Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাংলার, বাঙালির ঊর্মি রহমান

বাংলার, বাঙালির ঊর্মি রহমান
ঊর্মি রহমান
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কলকাতায় ঊর্মি রহমান সরব জীবন কাটাচ্ছেন। বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবের নানা আয়োজনে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন তিনি। পহেলা বৈশাখের ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার ব্যস্ততার পাশাপাশি সাংবাৎসরিক নানা সামাজিক উদ্যোগে মেতে আছেন এই মানুষটি। নিবিড় ভাবে সংশ্লিষ্ট আছেন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ গ্রুপের সঙ্গে।

বাংলাদেশের সত্তর ও আশির দশকের লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষই ঊর্মি রহমানকে চেনেন। তাঁর ব্যক্তিগত বা পেশাগত নৈকট্য পেয়েছেন অনেকেই। সে সময়ের বাংলাদেশে তাঁর উজ্জ্বল তৎপরতার কথা বিস্মৃত হওয়ার মতো নয়।

লেখালেখির কারণে ছিলেন পাঠকের প্রিয়। তৎকালের গুরুত্বপূর্ণ সাপ্তাহিক, অধুনালুপ্ত ‘বিচিত্রা’র নিয়মিত লেখক-সাংবাদিক ছিলেন তিনি। তারপর আচমকাই চলে গেলেন বিলাতে, ‘বিবিসি’তে। লেখার বদলে লন্ডন থেকে ইথারে ভেসে আসা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনেছেন সহস্র শ্রোতা। সেখানেও থিতু হলেন না। ইচ্ছে করলেই স্থায়ী বসবাস গড়তে পারতেন। কিন্তু সেটা না করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চলে এলেন বাঙালির আরেক প্রিয় শহর কলকাতায়। দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটিতে গগনচুম্বী এক নান্দনিক অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করছেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/30/1538285513140.jpg

মনে হয় বিশ্বায়নের জাতিকা হয়ে দেশ-দেশান্তরে ঘুরছেন ঊর্মি রহমান। তথাপি বাংলা ও বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সংযোগ অমোচনীয়। ঢাকার শিল্প-সাহিত্য-সাংবাদিকতার সকল খবরই জানতে চেষ্টা করেন। সাইবার যোগাযোগের কারণে তথ্যের আদান-প্রদান আজকাল আরও সহজ। বার্তা২৪.কমের নবযাত্রার কথা জেনে বলেন, ‘এডিটর ইন চিফ আলমগীর হোসেন আমার ঘনিষ্ট। তাঁকে আমার শুভেচ্ছা জানাবেন।’

বহু বছর পর তাঁর সঙ্গে আবার দেখা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে আমার সম্ভাব্য কলকাতা ভ্রমণের কারণে। জানালেন, ‘এখন নাতিদের কাছে লন্ডনে আছি। অক্টোবরের মাঝামাঝি ফিরে আসবো কলকাতায়। তখন যদি থাকেন তো দেখা হবে।’ আমিও অপেক্ষায় থাকি বৃক্ষবহুল দক্ষিণ কলকাতার কোনও এক রেস্তরাঁয় এক পেয়ালা চা কিংবা কফি হাতে তাঁর মুখোমুখো হওয়ার।

কবুল করাই শ্রেয় যে, তাঁর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও আলাপ অবশ্যই আনন্দের অভিজ্ঞতা। যেমনটি আমার একবারই হয়েছিল নব্বই দশকের সূচনায়। তখন তিনি বাংলাদেশ-পর্ব শেষে লন্ডন প্রবাসী। ‘বিবিসি’র পক্ষ থেকে ঢাকায় এসেছেন ইংরেজি শিক্ষার অনুষ্ঠান ‘টাইগার্স আই’ নিয়ে। পুরো অনুষ্ঠানের একটি ক্যাসেট (তখন সিডি’র জন্ম হয় নি) আর অনুষ্ঠানের পুরোটা নিয়ে একটি বইয়ের ছাপানো ভার্সন উন্মোচন হয়েছিল সে আমলের হোটেল শেরাটনে। মিডিয়ার মাধ্যমে ভাষার শিক্ষা কোনও প্রকল্প সম্ভবত সেটিই ছিল প্রথম। বেতারে ও প্রকাশিত আকারে ‘টাইগার্স আই’ অসম্ভব সাড়া জাগিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ার বিষয়বস্তু, চরিত্র ও প্রেক্ষাপট ব্যবহার করে ইংরেজি শেখানোর ক্ষেত্রে বিবিসি’র সে উদ্যোগকে বলা যায় পথিকৃৎ। ‘বিবিসি’র পক্ষে সেটি প্রয়োজনা করেছিলেন সাগর চৌধুরী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/30/1538285599440.jpg

