Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

রংপুরে লাঙ্গল-নৌকার প্রতিপক্ষ বিদ্রোহীরা

রংপুরে লাঙ্গল-নৌকার প্রতিপক্ষ বিদ্রোহীরা
ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

তৃতীয় ধাপে রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামীকাল রোববার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শুক্রবার (২২ মার্চ) প্রচারণার শেষ দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ আর পথসভায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঝড় তুলে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা।

কেউ কাউকে ছাড় না দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে শেষবারের মতো ছুটেছেন ভোট প্রার্থনা নিয়ে। কর্মী-সমর্থকরাও পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে করেছেন ছোট ছোট মিছিল ও গণসংযোগ। যেন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উৎসবে মেতেছিল প্রার্থী-কর্মী ও সমর্থকরা।

রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আটজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন সহ মোট ২০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে চিন্তিত দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা।

রংপুর সদর উপজেলাতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা যুব লীগের সভাপতি নাছিমা জামান ববি। আর মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিএমএ’র সভাপতি ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন।

অন্যদিকে চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া। নৌকার মতো জাতীয় পার্টিতেও বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী রয়েছে। সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ নবী মুন্না হয়েছেন জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী। তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সমর্থনে নির্বাচন করছেন।

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিতে দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে চিন্তিত মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। তারা প্রকাশ্যে কেউ কারো বিরোধিতা না করলেও নির্বাচনী পথসভা ও প্রচার-প্রচারণায় কৌশলে বিদ্রোহীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টিতেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে তৈরি হয়েছে সাময়িক বিভক্তি ও বিরোধ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/23/1553313548037.jpg

মিঠাপুকুর উপজেলাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। তার বিপক্ষে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামী লীগ নেতা মেজবাহুর রহমান মঞ্জুর। শুরুতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়ায় এখন মিঠাপুকুরে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ।

এদিকে সাধারণ ভোটারদের মতে, রংপুর সদরে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াইটা হবে নৌকা ও লাঙ্গলের মধ্যে। সেদিক থেকে কেউ কেউ সদরে নাছিমা জামান ববিকে এগিয়ে রাখছেন। অন্যদিকে মিঠাপুকুরে জাকির হোসেনেরও জয়ের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না ভোটাররা।

তবে শেষ পর্যন্ত কি হবে, তা দেখতে ২৪ মার্চ রোববার রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলছেন প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ মনোনীত রংপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছিমা জামান ববি বলেন, ‘মানুষ উন্নয়ন চায়। শান্তিতে থাকতে চায়। সমৃদ্ধি চায়। যার সবকিছুই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হচ্ছে। এ কারণে সদর উপজেলাবাসী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী নৌকায় ভোট দেবেন।’ এ সময় তিনি জানান, নির্বাচন হস্তক্ষেপ মুক্ত হলে বিপুল ভোটে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে তার।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ নবী মুন্না বলেন, ‘সাধারণ মানুষ দুর্নীতির বিপক্ষে রায় দিতে চায়, কোনো দলের বিপক্ষে নয়। তাই এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন কেন বিষয় নয়? নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমার মোটরসাইকেল প্রতীকের জয় নিশ্চিত। কারণ মানুষ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছে।’

এদিকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ফারুক মিয়া বলেন, ‘রংপুর এরশাদের ঘাঁটি, লাঙ্গলের মাটি। এই মাটিতে লাঙ্গল কখনোই হারেনি। এবার প্রথম দলীয় প্রতীকে উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে। মানুষ ভুল করবে না। সম-উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ঠিকই লাঙ্গলে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন।’

আগামী ২৪ মার্চ রোববার রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর উপজেলাতে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই উপজেলার মধ্যে সদরে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং মিঠাপুকুরে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা। ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র