Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বগুড়ায় উপ-নির্বাচনের মক ভোটে সাড়া নেই

বগুড়ায় উপ-নির্বাচনের মক ভোটে সাড়া নেই
অলস সময় পার করছেন মক নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা, ছবি: বার্তা২৪
গনেশ দাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪ কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক প্রচার প্রচারণাতেও সাড়া পড়েনি ইভিএমের মাধ্যমে মক ভোট। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপ-নির্বাচনে শনিবার (২২ জুন) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৪১টি কেন্দ্রে মক ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মক ভোটে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে গত এক সপ্তাহ ধরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোট কেন্দ্রে ইভিএম প্রদর্শন, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়। কিন্তু কাজে আসেনি নির্বাচন কমিশনের এই প্রচারণা। ভোটকেন্দ্রগুলোতে মাত্র চার থেকে ছয় ভাগ ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

মক ভোট দিতে আসা জাহিদুর রহমান বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ‘আমি টেকনোলজি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা রাখি। তারপরেও ইভিএমএর মাধ্যমে ভোট কিভাবে দেয় এটা দেখতে এসেছি।’

শহরের মালতি নগর এলাকার রোমান নামের একজন ভোটার বলেন, ‘এলাকার ভোটারদের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ভোটকেন্দ্রগুলো ফাঁকা কিন্তু কেউ ভোট দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’

বগুড়া জেলা স্কুল ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবুল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এই ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৯৭৭ জন। দুপুর দুইটা পর্যন্ত মক ভোট দিয়েছেন মাত্র ১৭ জন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/22/1561204658446.JPG
দুই একজন ভোটার মক ভোটে অংশগ্রহণ করেন, ছবি: বার্তা২৪

 

তিনি বলেন, ‘যারা ভোট দিতে এসেছেন তারা ইভিএমে খুব সহজ এবং খুব দ্রুত সময়ে ভোট দিতে পেরে খুশি। বগুড়া-৬ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, শহর এবং গ্রামের চিত্র একই। কেউ আগ্রহ সহকারে ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছেন না। ভোটাররা যে যার কাজে ব্যস্ত।’

বগুড়া পৌরসভার ধরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার লাবণ্য কনা দাস বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘২০৬৪ জন ভোটারের মধ্যে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ১১জন নারী ও ৩৭ জন পুরুষ মক ভোট দিতে আসেন।’

নামুজা ইউনিয়নের নামুজা এসএসআই ফাজিল মাদ্রাসা মহিলা ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হামিদুল আলম বলেন, ‘২ হাজার ১৬০ জন ভোটারের মধ্যে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩২ জন ভোট দিয়েছেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/22/1561204727808.JPG

গোকুল ইউনিয়নের গোকুল তছলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পুরুষ ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল বাকী বলেন, ‘২ হাজার ২৬৩জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৫৭ জন।

তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী টিজামান নিকেতা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মানুষ প্রযুক্তির বিষয়ে আগের থেকে অনেক বেশি জানে। এছাড়াও মোবাইল ফোনেই ইভিএম সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে। এ কারণে মক ভোটে আগ্রহ কম। ভোটের ব্যাপক উপস্থিতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

আপনার মতামত লিখুন :

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ছবি: বার্তা২৪.কম

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস পার হলেও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এদের মধ্যে আট দলকে জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর প্রার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আর এ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন প্রায় এক হাজার ৮৫০ জন। ভোটের পর ১ জানুয়ারি নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করে কমিশন। গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের এবং ৯০ দিনের মধ্যে দলের নির্বাচনী খরচের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই হিসাবে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। আর দলের ক্ষেত্রে সেই সময় শেষ হয় এপ্রিলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় হিসাব ইসিতে জমা দেয়। বাকি ৩৮টি দলকে ৯ জুনের মধ্যে হিসাব জমা দিতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয় ইসি। ওই চিঠির পর ৩০টি দল বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয়। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে তা না দিলে দলগুলোকে সতর্ক করে এক মাসের মধ্যে হিসাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়।

সবমিলিয়ে আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাব জমা দেয়নি।

এদিকে নোটিশের পরও হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আট দলকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৪৪ সিসিসি (৫) অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দলগুলোকে এ নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে কমিশন সচিবালয়। দলগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব আব্দুল হালিম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তাদের আমরা নোটিশ দিয়েছি। তারপরেও অনেকে হিসাব জমা দেয়নি। তাই আইন অনুযায়ী তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।'

আর নির্বাচনে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়ায় ৩৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছে ইসি। আর নাটোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন মৃধা এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিতে সময় চাওয়ায় তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব দেননি। তাদের মধ্যে দুইজন প্রার্থী সময় চেয়ে আবেদন করায় তাদের এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।'

এছাড়াও নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে অডিট রিপোর্ট জমা দিতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরপর তিন বছর কমিশনে এ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির।

এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা জানান, ২০১৮ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করিয়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি দিয়েছে ইসি।

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ মেয়র প্রার্থী, ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনে ভোট কাস্টের আটভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় তিন মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৪ জুন) হবিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে চারজন আওয়ামী লীগ ও একজন বিএনপি নেতা।

নির্বাচনে ৭ হাজার ৬২১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান। নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩ হাজার ২০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৮৭ ভোট।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জের পৌর মেয়র হলেন আ.লীগের মিজান

হবিগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার ৪৭ হাজার ৮২০। এর মধ্যে কাস্ট হয় ২১ হাজার ১১৭ ভোট। কস্টিং ভোটেরে আট ভাগের এক ভাগ ভোট পাননি তিন প্রার্থী। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।

তারা হলেন- বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. ইসলাম তরফদার তনু (মোবাইল ফোন) পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭ ভোট, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান (জগ) পেয়েছেন ৮৮৫ ভোট এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মর্তুজ আলী (চামচ) পেয়েছেন ৩৯০ ভোট।

জেলা রিটানিং অফিসার মো. খোর্শেদ আলম জানান, কাস্টিং ভোটের আটভাগের একভাগ ভোট না ফেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনজন প্রার্থী সেই পরিমাণ ভোট পাননি। তাই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র