Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নড়াইল-১: দখলে রাখতে চায় আ.লীগ, নীরব বিএনপি

নড়াইল-১: দখলে রাখতে চায় আ.লীগ, নীরব বিএনপি
নড়াইল-১ আসন। ছবি: বার্তা২৪.কম
শরিফুল ইসলাম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (৮ নভেম্বর)। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো রয়েছে সংশয়। অপরদিকে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

নড়াইল-১ আসনে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ১৯ হাজার ১১৩ এবং পুরুষ ভোটার রয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৯৩৮ জন।

জানা যায়, নড়াইল-১ আসনটি কালিয়া উপজেলা, একটি পৌরসভা ও সদর উপজেলার কলোড়া, বিছালী, সিঙ্গাশোলপুর, সেখহাটী ও ভদ্রবিলা এ পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইল-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন। এ আসনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী থাকলেও ১৪ দলীয় জোটের প্রায় এক ডজন প্রার্থী মাঠে রয়েছে। কেউ কেউ দলীয় হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলেও দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কোন্দল মেটাতে ব্যর্থ হয়ে নিজেই এ আসনে প্রার্থী হন এবং বিজয়ী হন। শেখ হাসিনা আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে ধীরেন্দ্রনাথ সাহা ৪ দলীয় জোটপ্রার্থী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কবিরুল হক মুক্তি বিজয় লাভ করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে আবারো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কবিরুল হক মুক্তি জয়ী হন।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইল-১ আসনে চলছে প্রচার-প্রচারণা। এ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ আসনে প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাজী সরোয়ার হোসেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের বাসিন্দা মুজাহিদে আজম আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী সদর সাহেব হুজুরের ছেলে গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন।

আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আলোচনা চলছে। আমাকে নৌকা প্রতীক দেবেন তিনি। আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাজী সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছি। আশা করি জননেত্রী আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেবেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, ‘বর্তমান সংসদ সদস্যের দুর্নীতির কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ আসনের মানুষ আর মুক্তি বিশ্বাসকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় না। আমি দলের জন্য কাজ করছি। দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে আছি। আশা করছি নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন।’

বর্তমান সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি বলেন, ‘এলাকার সব উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তায়ন করে যাচ্ছি। দির্ঘদিন যাবৎ এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় তাদের পাশে রয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই দলীয় মনোনয়ন দেবেন।’

অপরদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকেই দলের পক্ষে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে জানা গেছে। বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যে সিদ্ধান্ত নেবে তাতে একমত হয়ে সবাই মিলে কাজ করব।’

আপনার মতামত লিখুন :

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট
রুশেমা বেগম, ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপ-নির্বাচন হবে আগামী ১৮ আগস্ট। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৫ জুলাই, বাছাই ২৮ জুলাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ১৮ আগস্ট।

নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসির যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই রুশেমা বেগম মারা যান। এরপর দিন ১১ জুলাই এ আসন শূন্য করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। পরে ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত গেজেট পাঠায় সংসদ সচিবালয়।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী এমপি রুশেমার মৃত্যু

আরও পড়ুন: রুশেমার মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ছবি: বার্তা২৪.কম

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস পার হলেও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এদের মধ্যে আট দলকে জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর প্রার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আর এ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন প্রায় এক হাজার ৮৫০ জন। ভোটের পর ১ জানুয়ারি নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করে কমিশন। গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের এবং ৯০ দিনের মধ্যে দলের নির্বাচনী খরচের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই হিসাবে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। আর দলের ক্ষেত্রে সেই সময় শেষ হয় এপ্রিলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় হিসাব ইসিতে জমা দেয়। বাকি ৩৮টি দলকে ৯ জুনের মধ্যে হিসাব জমা দিতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয় ইসি। ওই চিঠির পর ৩০টি দল বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয়। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে তা না দিলে দলগুলোকে সতর্ক করে এক মাসের মধ্যে হিসাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়।

সবমিলিয়ে আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাব জমা দেয়নি।

এদিকে নোটিশের পরও হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আট দলকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৪৪ সিসিসি (৫) অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দলগুলোকে এ নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে কমিশন সচিবালয়। দলগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব আব্দুল হালিম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তাদের আমরা নোটিশ দিয়েছি। তারপরেও অনেকে হিসাব জমা দেয়নি। তাই আইন অনুযায়ী তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।'

আর নির্বাচনে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়ায় ৩৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছে ইসি। আর নাটোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন মৃধা এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিতে সময় চাওয়ায় তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব দেননি। তাদের মধ্যে দুইজন প্রার্থী সময় চেয়ে আবেদন করায় তাদের এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।'

এছাড়াও নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে অডিট রিপোর্ট জমা দিতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরপর তিন বছর কমিশনে এ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির।

এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা জানান, ২০১৮ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করিয়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি দিয়েছে ইসি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র