোবাসার জন্যে, ভালোবাসা দিবসটি পালনের জন্য এতো আকুলতা, সেই ভালোবাসাটা আসলে কী? ভালোবাসা কি শুধুই কিছু অনুভূতি? ভালোলাগা, পছন্দ করা, প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে সময় কাটানো ও স্বপ্ন বোনা- এর মাঝেই কি ‘ভালোবাসা’র ব্যাপ্তি!

এখনকার ডিজিটাল সময়ে সবকিছুই বড় বেশি যান্ত্রিক ও মেকি হয়ে গেছে। ফেসবুক কিংবা ইন্সটাগ্রামের ইমোটিকনের মাঝেই আটকে গেছে ভালোবাসাগুলো। যে কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ভালোবাসার সরল অনুভূতিগুলো। আগেকার সময়ের সাদাসিধে ভালোবাসাগুলো এখন যেন খুঁজেই পাওয়া যায় না। ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গেও সম্পর্কটি কেমন ফরমাল হয়ে গিয়েছে। সবকিছুই বড় বেশি পরিমাপ করে ছাঁচে ফেলে নির্ণয় করা। অথচ হওয়ার কথা ছিল ঠিক তার উল্টোটি!

জানেন কি ভালোবাসার মানুষটিকে হাত ভর্তি উপহার কিংবা পঞ্চাশটি গোলাপের চাইতে বড় কিছু ‘উপহার’ দেওয়া যায় সারা বছর জুড়েই! যে উপহারগুলোর প্রতিটিই অবস্তুগত! যে উপহারগুলো অমূল্য। যে উপহারগুলোকে কোন মানদণ্ডেই পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

সময়

মোবাইলে কথা বলা, ম্যাসেঞ্জারে চ্যাট করা কিংবা ভিডিও কল নয়- পাশাপাশি বসে কিছুক্ষণ কথা বলার মাধ্যমে একে-অন্যকে সময় দেওয়ার বিষয়টি যতটা হেলা করা হবে, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তত বেশি সমস্যার দেখা দিবে। মোবাইল স্ক্রিনের অপর পাশে থাকা মানুষটার মনের খোঁজ কোনভাবেই বোঝা সম্ভব নয় মুখোমুখি দেখা না হলে। ব্যস্ততা থাকবেই, থাকবে দূরত্ব। থাকবে রাস্তার জ্যাম, বাসের অপর্যাপ্ততা। কিন্তু প্রশ্ন যেখানে ভালোবাসার মানুষটির, সেখানে নিশ্চয় এই বিষয়গুলো খুবই তুচ্ছ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550144702693.jpg

বিশ্বাস

যেকোন সম্পর্কের মাঝেই যদি বিশ্বাস না থাকে তবে যে সম্পর্কটি কোনভাবেই লম্বা সময় টিকে থাকতে পারবে না। আর প্রশ্ন যেখানে ভালোবাসার সম্পর্কের, সেখানে বিশ্বাসবিহীন সম্পর্ক গড়ে তোলা সময় নষ্ট ব্যতীত আর কিছুই নয়।

বোঝাপড়া

পারস্পরিক বোঝাপড়া বিশ্বাস কিংবা সময়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো বোঝাপড়া না থাকলে খুব সামান্য বিষয়েও বড় ধরণের সমস্যা তৈরি হতে পারে। যা পরবর্তীতে সম্পর্কের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়।

নির্ভরতা

আপনার পরম নির্ভরতার স্থানটি যদি প্রিয় মানুষটি না হন, তবে কে হবেন! ঠিক তেমনিভাবেই আপনার প্রিয় মানুষটির জন্য তাঁর পরম নির্ভরতার স্থানটি যেন আপনিই হন, তেমনভাবেই নিজেকে তার কাছে প্রকাশ করবেন, তুলে ধরবেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550144916233.jpg

সততা

সততার হাত ধরে আসবে বিশ্বাস স্থাপন। এক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কোন চান্স একেবারেই নেই। আপনি নিজের উপর, প্রিয় মানুষটার সঙ্গে এবং আপনাদের ভালোবাসার সম্পর্কে কতটা সৎ থাকবেন, সেটা সম্পূর্ণই আপনার উপর নির্ভরশীল।

সম্মান

আপনার প্রিয় মানুষটিকে কতটা সম্মান করেন? এমন প্রশ্নে খানিকটা হোঁচট খেলেও সত্যটি হচ্ছে, বিশ্বাস, বোঝাপড়ার মতো সম্মান করাও ভীষণ প্রয়োজন প্রিয় মানুষটিকে। শুধু ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়, যদি সেই ভালোবাসার সম্পর্কের মাঝে সম্মানের উপস্থিতি না থাকে।

বন্ধুত্ব

প্রিয় মানুষটির সঙ্গে আপনার সম্পর্কটি কেমন? উত্তরটি যাই হোক না কেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যদি না হয়ে থাকে তবে সম্পর্কের বিষয়ে একটু সিরিয়াস হতে হবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভালোবাসার সম্পর্কটিকে মজবুত করে দেয় অনেকখানি।

এগুলোই কিন্তু মহামূল্যবান অবস্তুগত উপহার। আদতে যতটা সহজ ও গৎবাঁধাই মনে হোক না কেন, এই বিষয়গুলোই একটি ভালোবাসার সম্পর্কের জন্য প্রয়োজনীয়, ভালোবাসার মানুষের কাছে ভীষণ কাঙ্ক্ষিত।

আপনার মতামত লিখুন :

টেনিসে সর্বকালের সেরা ফেদেরার-নাদাল-জোকোভিচ

টেনিসে সর্বকালের সেরা ফেদেরার-নাদাল-জোকোভিচ
সৌভাগ্যবান বর্তমান সময়ের টেনিসপ্রেমীরা, সর্বকালের সেরা তিন খেলোয়াড়কে একসাথে দেখতে পারছেন

রজার ফেদেরার। রাফায়েল নাদাল। নোভাক জোকোভিচ। আধুনিক টেনিসের ‘বিগ থ্রি’। এই তিনজনই যে পুরুষদের টেনিসে সর্বকালের সেরা তিনজন, তা নিয়ে খুব কম মানুষই দ্বিমত পোষণ করে। আর এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে তাঁদের পরিসংখ্যান। রজার ফেদেরার গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন ২০ বার, রাফায়েল নাদাল ১৮ বার ও নোভাক জোকোভিচ ১৫ বার। এই তিনজনের মিলিত গ্র্যান্ড স্লামের সংখ্যা ৫৩! বলাই বাহুল্য, তাদের মতো এত বেশি গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি কেউ জিততে পারেননি পুরুষদের টেনিসের ইতিহাসে। আর আজকের দিনের টেনিসামোদীরা নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান ভাবতেই পারেন—এই তিন কিংবদন্তি বর্তমানে, একই সময়ে খেলে চলেছেন বলে। সর্বকালের সেরা এই তিন খেলোয়াড়কে একসাথে দেখতে পারছেন বলে।

তারা যেসময় খেলছেন, সেই সময়ে গ্র্যান্ড স্লাম ছাড়াও অন্যান্য ট্রফিতেও এই ত্রয়ীর আধিপত্য প্রচণ্ড। বিভিন্ন মাস্টার টুর্নামেন্টের বেশিরভাগের শিরোপা যাচ্ছে এই তিনের ঝুলিতে। গত প্রায় ১৫ বছর ধরেই যেন এই ত্রয়ীর একাধিপত্য টেনিসে। এই দেড় দশক সময়কালে মেয়েদের টেনিস দেখেছে অনেক উত্থান-পতন। ফ্রেঞ্চ ওপেনে যেমন নাদাল, উইম্বলডনে যেমন ফেদেরার বা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে যেমন জোকোভিচ টানা শিরোপা জিতেছেন, মেয়েদের টেনিসে এমনটা দেখা যায়নি গত দেড় দশকে। গত দেড় দশকে এক সেরেনা উইলিয়ামস ছাড়া আর কোনো নারী টেনিস তারকাই সেভাবে টিকে থাকতে ও সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। তাও ফেদেরার, নাদাল ও জোকোভিচের মতো অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা নিয়ে নিজেকে তিনি ধরে রাখতে পেরেছেন খুব কমই। গত দশ বছরে প্রায় সব গ্র্যান্ড স্লামেই শিরোপা ঘুরেফিরে গিয়েছে এই ত্রয়ীর হাতে। মাঝে অ্যান্ডি মারে, স্টান ভাভরিঙ্কা ও মারিন চিলিচের মতো কেউ কেউ ৩-৪টি স্লাম শিরোপায় ভাগ বসালেও তারা ধরে রাখতে পারেননি তাদের এই সাফল্য। হতে পারেননি ধারাবাহিক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566289905892.jpg

