Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

উপজেলা নির্বাচন

রংপুর সদরে নৌকা-লাঙলের জয়

রংপুর সদরে নৌকা-লাঙলের জয়
বিজয়ী হয়েছেন যারা, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে টানা তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও মহিলা যুব লীগের সভাপতি নাছিমা জামান ববি।

রোববার (২৪ মার্চ) রাতে ভোট গণনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সৈয়দ এনামুল কবীর বেসরকারি ফলাফলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মাসুদার রহমান মিলন ও কাজলী বেগম।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী- চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে ৭ হাজার ৩০৬ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন নাছিমা জামান ববি। তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯২৫ ভোট। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী ডাঃ দেলোয়ার হোসেন (হেলিকপ্টার) ১৬ হাজার ৬১৯ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ফারুক মিয়া লাঙল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৩৩৩। জাতীয় পার্টির স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী মাসুদ নবী মুন্না (মোটরসাইকেল) ৫ হাজার ৪১৮ভোট পেয়েছেন।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আতোয়ার রহমান (আম) পেয়েছেন ১ হাজার ৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ আব্দুর রাসেল (আনারস) ১ হাজার ৭৩৭।

অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লাঙল প্রতীকে বিজয়ী জাতীয় পার্টির মাসুদার রহমান মিলন পেয়েছেন ২৫ হাজার ৩৮০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবাদুল ইসলাম চশমা প্রতীকে ১৩ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া জাকের পার্টির প্রার্থী গোলাপ ফুল প্রতীকে আসাদুজ্জামান টিটু পেয়েছেন ১০ হাজার ৩১৪, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল হোসেন তালা প্রতীকে ৮ হাজার ৬০৯ এবং ইসা রুহুল্লা টিউবওয়েল প্রতীকে ৫ হাজার ৮৮ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২২ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী কাজলী বেগম। তিনি পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আর্জিনা বেগম প্রজাপতি প্রতীকে ২০ হাজার ১১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছে।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে রংপুর সদরে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট প্রদান করেছেন ৬৩ হাজার ৪৭৩ জন ভোটার। এই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ১৬১ জন। পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার ৪৭ ভোট কেন্দ্রের ৩৪৪টি কক্ষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে ফল ঘোষণার সাথে সাথে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা বিজয়ী প্রার্থীদের ফুলের মালা পরিয়ে ও মিষ্টি মুখ করে সাধারণ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাছিমা জামান ববি বলেন, ‘নৌকার জয় মানে শেখ হাসিনার জয়। জনগণের জয়, ভালোবাসার জয়। আমাকে পরাজিত করতে অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, কিন্তু জনগণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে। এই জয় বিজয় রংপুর সদর উপজেলার উন্নয়নকামী মানুষের বিজয়।’

 

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র