‘টাইগার্স আই’ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ঊর্মি রহমান ঢাকায় ছিলেন। সে সময় আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বাইরে একটি দীর্ঘ সন্ধ্যা ঊর্মি-সাগরের সান্নিধ্যে কাটে বনানীর এক বাড়িতে। বনানী পোস্ট অফিসের পেছনের দিকে বাড়িটি ছিল ঊর্মি রহমানের এক আত্মীয়ের, সম্ভবত বোনের। অনেক কথা হয়েছিলে এই যুগলের সঙ্গে নানা বিষয়ে ও প্রসঙ্গে।  

তারপর বহু বছর আর দেখা নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে ভার্চুয়াল স্পেসে কথা-বার্তা হয়। তথ্যের আদান-প্রদান চলে। বার্তা২৪.কমে লিখতে বললে রাজি হন। বার্তায় প্রকাশিত আমার লেখা পড়ে মুদ্রণ প্রমাদ ধরতে কসুর করেন না বাংলা সাহিত্যের এই তুখোড় ছাত্রীটি। কাছের ঊর্মি রহমান এক ও অনন্য হয়েই থাকেন দূরত্বের সীমানা ডিঙিয়ে।

কাছেরই তো! ফরিদপুর অঞ্চলের যে তরুণী রাজধানী শহরের আজিমপুরে বড় হয়েছেন ঢাকার বিখ্যাত স্কুল-কলেজে পড়ে, তিনি এই শহর, এই জনপদের সবচেয়ে কাছের একজন তো বটেই। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আবার ঢাকায় সাংবাদিকতা করেছেন, শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে মিলেমিশে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন লন্ডন থেকে আন্তর্জাতিক বাংলাভাষীর পরিমণ্ডলে। এখন বসবাস করছেন বাংলারই আরেক ভূগোল কলকাতায়। তাঁর চেয়ে বাংলা ও বাঙালির কাছের জন আর কে!

আমাদের ঊর্মি রহমান ভৌগোলিক দূরত্বের আরেক শহরে আছেন, সত্যটি আমাদের জন্য বেদনার ও কষ্টের। কিন্তু ঊর্মি রহমান সর্বাবস্থায় বাংলা ও বাঙালিকে নিয়ে আছেন, এই পরম সত্যটি সকল কষ্ট ও বেদনার উপশম। অনন্য আনন্দের সুশোভন অভিঘাত হয়ে জীবনে ও কর্মে ঊর্মি রহমান রয়েছেন বাংলার ও বাঙালিরই। 

আপনার মতামত লিখুন :

কেন এগিয়ে যাচ্ছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা

কেন এগিয়ে যাচ্ছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা
ক্যারিবিয়ান মাস্টার-ব্লাস্টার ব্রায়ান লারা

নান্দনিকতার বিচারে ক্রিকেট ইতিহাসে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের কদর সবসময়ই যেন একটু বেশি। তবে পরিসংখ্যান বলে, দৃষ্টিনন্দন এই ব্যাটিং স্টাইল বড় স্কোর গড়তে এবং ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে কার্যকরীও বটে।

বিগত কয়েক দশকে ব্যাট হাতে পাদপ্রদীপের আলো নিজেদের করে নিয়েছেন অসংখ্য কিংবদন্তি। ব্রায়ান লারা, কুমার সাঙ্গাকারারা দেখিয়েছেন স্টাইলিশ ও মার্জিত ব্যাটিং; পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকরী স্ট্রোক খেলার পারদর্শিতার প্রমাণ রেখেছেন ম্যাথু হেইডেন, গ্রায়েম স্মিথরা। আগ্রাসী মনোভাবে যে ব্যাটকে তরবারীর মতো ছুটিয়েছেন ক্রিস গেইল, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, সনাথ জয়সুরিয়া—সেই একই ব্যাটকে ধৈর্যের সাথে মহাপ্রাচীর বানিয়ে দারুণ সব ইনিংস উপহার দিয়েছেন শিবনারায়ণ চন্দরপল, অ্যালান বোর্ডাররা। কৌশলের এমন ভিন্নতা তাদেরকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি, তবে বর্তমানে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের দাপুটে রাজত্বের ভিতটা যে তাঁরাই গড়ে দিয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য।