একে অন্যের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক


২০১৭-এর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে ২০১৯-এর উইম্বলডন পর্যন্ত টানা ১১টি গ্র্যান্ড স্লাম ভাগ করে নিয়েছেন এই ত্রয়ী। জোকোভিচ জিতেছেন চারটি, নাদাল তিনটি আর ফেদেরার তিনটি। অথচ তাদের প্রত্যেকেই ত্রিশোর্ধ্ব। নেই তারুণ্যের মধ্যগগণে। ছেলেদের টেনিসে এই তিনজনের দীর্ঘদীনের সাফল্যের রহস্য কী?

প্রথমেই বলা যেতে পারে টেনিসের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা বা কমিটমেন্টের কথা। এই কমিটমেন্ট না থাকার কারণে অনেক পুরুষ টেনিস খেলোয়াড়ই লম্বা করতে পারেননি তাদের ক্যারিয়ার। তাদের প্রায় সমসাময়িক লেটন হিউয়িট, মারাত সাফিনরা প্রথমদিকে বেশ কিছু সাফল্য পেলেও, র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠলেও, তারা তা ধরে রাখতে পারেননি দীর্ঘদিন। ফেদেরারকে দেখলেই ব্যাপারটা অনেকটা বোঝা যায়। ৩৮ বছর বয়সে যেখানে সবাই অবসরের কথা ভাবে, সেখানে তিনি এখনো খেলে চলেছেন সমান দাপটে। জিতছেন শিরোপাও। ১৯৯৮ থেকে পেশাদার সার্কিটে খেলে চলেছেন তিনি। তবু, অচিরেই অবসরে যাবেন, এই ভাবনা তার এখনো নেই। একই ব্যাপার খেটে যায় নাদাল ও জোকোভিচের বেলায়। ৩৩ ও ৩২ বছর বয়সী এই দুজনও টেনিসকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে টিকে আছেন। ইনজুরির কারণে খেলা থেকে দূরে সরে থাকতে হয় তাদের মাঝেমাঝেই। বিশেষ করে, এই ক্ষেত্রে নাদালের কথা বলতে হয় আলাদা করে। ইনজুরির হানা তার ক্যারিয়ারে নিয়মিত একটা ঘটনা। এমনকি টুর্নামেন্ট চলাকালেও অনেক সময় আক্রান্ত হয়েছেন ইনজুরিতে। তবুও ফাইনালে উঠেছেন, যদিও হয়তো শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি শিরোপা। যেমন, ২০১৭-এর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে এই ঘটনাই ঘটেছিল তার সাথে। তেমনি জোকোভিচও মূলত ইনজুরির কারণে ২০১৬’র উইম্বলডন থেকে থেকে ২০১৮’র ফ্রেঞ্চ ওপেন পর্যন্ত পর্যন্ত জিততে পারেননি একটিও গ্র্যান্ড স্লাম। কিন্তু দুরন্ত প্রতাপে ফিরে এসে তিনি জিতে নিয়েছেন পরের পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লামের চারটিই। তাই, নিঃসন্দেহে তাদের সাফল্যের আরেকটি কারণ এই হার না মানা মনোভাব।

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সও তাদের সাফল্যের আরেকটি কারণ। কী হার্ড কোর্ট, কী ক্লে কোর্ট, কী গ্রাস কোর্ট—সবখানেই শিরোপা জিতেছেন এই ত্রয়ী। তাই, চার ধরনের গ্র্যান্ড স্লামই পকেটে আছে তাদের। যে নোভাক জোকোভিচ জিততে পারছিলেন না ফ্রেঞ্চ ওপেন, তিনিও ২০১৬ সালে তা জিতে দেখালেন। এরকম অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আছে টেনিস ইতিহাসের খুব কম খেলোয়াড়েরই। ফেদেরারের ফোরহ্যান্ড, নাদালের ব্যাকহ্যান্ড, জোকোভিচের গ্রাউন্ড স্ট্রোকের মতো অসাধারণ ক্রীড়াশৈলি, খুব কম টেনিস খেলোয়াড়ই দেখাতে পেরেছেন।

