Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ভ্যান গাড়িতে জমজমাট পোশাকের ব্যবসা

ভ্যান গাড়িতে জমজমাট পোশাকের ব্যবসা
ছবি: বার্তা২৪
গনেশ দাস
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়া শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথা। দিনের ব্যস্ততা কাটিয়ে রাতের সাতমাথার দৃশ্য যেন অন্য রকম। সন্ধ্যার পর থেকে ব্যস্ততম সাতমাথার চিত্র পাল্টাতে থাকে। ভ্যান গাড়িতে করে শীতের গরম কাপড় থেকে শুরু করে রকমারি পোশাকের হাট বসে সাতমাথা ও তার আশেপাশের সড়কের দুপাশ দিয়ে। হতদরিদ্র থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন এইসব রকমারি পোশাকের ক্রেতা। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা মূল্যের পোশাক বিক্রি হয়ে থাকে ভ্যান গাড়ির এই ভ্রাম্যমান দোকানে।

ফুটপাতের এই ব্যবসায় কয়েক শতাধিক বেকারের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অল্প আয়ের লোকজন সাধ এবং সাধ্যের সমন্বয়ে কেনা কাটা করে থাকেন। কিন্তু ভাটা পড়েছে শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণি বিতান গুলোতে। সেখানে উচ্চ বিত্ত পরিবারের লোকজন ছাড়া মধ্য বিত্ত ক্রেতা দিন দিন কমছে।

শহরের সাতমাথা ছাড়াও থানা রোড, নবাববাড়ি সড়ক, স্টেশন রোড, শেরপুর রোড, গোহাইল রোডের দুই পাশ দিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ভ্যান গাড়িতে ভ্রাম্যমান দোকান বসে। এসব দোকানে ছেলে ও মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক ছাড়াও নতুন জিন্সের প্যান্ট শার্টও বিক্রি হয়ে থাকে। দামও নাগালের মধ্যে হওয়ায় ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে দোকান গুলোতে। তবে প্রত্যেকটি দোকানেই একদাম। পুরাতন শীতের কাপড় ১০ টাকা করেও পাওয়া যায় এসব ভ্যান গাড়িতে। আবার নতুন সোয়েটার জ্যাকেট রয়েছে ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।

সাতমাথায় ভ্যান গাড়িতে শীতের পোশাক কিনতে আসা রুবাইয়া ইয়াসমিন জানান, বাড়িতে নিজের এবং ছেলে মেয়েদের ব্যবহারের জন্য কম দামে সুন্দর সুন্দর গরম কিনেছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভ্যান গাড়ি থেকে নিজেকে বাছাই করে নিতে অনেক সময় লেগে যায়।

সরকারি চাকরিজীবী শাহিন আলম জানান, সন্ধ্যার পর তেমন কাজ থাকে না। তাই এক দেড়ঘন্টা ঘুরে ভ্যান গাড়ি থেকে সাড়ে তিনশ টাকায় জ্যাকেট কিনেছেন। তিনি বলেন এধরনের জ্যাকেট শহরের যেকোনো মার্কেটে কিনতে ৬০০- ৭০০ টাকা লাগবে।

ভ্যানগাড়িতে শীতের পোশাক বিক্রেতা জনি জানান, তিনি আগে তৈরি পোশাকের দোকানে কর্মচারী ছিলেন। এখন নিজেই ভ্যানগাড়ি কিনে দোকান দিয়েছেন। তিনি বলেন, বগুড়ার কয়েকজন মহাজন ঢাকার বঙ্গবাজার এবং চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক পাইকারি কিনে আনেন। এরপর বগুড়া শহরে বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে দেয়।

