Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

মসিকের প্রতীক্ষিত ভোটে আবহাওয়াই কি প্রতিপক্ষ?

মসিকের প্রতীক্ষিত ভোটে আবহাওয়াই কি প্রতিপক্ষ?
শনিবার দিনভর ময়মনসিংহ নগরীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে/ ছবি: বার্তা২৪.কম
উবায়দুল হক
বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

জমজমাট প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন রোববারের (৫ মে)। কাঙ্ক্ষিত সেই দিনটির একদিন আগেই ঘূর্ণিঝড় ফণীর ছোবলে বিরূপ আবহাওয়ায় তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

উৎসবের দিনটিতে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়াই কি তাদের মূল প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে কিনা এমন ভাবনাও পেয়ে বসেছে তাদের। ফলে অনবরত প্রার্থনা চলছে, ভোটের সকালটা অন্তত মেঘহীন হোক। এমনটি হলে কেন্দ্রে কেন্দ্রে থাকবে ভোটারের উপস্থিতি।

ভোটের আগের রাতে বার্তা২৪.কম-কে এমনটিই জানিয়েছেন একাধিক কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী।

রোববার (৫ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শনিবার (৪ মে) সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556989396842.gif

ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে নেওয়ার দায়িত্ব প্রার্থীর, সর্বশেষ ময়মনসিংহ সফরকালে এমন বাণীই শুনিয়ে গেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারেই ছুটেছেন সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। কিন্তু ভোটের আগের দিন তাদের আকস্মিক প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে বৈরী আবহাওয়া।

ফণীর আঘাতে উপকূল লণ্ডভণ্ড হলেও ময়মনসিংহ ছিল মুক্ত। কিন্তু বড় দুর্যোগের রেশ বলে কথা! ময়মনসিংহের ওপর দিয়ে ফণী সেখানে আঘাত হানায় শনিবার (৪ মে) দিনমান ময়মনসিংহের আকাশ থেকে অঝোরে বৃষ্টি ঝরেছে। ভোটারদের উদ্ধুদ্ধ করতে প্রার্থীদের সব রকমের পদক্ষেপ বুঝি ম্লান হতে বসেছে প্রকৃতির এই হেয়ালীপনায়।

নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শামছুল হক লিটন বলছিলেন, ‘প্রার্থীরা দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন। ভোটাররাও কথা দিয়েছেন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার। কিন্তু প্রকৃতি যেভাবে বাঁধ সেধেছে এমনটি হলে হতাশায় ডুবতে হবে প্রতিটি প্রার্থীদেরই।’ কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ নিয়েই বলছিলেন এই প্রার্থী।

সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী খোদেজা আক্তার বলেন, ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন ভোটাররা। আবহাওয়া সেই উন্মাদনায় চিড় ধরাতে চাইছে। তবে প্রথম ভোট হওয়ায় সব প্রতিকূলতা পায়ে মাড়িয়ে ঠিকই ছুটবেন প্রার্থীরা।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগেই মেয়র পেয়েছে ময়মনসিংহ মহানগরবাসী। কোনো প্রতিপক্ষ না থাকায় ময়মনসিংহ পৌরসভার শেষ মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু নির্বাচিত হয়েছেন সিটির প্রথম মেয়র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556989425576.gif

প্রথমেই ধারণা করা হয়েছিল, মেয়র পদে ভোট না হওয়ায় প্রচার-প্রচারণা জমবে না। কিন্তু কাউন্সিলর প্রার্থীরা সেই ভুল ভাঙিয়ে দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের স্টাইলেই প্রচারপত্র তৈরি করে ভোটারদের দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন।

নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মুনতাসির সুমন বলছিলেন, ‘ভোটের দিনটি উৎসবমুখর হবে এমন আশা ছিল। কিন্তু আকস্মিক সুপার সাইক্লোন ফণীর আঘাতে ময়মনসিংহের প্রকৃতি বিষণ্ণ। এমন বিষণ্ণ দিন আমরা চাই না। উচ্ছ্বাস নিয়েই ভোটকেন্দ্রে যেতে চাই।’

এ নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৪২ জন এবং সংরক্ষিত ১১ টি ওয়ার্ডে ৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২৭টি ভোটকেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৮ জন।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র