আসুন, এবার দেখা যাক গত দেড় যুগে এই তিন মহাতারকার অর্জনগুলো এবং করা যাক পারস্পারিক সাফল্যের একটা তুলনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566289973138.jpg
৩৮ বছর বয়সেও সমান দাপটে খেলে চলেছেন রজার ফেদেরার


ফেদেরারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ২০০৩ সালের উইম্বলডন জয়। অন্যদিকে নাদাল ২০০৪ সালে সর্বপ্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেও শিরোপা জেতেন ২০০৫ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনে। জোকোভিচ ২০০৩ সাল থেকে পেশাদার আন্তর্জাতিক টেনিসে বিচরণ করলেও প্রথম বড় সাফল্য তার হাতে ধরা দেয় ২০০৮ সালে। সেবছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তিনি প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতেন।

বিগত ১৫ বছরে টেনিসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী তিন টেনিস তারকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছেন রজার ফেদেরার। তিনি সর্বমোট ৯৮টি প্রতিযোগিতামূলক টেনিস শিরোপা জিতেছেন ও রানার্সআপ হয়েছেন আরো ৫১ বার। ফেদেরারের ৯৮টি টেনিস শিরোপার মধ্যে গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার সংখ্যা ২০টি। তিনি মোট ১০ বার পরাজিত হয়েছেন গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে। খেলোয়াড়ি জীবনের ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮টি জিতেছেন উইম্বলডনে। গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়াও মাস্টার্স শিরোপা প্রতিযোগিতায় ফেদেরার খেলেছেন ৪৭টি ফাইনাল, যার মধ্যে জিতেছেন ২৭টি ও হেরেছেন ২০ বার। এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর প্রতিযোগিতায় ১০ বার ফাইনাল খেলে জিতেছেন ৬ বার ও হেরেছেন ৪ বার। মাস্টার্স ও এটিপি ছাড়াও ফেদেরার ২০১৪ সালে খেলোয়াড়ি জীবনের একমাত্র ডেভিস কাপ জেতেন। সর্বমোট ফাইনাল খেলা ও শিরোপার সংখ্যার হিসেবে নাদাল ও জোকোভিচের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ফেদেরার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566290018405.jpg
অদম্য মানসিকতা বড় শক্তি নাদালের। বারবার ইনজুরিতে পড়েও ফিরে এসে জিতেছেন শিরোপা


স্প্যানিশ কিংবদন্তি টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল টেনিস ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১৮টি) গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে জিতেছেন ৭৬টি টেনিস শিরোপা ও হেরেছেন ৩৬টি ফাইনালে। তিনি তার ১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার মধ্যে ১২টিই জিতেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনে ক্লে কোর্টে। তাই টেনিস বিশ্বে নাদাল পরিচিত ‘ক্লে কোর্টের রাজা’ হিসেবে।

১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে জয়ের বিপরীতে নাদাল হেরেছেন ৭টি ফাইনালে। ফেদেরার ও জোকোভিচের চেয়ে মাস্টার্স শিরোপা জয়ের দিক দিয়ে অবশ্য এগিয়ে রয়েছেন নাদাল। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি জিতেছেন সর্বমোট ৩২টি মাস্টার্স শিরোপা ও হেরেছেন আরো ১৬টি ফাইনাল। মাস্টার্স ওপেনে সাফল্যের দিক থেকে তার সমকক্ষ টেনিস খেলোয়াড় ইতিহাসে বিরল। তবে তিনি এটিপি ট্যুর প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেননি, হেরেছেন ২টি ফাইনালে। কিন্তু ৪ বার ডেভিস কাপের ফাইনাল খেলে জিতেছেন ৪ বারই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566290067509.jpg
অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বড় শক্তি জোকোভিচের


