Alexa

৭ই মার্চ উপলক্ষে কলকাতায় আলোচনা সভা

৭ই মার্চ উপলক্ষে কলকাতায় আলোচনা সভা

৭ মার্চ উপলক্ষে কলকাতায় আলোচনা সভা, ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরে এ মিশনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মোঃ মোফাকখারুল ইকবাল, কাউন্সিলর (কনস্যুলার) মনসুর আহমেদ, কাউন্সিলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া) শেখ শফিউল ইমাম এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননাপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী।

সভাপতির বক্তব্যে উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, 'ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বাঙালি জাতিকে সংঘবদ্ধ হতে সহায়তা করেছিল, ৭ মার্চে রেসকোর্স থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা না আসলে হয়তো এতো অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিরোধ ও জেগে ওঠার মানসিকতা গড়ে উঠতো না। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণমানুষের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে সেই মহাকাব্য। ৭ই মার্চের ১৯ মিনিটের সুমধুর ভাষণটি বিশ্বের ১২টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’ এ অন্তর্ভুক্ত করে। এটি নি:সন্দেহে সমগ্র বাঙালির জন্য একটি গর্বের বিষয়, অহংকারের বিষয়।'

প্রথম সচিব (প্রেস) মোঃ মোফাকখারুল ইকবাল ৭ই মার্চের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রেখে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে কিভাবে দেশ স্বাধীন করতে হবে বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে এ পথ বাতলে দিয়েছিলেন। বাঙালি জাতির মুক্তির পথ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন অনন্তকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে। এ ভাষণ আমাদের মুক্তির মন্ত্র, সংগ্রামের চেতনা, আত্মত্যাগের প্রেরণা।'

অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর (কনস্যুলার) মনসুর আহমেদ তার বক্তৃতায় বলেন, '১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্সে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি যে কোন বিচারেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তো বটেই বিংশ শতাব্দীতে সারা বিশ্বে যতগুলো রাজনৈতিক বক্তৃতা দেয়া হয়েছে তার অন্যতম ও ব্যতিক্রম। ১৯ মিনিটের এই ভাষণে একটি দেশের ইতিহাস জনগণের প্রত্যাশা ও তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের প্রতারণা, তাদের ত্যাগ আগামী দিনের জন্য দিক নির্দেশনা সবই উঠে এসেছে।'

অনুষ্ঠানের মূল আলোচক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননাপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, '৭ই মার্চের ভাষণের সূচনাটি হয়েছিল ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর থেকেই। কলকাতা শহরে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশের সমর্থনে প্রথম সভা হয়। সেই সভায় মোহাম্মদ রিয়াজ, ইলামিত্রসহ বিশিষ্ট গুণী ব্যক্তিগণ বক্তৃতা করেন। ১৯০৯ সালে ভারতের আন্দামানে সেলুলার জেলে মোট বন্দী ছিল ৫৯৬ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল ৪০৬ জন। এখান থেকেই স্বাধীনতার সূত্রপাত হয়েছিল।'

আলোচনার শুরুতে এ উপ-হাইকমিশনের দুইজন কর্মকর্তা যথাক্রমে মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান। এরপর বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :