Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন 

নলডাঙ্গায় প্রচার বৈষম্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী 

নলডাঙ্গায় প্রচার বৈষম্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী 
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নাটোর


  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিতব্য নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের বাকি আর এক সপ্তাহ। উপজেলার আনাচে-কানাচে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রার্থীদের পোস্টার সাঁটানো থাকলেও উপজেলা ঘুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের আনারস প্রতীকের কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি। অন্যান্য প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে মাইকিং করা হলেও সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে নেই চোখে পড়ার মতো কোনো প্রচারণা।

সোমবার (১০ জুন) নলডাঙ্গা উপজেলা ঘুরে এমন 'প্রচারণা বৈষম্য' লক্ষ্য করা গেছে।

এদিন, দুপুরে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে কথা হয় আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের। নাটোর জর্জকোর্টের ওকালতি পেশায় ব্যস্ত অবস্থায় তিনি ব্যাখ্যা করেন প্রচারণায় না থাকার কারণ। তিনি বলেন, 'একটা মাইক নিয়ে রাস্তায় নামা যাচ্ছে না। পোস্টার লাগাতে গেলে নৌকার কর্মীরা দলবেধে হামলা করছে। এটা নির্বাচনের পরিবেশ নয়। তাই দৃশ্যমান প্রচার নেই আমার।'

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ৫ প্রার্থীই ৪ জনই আওয়ামী লীগ ঘরানার। বাকি একজন জাতীয় পার্টি সমর্থিত। তবে সকলেই সমান তালে প্রচারণা চালাচ্ছেন এখানে।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। তাদের একজন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী মহুয়া পারভীন লিপি। উপজেলা জুড়ে নেই তার একটি পোস্টারও।

তিনি বলেন, 'ভোট প্রার্থনায় মাঠে নামলে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের যে আচরণ সইতে হয় আমার কর্মী-সমর্থকদের, তা প্রমাণ করতে পারব না বলে প্রচারণা চালাতে পারছি না। আপাতত এ ছাড়া আর কিছু বলার নাই।'

নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেয়া বিএনপির দুই চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর আনীত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি বলেন, 'বিগত পাঁচটি বছর উপজেলার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। কিন্তু তিনি এমন কোন কাজ করেননি যে নলডাঙ্গাবাসী তার প্রতি আস্থা রাখবে। অপপ্রচার চালিয়ে সহানুভূতি নিয়ে জেতার চেষ্টা করছেন তারা, যা সফল হবে না।'

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রার্থীরা কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেননি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে যা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছি।’

উল্লেখ্য, আগামী ১৮ই জুন নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় নির্বাচনে ১ লাখ ০৩ হাজার ৪৭৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ছবি: বার্তা২৪.কম

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস পার হলেও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এদের মধ্যে আট দলকে জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর প্রার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আর এ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন প্রায় এক হাজার ৮৫০ জন। ভোটের পর ১ জানুয়ারি নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করে কমিশন। গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের এবং ৯০ দিনের মধ্যে দলের নির্বাচনী খরচের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই হিসাবে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। আর দলের ক্ষেত্রে সেই সময় শেষ হয় এপ্রিলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় হিসাব ইসিতে জমা দেয়। বাকি ৩৮টি দলকে ৯ জুনের মধ্যে হিসাব জমা দিতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয় ইসি। ওই চিঠির পর ৩০টি দল বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয়। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে তা না দিলে দলগুলোকে সতর্ক করে এক মাসের মধ্যে হিসাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়।

সবমিলিয়ে আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাব জমা দেয়নি।

এদিকে নোটিশের পরও হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আট দলকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৪৪ সিসিসি (৫) অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দলগুলোকে এ নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে কমিশন সচিবালয়। দলগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব আব্দুল হালিম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তাদের আমরা নোটিশ দিয়েছি। তারপরেও অনেকে হিসাব জমা দেয়নি। তাই আইন অনুযায়ী তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।'

আর নির্বাচনে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়ায় ৩৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছে ইসি। আর নাটোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন মৃধা এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিতে সময় চাওয়ায় তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব দেননি। তাদের মধ্যে দুইজন প্রার্থী সময় চেয়ে আবেদন করায় তাদের এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।'

এছাড়াও নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে অডিট রিপোর্ট জমা দিতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরপর তিন বছর কমিশনে এ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির।

এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা জানান, ২০১৮ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করিয়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি দিয়েছে ইসি।

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ মেয়র প্রার্থী, ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনে ভোট কাস্টের আটভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় তিন মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৪ জুন) হবিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে চারজন আওয়ামী লীগ ও একজন বিএনপি নেতা।

নির্বাচনে ৭ হাজার ৬২১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান। নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩ হাজার ২০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৮৭ ভোট।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জের পৌর মেয়র হলেন আ.লীগের মিজান

হবিগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার ৪৭ হাজার ৮২০। এর মধ্যে কাস্ট হয় ২১ হাজার ১১৭ ভোট। কস্টিং ভোটেরে আট ভাগের এক ভাগ ভোট পাননি তিন প্রার্থী। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।

তারা হলেন- বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. ইসলাম তরফদার তনু (মোবাইল ফোন) পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭ ভোট, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান (জগ) পেয়েছেন ৮৮৫ ভোট এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মর্তুজ আলী (চামচ) পেয়েছেন ৩৯০ ভোট।

জেলা রিটানিং অফিসার মো. খোর্শেদ আলম জানান, কাস্টিং ভোটের আটভাগের একভাগ ভোট না ফেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনজন প্রার্থী সেই পরিমাণ ভোট পাননি। তাই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র