২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার মধ্যদিয়ে টেনিস বিশ্বের লাইমলাইটে আত্মপ্রকাশ ঘটে জোকোভিচের। সেই থেকে এখন পর্যন্ত নোভাক জোকোভিচ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলেছেন ২৩ বার। ১৫টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে জয়ের বিপরীতে হেরেছেন ৯টি ম্যাচে। গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়াও অন্যান্য টেনিস প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য ধরে রেখেছেন তিনি। মাস্টার্স টেনিস ওপেনে সর্বমোট ৪৪টি ফাইনাল খেলেছেন জোকোভিচ। এর মধ্যে জিতেছেন ৩০টি ও হেরেছেন ১৪টি ম্যাচে।

এটিপি ট্যুর শিরোপা জয়ের দিক দিয়ে ফেদেরারের পরেই জোকোভিচের অবস্থান। মোট ৬ বার ফাইনাল খেলে তিনি শিরোপা জিতেছেন ৫ বার। এছাড়াও খেলোয়াড়ি জীবনের একমাত্র ডেভিস কাপ জেতেন ২০১০ সালে। শিরোপার সংখ্যা বিবেচনায় ফেদেরারের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও নাদালের নিকটবর্তী অবস্থানে রয়েছেন ৬৯টি টেনিস শিরোপা জেতা এই সার্বিয়ান তারকা।

টেনিস বিশ্ব যখন তিন মহাতারকার নিয়ন্ত্রণে, তখন তাদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অবশ্যই র‍্যাঙ্কিং নিয়েও আলোচনা করা জরুরি।

টেনিস ইতিহাসে সর্বাধিক সময় ধরে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখা খেলোয়াড় রজার ফেদেরার। তিনি সর্বমোট ৩১০ সপ্তাহ টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অবস্থানে ছিলেন। ফেদেরারের পরেই জোকোভিচের অবস্থান। তিনি মোট ২২৩ সপ্তাহ টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ অবস্থানে ছিলেন, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। নাদাল অবশ্য ফেদেরার ও জোকোভিচ থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন র‍্যাঙ্কিংয়ের দিক দিয়ে। প্রথম অবস্থানে ছিলেন মোট ১৮২ সপ্তাহ।

টেনিস বিশ্বের সেরা এ তিন খেলোয়াড়ের অলিম্পিকেও রয়েছে সফলতা ও ব্যর্থতা। অলিম্পিকে তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সফল নাদাল। ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে তিনি স্বর্ণপদক জিতেছেন স্পেনের হয়ে। অন্যদিকে অলিম্পিকে ফেদেরারের রয়েছে রৌপ্যপদক ও জোকোভিচের রয়েছে একটি ব্রোঞ্জপদক।

কাজেই, টেনিসের এই তিন মহারথী যে সর্বকালের সেরা তিন টেনিস খেলোয়াড়, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে খুব কম মানুষের। ‘সর্বকালের সেরা’ এই তিনকে একসাথে দেখতে পাচ্ছেন বলে নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান বলে ভাবতেই পারেন বর্তমান সময়ের টেনিসামোদীরা। একই সময়ে এই তিনজনকে খেলতে দেখার পাশপাশি, এদের মধ্যকার ত্রিমুখী লড়াইটাও কিন্তু কম উপভোগ্য নয়। পরিসংখ্যান বলছে, পরস্পরের মোকাবেলায় এই তিনজনের জয়-পরাজয়ের সংখ্যার ভেতরও নেই খুব একটা পার্থক্য। কে সেরা সেটা নিয়ে তাদের ভক্তদের মধ্যে নিশ্চয় চলে অন্যরকম এক লড়াই। কিন্তু, সর্বকালের সেরা টেনিস-ত্রয়ী যে এই তিনজনই, এনিয়ে লড়াই করতে মনে হয় না এগিয়ে আসবে খুব বেশি মানুষ।

শিবনারায়ণ চন্দরপল : আনসাং হিরো

শিবনারায়ণ চন্দরপল : আনসাং হিরো
চন্দরপলের ট্রেডমার্ক স্ট্যান্স

প্রায় ২৫ বছর আগের কথা। জর্জটাউনে মার্চের এক সকালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি তৎকালীন বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনিংয়ে ১১৩তম টেস্ট খেলতে নামা ডেসমন্ড হেইন্সের সাথে রয়েছেন ৭৩ টেস্ট খেলে ফেলা রিচি রিচার্ডসন। ওপেনিং বোলার—কার্টলি অ্যামব্রোস আর কোর্টনি ওয়ালশ। মিডল অর্ডারে মাত্র ২০ টেস্ট খেলে সত্তরোর্ধ্ব ব্যাটিং গড়ের জিমি অ্যাডামসের সাথে আছেন কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা—গ্যারি সোবার্সের রেকর্ড টেস্ট স্কোর যার হাতছোঁয়া দূরত্বে।