ইতিহাস বলছে, বাঁহাতিদের ব্যাটিং তুলনামূলক কার্যকরী এবং রানস্কোরিং—এই দাবিটা মিথ্যে নয়। ১৯৭০ সাল থেকে পরবর্তী প্রায় প্রতিটি দশকে ধারাবাহিকভাবে সফল বাঁহাতিরা গড় হিসাবে এগিয়ে রয়েছেন প্রায় দুই রানের ব্যবধানে, যা ২০০০ সালের পর হয়েছে দ্বিগুণ। চলতি দশকের শুরুতে অবশ্য সব হিসাব পাল্টে এই গড়ের খেলায় শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, কেভিন পিটারসেন, তিলকরত্নে দিলশানদের সৌজন্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ডানহাতিরা, যাতে ছেদ টানেন হালের ডেভিড ওয়ার্নার, তামিম ইকবাল, শিখর ধাওয়ানদের মতন পাওয়ার হিটাররা।

এখানে যে মজার ব্যাপারটি লক্ষণীয়, তা হলো বিগত দশকগুলোতে ডানহাতি ও বাঁহাতিদের খেলা মোট ইনিংসের অনুপাত। ৭০-এর দশকে বাঁহাতিদের প্রতি ইনিংসের বিপরীতে ডানহাতিদের ইনিংস ছিল প্রায় চারটি, যেটি গত ত্রিশ বছরে হয়ে গেছে প্রায় সমান-সমান। তবে কি বাঁ-হাতের সাফল্যের ভারী পাল্লাই অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে নতুন দিনের ব্যাটসম্যানদেরকে?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712391653.jpg
ক্রিস গেইলের ধ্বংসলীলা ◢

 

২০০০ পরবর্তী দলগত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাঁহাতিদের ভাণ্ডার অন্যান্যদের চেয়ে স্পষ্টতই সমৃদ্ধ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সময়ের মধ্যে ক্যারিবিয়ান দলের বাঁহাতিদের গড় প্রায় ৪০, যেখানে ত্রিশেরও নিচের গড় নিয়ে দৈন্যদশা তাদের ডানহাতিদের। প্রায় একই ব্যবধান বিরাজমান বাংলাদেশের বাঁহাতি ও ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। তামিম, ইমরুল, সৌম্য সরকারদের মতো পরীক্ষিতদের স্কোরগুলোর পাশে যোগ করুন বর্তমান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের চোখধাঁধানো ইনিংসগুলো—হিসাবটা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার!

স্টিফেন ফ্লেমিং, মার্ক রিচার্ডসন, টম ল্যাথাম, জেসি রাইডারদের সৌজন্যে প্রায় একই চিত্র ব্ল্যাকক্যাপস নিউজিল্যান্ড দলের পরিসংখ্যানেও। ব্যতিক্রম শুধু রস টেলর—চল্লিশোর্ধ্ব গড় নিয়ে পনেরোশোর বেশি রান পাওয়া একমাত্র ডানহাতি কিউই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712458522.jpg
বাঁ-হাতের জাদুকর সাকিব আল হাসানের আইডল বাঁ-পায়ে সেরাদের সেরা লিওনেল মেসি ◢

 

ঠিক উল্টো চিত্র এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান দলে, যেখানে আধিপত্য রয়েছে ডানহাতিদেরই। পাকিস্তান লাইনআপের ত্রিরত্ন—ইনজামাম-উল-হক, ইউনিস খান এবং মোহাম্মদ ইউসুফ সবসময়ই এগিয়ে ছিলেন বাকিদের থেকে। পরবর্তী সময় শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মাদ হাফিজ, আহমেদ শেহজাদদের মতো অভিজ্ঞরা ডানহাতিদের রানের পাল্লা করেছেন আরো ভারী। সাম্প্রতিক সময়ের তারকা ব্যাটসম্যান ফখর জামান, ইমাম-উল-হকদের বাঁ-হাতের জাদু যেন দিনবদলের বিজ্ঞাপন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712529262.jpg
পাকিস্তানের একমাত্র ওয়ানডে ডবল সেঞ্চুরিয়ান ফখর জামান ◢

 

আর ভারতের ‘ব্যাটিং ঈশ্বর’ টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে রাহুল দ্রাবিড়, বীরেন্দর শেবাগ, ভিভিএস লক্ষ্মণ কিংবা বর্তমানের সেরাদের সেরা বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা—সব ডানহাতি জায়ান্টরা বছরের পর বছর গড়েছেন রানের পাহাড়। ৫০+ গড়ের সামনে বাঁহাতিরা বেশ ব্যাকফুটেই রয়েছেন। তবে সৌরভ গাঙ্গুলি, গৌতম গম্ভীর, যুবরাজ সিংদের মতো দুর্ধর্ষ বাঁহাতিদের গৌরবের ঝাণ্ডা উঁচিয়ে ধরে এগিয়ে চলেছেন হালের শিখর ধাওয়ান।

যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডভিত্তিক সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ক্রিকেটার ব্যাটিং করেন ‘ভুল’ পদ্ধতিতে—অর্থাৎ যাদের মূলশক্তির হাতটি থাকে হ্যান্ডেলের উপরিভাগে—তাদের সফলতার হার অন্যদের থেকে বহুগুণে বেশি। এ তালিকায় রয়েছে ব্রায়ান লারা, মাইক হাসি, অ্যালিস্টার কুক, ডেভিড ওয়ার্নার, ক্রিস গেইলের মতো তারকাদের নাম, যাদের ডান বাহুটিই মূল শক্তির উৎস হলেও ব্যাটিং স্টাইলে বাঁহাতি। উল্টোটা ঘটেছে বামের শক্তিতে বলিয়ান মাইকেল ক্লার্ক, অ্যারন ফিঞ্চদের ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাঁহাতিদের এই স্বাচ্ছন্দ্য বিচরণের রহস্য কী? অন্তর্নিহিত কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্যই কি সফলতা লুটাচ্ছে তাদের ব্যাটে? ক্রিকেটের বেশিরভাগ নিয়মকানুন কি তাদের অনুকূলেই যাচ্ছে? নাকি ডানহাতিদের বিপক্ষে বোলিংয়ে অভ্যস্ততাই সৃষ্টি করেছে আজকের এই অবস্থা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712581984.jpg
মারকুটে বাঁহাতি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ◢

 

রহস্যের উত্তর হতে পারে এই তিন কারণের সংমিশ্রণও। ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের ভাষায়, ব্যাটিংয়ের সময় বাঁহাতিদের মস্তিষ্কের বামপাশের প্রবাহে ডান অংশের দখল তাদের স্থানিক সচেতনতা এবং প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও বাঁহাতিদের ক্ষেত্রে লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ হওয়া বলগুলো এলবিডব্লু উইকেটের বিপরীতে অসামঞ্জস্যতার বেনিফিট প্রদান করে। পাশাপাশি বাঁহাতিদের ব্যাটিং স্ট্যান্স ব্যাহত করে ফাস্ট বোলারদের স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712641218.jpg
রিভার্স সুইপ খেলছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ◢

 

তবে দলীয় সাফল্য অর্জনে ডান-বাম কম্বিনেশনের ব্যাটিং লাইনআপ কিন্তু দারুণ কার্যকরী। এতে বিপক্ষ দলের অধিনায়ক বল বাই বল ফিল্ড সেটিং পরিবর্তনে পড়েন বিপাকে, যার সবটুকু সুবিধা যায় ব্যাটসম্যানদের ঝুলিতে।

পরিশেষে বলা যায় অনুকুল পরিস্থিতির সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়ে নান্দনিক ও উদ্ভাবনী শট খেলতে পারার দুর্দান্ত সব সুযোগই বাড়াচ্ছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের সংখ্যা এবং সফলতার হার।

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ। আমেরিকার মহাকাশচারী নিল আর্মস্ট্রং ও বুজ অ্যালড্রিন প্রথম মানুষ, যারা এই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

চাঁদের পৃষ্ঠে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রং। এরপর বুজ অ্যালড্রিল। তাদের সঙ্গী ছিলেন মাইকেল কলিন্স। তবে তিনি চাঁদের পৃষ্ঠে না নেমে নভোযানে অবস্থান করেন।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ‘ঈগল’ নামক এক চন্দ্রতরীতে করে তারা প্রথম চাঁদে অবতরণ করেন। নিল আর্মস্ট্রং চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করে বলেছিলেন, "That's one small step for man, one giant leap for mankind." (মানুষের ক্ষুদ্র এই পদক্ষেপটি মানব সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেল।)

Moon

চাঁদে মানুষ পাঠানো নিয়ে আমেরিকা ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ছিল মর্যাদার লড়াই। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক নামক কৃত্রিম উপগ্রহ প্রথম মহাকাশে পাঠায় রাশিয়া। এতে চন্দ্র জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যায় দেশটি।

এরপর ১৯৬৬ সালে রাশিয়ার লুনা-৯ নামক উপগ্রহ চাঁদে সফট ল্যান্ডিং করে। এর দুইমাস পর লুনা-১০ নামক আরেকটি উপগ্রহ চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপন করে রাশিয়া। তারা চন্দ্রজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও মানুষ পাঠানোর মতো প্রযুক্তি তখনও তারা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে তাদের মহাকাশ অভিযান বাধাপ্রাপ্ত হয়।

Moon

এরমধ্যে ১৯৬৮ সালে মহাকাশ গবেষণায় বড় সাফল্য অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা মহাকাশে অ্যাপোলো-৮ নামে মানুষ বহানকারী একটি যান মহাকাশে পাঠায়। সেটি চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে ফিরে আসে।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ তে চড়ে চাঁদে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রংরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র