ভ্যান গাড়িতে জিন্সের প্যান্ট বিক্রেতা আল-আমিন জানায়, মহাজন তাকে প্যান্টের দাম নির্ধারণ করে দেয়। সন্ধ্যা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত ভ্যানগাড়িতে প্যান্ট বিক্রি করে থাকে। আল আমিন জানায়, দর দাম করার সুযোগ নাই। বিক্রি কম-বেশী যাই হোক তার বেতন তিনশ টাকা। তবে শীত কমে গেলে এই ব্যবসাতেও ভাটা পড়ে যায়। তখন তারা আবার ফিরে যায় ভিন্ন পেশায়।

এসব দোকান থেকে সাধারণ মানুষ উপকৃত হলেও বিপদে পড়েছেন মার্কেট গুলোর তৈরি পোশাকের দোকানীরা। শহরের রানার প্লাজার তৈরি পোশাকের দোকানী সেকেন্দার আলী বলেন, ৫০ লাখ টাকা দিয়ে দোকান নিয়েছি। এই দোকানে আরও ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু ফুটপাতের ব্যবসার কারণে আমাদের বেচা কেনা কমে যাচ্ছে। লাভতো দুরের কথা এখন দোকানের কর্মচারী এবং বিদ্যুৎ বিলের খরচ উঠছে না।

আপনার মতামত লিখুন :

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব
হাইকোর্ট

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এই তিনজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ জলুাই তাদের শরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন না করায় একটি সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ তলবের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে হাইকোর্ট তিতাসের কর্মচারী নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা অনুসরণ না করায় আদালত সম্পূরক আবেদন করেন। আদালতের আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিতাসে ৭৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও চূড়ান্ত ফলে তাদের বাদ দেওয়া হয়। কোটা অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে মো. রেজাউল করিমসহ ৮ জন ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর রিট দায়ের করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ৬৩ জনকে নিয়োগ দেয় তিতাস। গত ২ এপ্রিল আরো ১৭ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ রিট আবেদকারীরা হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন।

এই আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে তলবের আদেশ দেন।

আদালতে তিতাসের আইনজীবী জানান, ৩০ শতাংশ  কোটা সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ। রিটের আইনজীবীরা তার এই বক্তব্যে আপত্তি জানান। 

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!
নারীশ্রমে প্রাণ পেলো মৃত নদী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সম্ভাব্য পানি সংকটের পদধ্বনিতে আশাবাদী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দেশটির নারীশক্তি। মৃতপ্রায় নদী বাঁচাতে ২০০০০ মহিলা নিরলস প্রচেষ্টা চালালেন দীর্ঘ চার বছর। নারীশ্রমে নবপ্রাণ পেয়ে বাঁচলো নদী।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য  দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের যে ভেলোর পরিচিত, সেখানে নাগানধি নদী পেলে নতুন জীবন। বহু মানুষও বেঁচে গেলেন তীব্র পানিকষ্ট থেকে।

তামিলনাড়ুর যে ২৪টি জেলা খরাপ্রবণ, তার মধ্যে অন্যতম ভেলোর। এই ভেলোরের মানুষদের কাছে বেঁচে থাকার, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির উৎস ছিল একমাত্র এই নাগানধি।

কিন্তু ১৫ বছর আগে এই নদীটি শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে যায়। নারীশ্রম মৃত নদীকে নবজন্ম দিয়েছে। ফলে মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষি সম্ভাব্য ক্ষয় থেকে রক্ষা পেয়েছে।

দক্ষিণ ভারত থেকে শত মাইল দূরে ভারতের উত্তর দিকেও একই ছবি দেখা গেছে। উত্তরাখণ্ডের পউরি গাড়ওয়ালের প্রায় ১০০ জন গ্রামবাসী ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে নানা মাপের রিজ়ার্ভার তৈরি করছেন। পানির স্বল্পতার কবল থেকে বাঁচতে স্বেচ্ছা শ্রম ও স্বেচ্ছা প্রণোদনায় এগিয়ে এসেছেন মানুষ। যে মানুষের মধ্যে অগ্রণী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেন গ্রামের নারীরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বার বার জানাচ্ছে যে, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের বড় বড় অনেক শহরই চরম পানি সংকটের মুখোমুখি হবে। এরই মাঝে চেন্নাই প্রভৃতি শহরে পানি স্বল্পতা ও সংকটের আঁচ পড়েছে।