এত এত ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট গডের মাঝে আর আছেন অভিষেক ম্যাচে নামা ১৯ বছর বয়সী শিবনারায়ণ চন্দরপল—লিকলিকে গড়নের মধ্যে বেশ বেমানান যার জার্সি ও প্যাড। দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানো কোচ ফিল সিমন্সের বদলি হিসেবে। কারো কারো মতে, গায়ানিজদের সন্তুষ্ট করতেই নাকি নেওয়া হয়েছিল অমন ‘রাজনৈতিক’ সিদ্ধান্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566284611732.jpg
অভিষেক টেস্টেই চন্দরপল পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি


মজার ব্যাপার হলো, ব্যাটিং স্কিলের চেয়ে তাঁর লেগ-ব্রেক বোলিংই প্রাধান্য পেয়েছিল নির্বাচকদের কাছে। প্রথম ইনিংসে ১৬ ওভার বল করে উইকেটশূন্য চন্দরপল পরবর্তীতে ছয় নম্বরে নেমে অ্যালান ইগলসডেনের বলে পয়েন্টের পেছনে দুর্দান্ত এক কাটে হাঁকান প্রথম বাউন্ডারি। সেদিন ইংল্যান্ডের শক্ত বোলিং অ্যাটাক দুমড়ে-মুচড়ে তরুণ চন্দরপল তুলে নেন নিজের ৬৬ টেস্ট ফিফটির প্রথমটি।

টেন্ডুলকার ও জয়সুরিয়ার পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দশকেরও বেশি সময় কাটিয়ে অবসরের পথে পা দেওয়া চন্দরপল গড়ে গেছেন রেকর্ডের পর রেকর্ড। ইন্দো-ক্যারিবিয়ান হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলা একমাত্র উইন্ডিজ ক্রিকেটার শিবনারায়ণ এই ফরম্যাটে করেছেন এগারো হাজারেরও বেশি রান, সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় রয়েছেন আট নম্বরে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566284663316.jpg
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজারেরও বেশি রানের মালিক শিবনারায়ণ


ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় ব্রায়ান লারার ছায়ায় কাটানো চন্দরপল নিজের ১৯তম টেস্টে ভারতের বিপক্ষে দেখা পান প্রথম সেঞ্চুরির। এর ঠিক এক মাস পর সেই ভারতের বিপক্ষেই পেয়ে যান প্রতীক্ষিত ওয়ানডে সেঞ্চুরিটিও।

ধীরগতির ব্যাটিংই ছিল তাঁর মূল স্টাইল। তাই টেস্টের চতুর্থ দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক যে চন্দরপল, তা জেনে যে কেউই অবাক হবেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৭ বলের সেই বিস্ফোরক ইনিংসের পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪১৮ রানের রেকর্ড চেজে করেছিলেন ১০৪। ২০০৫ সালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে অধিনায়কত্বের অভিষেকে পান ডবল সেঞ্চুরির স্বাদ। যদিও সেনাপতির গুরুভার ঠিকঠাক বহন করতে না পেরে পরের বছরই ইস্তফা দেন শিবনারায়ণ। তাতে ফলও মিলল হাতেনাতে—ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপরাজিত দুই সেঞ্চুরিতে স্বরূপে ফেরেন এই বাঁহাতি গ্রেট।

জীবনের প্রায় অর্ধেকটা সময় টেস্ট ক্রিকেট খেলেই কাটিয়ে দেওয়া চন্দরপল নিজের জাত চিনিয়েছেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও। তাঁর অনবদ্য পারফরমেন্সে ভর করে ২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে উইন্ডিজ দল। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হয়েও এ টুর্নামেন্টের ২০০৬ সালের আসরে ওপেনিংয়ে নামেন চন্দরপল, দলকে টেনে নেন ফাইনাল পর্যন্ত।

