Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খুলনা-১: ঝোপ বুঝে কোপ মারবে বিএনপি

খুলনা-১: ঝোপ বুঝে কোপ মারবে বিএনপি
খুলনা-১ আসন। ছবি: বার্তা২৪.কম
মানজারুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে খুলনা জেলা। অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে এ জেলা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ৪ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৬৪ বর্গ কিলোমিটারের খুলনা জেলায় মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৩৭ জন। এ জেলায় রয়েছে ৬টি সংসদীয় আসন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি জেলায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে মরিয়া রাজনৈতিক দলগুলো। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়েছেন। এছাড়াও গণসংযোগ করে প্রচারণা শুরু করেছেন।

জানা গেছে, সুন্দরবনের উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ ও শহর লাগোয়া বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে খুলনা-১ আসন গঠিত। জাতীয় সংসদের ৯৯নং আসন এটি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত খুলনা-১ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে এ আসন থেকে নৌকার টিকিট পেতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত নেতাকর্মীরা।

এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় দ্বন্দ্বে এ আসনটি নিজেদের করে নিতে সুযোগ খুঁজছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর কোন্দলে সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি। আওয়ামী লীগের অর্ধ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিপরীতে বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে। বলা যায়, বিএনপি এ আসনে ঝোপ বুঝে কোপ মারার জন্য ঘাপটি মেরে বসে আছে।

এ আসনে গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের দুজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এদের মধ্যে একজন দলীয় প্রার্থী হয়ে, অন্যজন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করেন। এরশাদের শাসনামলের পর থেকে খুলনার ছয় আসনের পাঁচটিতে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। তবে খুলনা-১ আসনটি ঘুরে ফিরে আওয়ামী লীগের হাতেই রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের মতামত, বর্তমানে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক সু-সম্পর্ক নেই। তাই এ আসন থেকে দলীয় একক প্রার্থী দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে এবার বিএনপির কাছে হারতে পারে আওয়ামী লীগ।

খুলনা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় টিকিট পেতে ৬ জন প্রার্থী জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা হলেন- খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দু’বারের সাবেক এমপি শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক এমপি ননী গোপাল মণ্ডল, বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান, দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার উপদেষ্টা শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুল।

আওয়ামী লীগের কোন্দল রোধ করতে না পারলে নিশ্চিত এ আসন রক্ষায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নিজেই নির্বাচন করতে পারেন এমন আলোচনাও রয়েছে দলের ঊর্ধ্বতন মহলে।

অপরদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শুধুমাত্র একজন। বর্তমানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান আগেও দু’বার এ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন, তার ওপরই ভরসা রাখছে বিএনপি।

এছাড়া এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন দলের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হয়ে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করছেন দলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ এবং সিপিবির হয়ে খুলনা-১ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এম এম রুহুল আমিন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, খুলনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৩২৪ জন ও নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ২১৩ জন।

উল্লেখ্য, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের ফলাফল যাচাই করে দেখা যায় এ আসনে মোট ভোটের ৪৭ থেকে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পেয়েছে আওয়ামী লীগ। এছাড়া এ এলাকায় প্রতি নির্বাচনেই সিপিবি, জাকের পার্টি, ইসলামী জাতীয় ঐক্যসহ কয়েকটি ক্ষুদ্র দল অংশ নিলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পায়নি তারা।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে অক্টোবরের শুরুতে ভোটের পরিকল্পনা

এরশাদের আসনে অক্টোবরের শুরুতে ভোটের পরিকল্পনা
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শূন্য ঘোষিত রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনের জন্য অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনকে পরিকল্পনায় রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচনের মতোই উপ-নির্বাচনেও এই আসনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের কথা ভাবছে কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সচিবালয় এরশাদের আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের পর আসনটিতে উপ-নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আজ ইসির ৫০তম সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে আগস্টে ভোটের পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন দিবস উদযাপনের বিষয়টি মাথায় রেখে অক্টোবরের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে ভোট করার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নব্বই দিনের বাধ্যবাধকতা থাকায় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শূন্য হওয়ার দিন থেকেই নব্বই দিন গণনা করা হয়। ফলে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ওই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা আছে।

গত ১৪ জুলাই এইচএম এরশাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৬ জুলাই সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ.ই.ম গোলাম কিবরিয়া আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন।

সংবিধানের ১২৩(৪) দফায় বলা হয়েছে- সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে নব্বই দিনের মধ্যে পদটি পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এ আসনে ইভিএম ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য উপ-নির্বাচনেও ইভিএমে ভোট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইসির প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট ঈদু আজহা, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ২৩ আগস্ট জন্মাষ্টমী এবং আগস্ট মাসরে ৮/৯ তারিখ পবিত্র হজ্জ পালন হবে। আর ৮ অক্টোবর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যে কোনো নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩৫-৪৫ দিন সময়ের প্রয়োজন হয়।

এসব দিক বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের সুবিধাজনক যে কোনো দিন, ১ থেকে ৩ অক্টোবরের অথবা ১০ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রথম দিকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোটের পরিকল্পনা ছিল। ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতার জন্যই সেপ্টেম্বরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বন্যাসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে কমিশন চাইছে অক্টোবরের শুরুর দিকে ভোট করতে। সম্ভাব্য কয়েকটি তারিখ ইতোমধ্যে প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে। কমিশন যেদিন চাইবে সেদিনই ভোট হবে।

নিয়ম অনুযায়ী অক্টোবরে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলে আগস্টের শেষ অথবা ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আর সেপ্টেম্বরের শেষে নির্বাচন করতে হলে ২০ আগস্টের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই আসনে ভোটের সম্ভাব্য কিছু তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্টে ঈদসহ বিশেষ কিছু দিবস ও অনুষ্ঠান আছে। আজকের সভায় রংপুর-৩ আসনের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আসনে ভোটের জন্য আগস্টের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আর অক্টোবরের ৫ তারিখের মধ্যে ভোট হতে পারে।’

উল্লেখ্য, রংপুর-৩ আসনে ১৭৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ১০৯ জন আর মহিলা ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬২ জন।

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট
রুশেমা বেগম, ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপ-নির্বাচন হবে আগামী ১৮ আগস্ট। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৫ জুলাই, বাছাই ২৮ জুলাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ১৮ আগস্ট।

নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসির যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই রুশেমা বেগম মারা যান। এরপর দিন ১১ জুলাই এ আসন শূন্য করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। পরে ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত গেজেট পাঠায় সংসদ সচিবালয়।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী এমপি রুশেমার মৃত্যু

আরও পড়ুন: রুশেমার মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র