আরও পড়ুন: চেন্নাইয়ে পানির তীব্র সংকট

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামেও যে পানির ভয়াবহ সংকট হাতছানি দিচ্ছে, তা সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্টভাবে চিত্রিত হয় নদী উদ্ধারের এই ঘটনাগুলো থেকেই। ভেলোরের ক্ষেত্রে ২০ হাজার মহিলার ৪ বছরের প্রচেষ্টায় ১৫ বছর আগে শুকিয়ে যাওয়া নাগানধি নদীকে আবারও স্রোতস্বিনী করা প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহু গ্রামে পানির জন্য রিজার্ভার, কুয়া, জলাধার তৈরি করছে মানুষ, যাতে প্রচুর নুড়ি পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। 

‘নাগানধি বাঁচাও’ প্রকল্পের ডিরেক্টর চন্দ্রশেখরণ কুপ্পান বলছেন, 'কোনও নদীকে পুনরায় বাঁচিয়ে তোলার জন্য শুধু তার বহমানতার দিকে নজর দিতে হয়, তা নয়।  নদীর গভীরতাও যাতে ঠিক থাকে সেদিকেও নজর দিতে হয়।  এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিও যাতে মাটি শুষে নিয়ে জমিয়ে রাখে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  তাই বৃষ্টি হলে সেটা এজাতীয় নদীর ক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়। '

উল্লেখ্য, নদীটি মৃতপ্রায় হলে ভেলোরের অর্ধেকের বেশি কৃষক পানির অভাবে গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে থাকেন। কারণ তারা চাষের জন্য পানি পাননি দীর্ঘদিন। নদী নতুন জীবন পাওয়ায় বেঁচেছে জনপদ, কৃষি ও কৃষক।

ভেলোরের আগে দক্ষিণ ভারতের আরেক জায়গায় একই সংকট ঘণীভূত হয়েছিল। কর্ণাটকের বেদবতী এবং কুমুদবতী নামে দুটি নদীও সংস্কারের অভাবে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। দুটি নদীকেই স্বেচ্ছাশ্রমে পুনরায় নাব্যতা দিয়েছিলেন স্থানীয় মানুষ, যাদের সিংহভাগ ছিলেন গ্রামীণ নারী।

পানি সংকটের সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাঁচতে ভারতীয় গ্রামের নারীরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। তারা গ্রামে গ্রামে রিজার্ভার বা কুয়া বানাচ্ছেন। দক্ষিণ ভারতের কান্যায়মবাদি ব্লকের সালামানাথাম গ্রামের একজন নারী একাই প্রায় ৩৬ টা কুয়া খুঁড়েছেন।   

উত্তর ভারতেও এমন ঘটনা ঘটছে। সেখানে পউরি গাড়ওয়ালের ১৩ বছরের ছাত্রী দীপা রাওয়াত এবং তার বন্ধু স্কুল শেষে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য রিজ়ার্ভার তৈরি করতে মাটি খুঁড়ে চলে আজকাল।  সেখানকার সরকারি স্কুলগুলো প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকেই এই কাজে উৎসাহ দেয়।  বলা হয়েছে, এক একটি রিজ়ার্ভার যাতে অন্তত ২ ফুট গভীর হয় সেদিকে নজর দিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'শহরের পাশাপাশি গ্রামগুলোতে মানুষের সচেতন হওয়া খুব জরুরি এখনই। যাতে ভবিষ্যতের জন্য তারা পানি সঞ্চয় করে রাখতে পারেন। নইলে সমস্যা বাড়বে। কারণ গ্রামগুলো দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। জলের উৎসও কমছে। দিন দিন জল যত কমবে লোকজন চলে যাবেন এই এলাকা থেকে।  তাই গণ সচেতনতা ও অংশগ্রণ ছাড়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তির কোনও আশা নেই।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র