তবে ক্রিকেটের আদি সংস্করণের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানকে দুহাত ভরে সাফল্য এনে দিয়েছে ২০০৮ সাল। সেবার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ টেস্টে চন্দরপল তোলেন ৪৪২ রান, অর্জন করেন উইজডেন বর্ষসেরা এবং আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মুকুট।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই উইন্ডিজ ক্রিকেটের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি চন্দরপলকে পরিণত করেছে হাল না ছাড়া এক নাবিকে। একই কথা প্রযোজ্য ব্রায়ান লারার ক্ষেত্রেও, তবে একক আধিপত্য সবসময়ই তাঁকে রেখেছে অন্যদের থেকে এক ধাপ উপরে। কিন্তু শিব তাঁর প্রতিভা দিয়ে অন্যান্যদের গড়ে তুলেছেন প্রায় পুরোটা সময়। লারা অবসরে যান ২০০৬ সালে, ওয়ালশ ২০০১, অ্যামব্রোস ২০০০, রিচার্ডসন ১৯৯৫ আর হেইন্স ১৯৯৪ সালে। অন্যদিকে চন্দরপল তাঁর অভিষেকের পর থেকে খেলেছেন প্রায় ১০০ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানের সাথে। এমনকি তাঁদের মধ্য থেকে সেরাদের সেরা ক্রিস গেইল, রামনারেশ সারওয়ানরা এসে চলেও গেছেন। অন্যদেরও সঙ্গ পেয়েছেন খুব কম সময়ের জন্য, যাদের মধ্যে ৪২ জন খেলেছেন মাত্র পাঁচ বা তার চেয়েও কম টেস্ট।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566284728477.jpg
২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের উচ্ছ্বাস


চন্দরপল নিজেকে রীতিমতো এক সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। হার মেনে নেওয়ার ব্যাপারটি ছিল তার ডিকশনারির বাইরে। বলা বাহুল্য, ইতিহাসের অন্য যে কোনো ব্যাটসম্যানের থেকে সবচেয়ে বেশিবার অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা তাঁরই দখলে। অনেকের মতে, তাঁর ঘুমপাড়ানি ব্যাটিং বড়ই নিস্প্রভ, নিস্তেজ। কেউ কেউ তাঁকে স্বার্থপর ভাবতেও দ্বিধা করেন না। তবে চন্দরপল ক্যারিয়ারজুড়ে করে গেছেন তাঁর কাজটিই। দিগভ্রান্ত ব্যাটিংয়ের দিনে ক্রিজে তাঁর উপস্থিতি সবসময় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বশেষ ভরসা আর ম্যাচ বাঁচানোর সর্বশ্রেষ্ঠ সুযোগ। হেরে যাওয়া ম্যাচে তাঁর থেকে বেশি রান নেই অন্য আর কোনো ব্যাটসম্যানের।

খেলোয়াড়দের কারো শরীরজুড়ে থাকে ট্যাটুর পসরা, কান ফুটিয়ে দুলও পরেন কেউ কেউ। আর শিবের ক্যারিয়ারজুড়ে আলোচনায় ছিল তার দুই চোখের নিচের কালো দাগ। হোক পুরো কালো বর্ণ অথবা নিজ দেশের পতাকা—শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচে তাঁকে দেখা গেছে এই রূপেই। বিশেষ কোনো স্টাইল নয়, বরং রোদের প্রতিফলন থেকে বাঁচতেই এমন ‘প্যাচ’ ব্যবহার করতেন চন্দরপল। তবে এই প্যাচ ঠিক কতটুকু কার্যকরী, সেটির সপক্ষে এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566284781042.jpg
রোদের প্রতিফলন থেকে বাঁচতে চোখের নিচে ‘প্যাচ’ ব্যবহার করতেন চন্দরপল


দৃষ্টিনন্দন শটের আহামরি কোনো প্রদর্শনী তেমন দেখা যায়নি তাঁর সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে। উল্টো দর্শনীয় ছিল ক্রিজে তাঁর বিচিত্র এক কাঁকড়ারূপী ব্যাটিং স্ট্যান্স, যা নিকট অতীতে দেখা যায়নি অন্য কোনো ব্যাটসম্যানের মধ্যে। চন্দরপলের ভাষ্যমতে, বোলারের মুখোমুখি প্রায় ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে দাঁড়িয়ে তিনি পেতেন দুই চোখের পূর্ণ দর্শন, সাথে দারুণ ভারসাম্য। বন্ধু আর প্রতিবেশিদের বোলিং মোকাবেলায় গায়ানার ছোট্ট গ্রামে কৈশোরেই শিবনারায়ণ আয়ত্ত করেন এই টেকনিক।

তা ঠিক কতটা কার্যকরী ছিল এই স্ট্যান্স? শুরুর দিকে ব্রেট লি’র মতো ফাস্ট বোলাররা ধন্দে পড়ে যেতেন যে ব্যাটসম্যান চন্দরপল আদৌ বল মোকাবেলায় প্রস্তুত ছিলেন কিনা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে শিব দেখিয়ে দিয়েছেন যে প্রথাগত মডেল বা ধরন অনুসরণ না করেও কিভাবে সর্বোচ্চ স্তরের সফলতা অর্জন করা সম্ভব। কখনো মারমুখী, কখনো কচ্ছপগতি—ক্যারিয়ারের প্রারম্ভে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে ব্যাটিং স্টাইলের ভিন্নতা তাঁকে সবসময়ই আলাদা রেখেছে অন্যদের থেকে। তিন-তিনবার ১০০০ মিনিটেরও বেশি সময় অপরাজিত থাকার এবং সবচেয়ে বেশি ১৭টি অপরাজিত টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড তো আর এমনি এমনি গড়েননি!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566284840669.jpg
চন্দরপলের ট্রেডমার্ক স্ট্যান্স


উইন্ডিজ ক্রিকেটের ধৈর্যের প্রতিমূর্তি শিবনারায়ণ চন্দরপলের ত্রিশ টেস্ট সেঞ্চুরির শেষটি আসে বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০১৪ সালে। তার ঠিক দুই বছর পরই ৪১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান আগেই উইন্ডিজ বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়া চন্দরপল।

৭৭ ফার্স্ট-ক্লাস সেঞ্চুরির মালিক চন্দরপল পরবর্তীতে তিন মৌসুম সফলতার সাথে কলপ্যাক চুক্তিতে খেলেছেন ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব ল্যাঙ্কাশায়ারে। আর নিজ শহর গায়ানার হয়ে ছেলে ত্যাগনারায়ণ চন্দরপলের সঙ্গে এখনো খেলে যাচ্ছেন ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট। বল-ব্যাটের লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় বিশ বছরেরও বেশি সময় কাটানো শিবের ধার যে এতটুকুও কমেনি, তার প্রমাণ আরো একবার পাওয়া গেছে চলতি বছরের এপ্রিলেই। সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে ২০০ রানের দলীয় স্কোরই যেখানে বিশাল ব্যাপার, সেখানে ২৫টি চার আর ১৩ ছক্কায় আইসিসির স্বীকৃতিহীন ঘরোয়া এক টি-টুয়েন্টি লীগে চন্দরপল একাই খেলেছেন ২১০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566284885858.jpg
ছেলে ত্যাগনারায়ণের সাথে শিব


চটকদার চার-ছক্কার পসরা যদি হয়ে থাকে উইন্ডিজ ক্রিকেট সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে শিবনারায়ণ চন্দরপল সেখানে এমন এক যুগের ধারক ও বাহক—সংকটের সময় যেখানে দলীয় মনোবলে নিহিত ছিল সফলতা। এমন একজন ব্যাটসম্যানের গুণগান গাওয়ার সর্বোৎকৃষ্ট শব্দমালা খুঁজতে তাই হিমশিম খেতে হয় ক্রিকেটবোদ্ধাদের। ক্যারিয়ারের সোনালি সময়ে শিবনারায়ণ যদি পেতেন চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো কোনো আসর, নিজের শৈল্পিক তুলিতে নিশ্চিতভাবেই রাঙাতেন দলীয় অর্জনের পাল্লা। কেননা ব্যক্তিগত রেকর্ড বা স্বতন্ত্র উজ্জ্বলতা নয়, বরং গোটা ক্যারিয়ারে দলীয় সাফল্যকেই সবকিছুর উপরে স্থান দিয়েছেন কদিন আগেই ৪৫-এ পা রাখা এই ব্যাটিং জিনিয়াস।

অভিবাদন, হে আনসাং হিরো!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র