Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বরিশাল-২: আ.লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি!

বরিশাল-২: আ.লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি!
বরিশাল-২ আসন। ছবি: বার্তা২৪.কম
সিদ্দিকুর রহমান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালের সন্ধ্যা নদীর তীরে উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা মিলে গঠিত বরিশাল-২ আসন। উজিরপুরের হারতার শাপলা বিলের জন্য বর্তমানে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিত এই দুই উপজেলা। তাই এখানে যেমন খ্যাতি রয়েছে, তেমনি জেলার অন্যসব সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর তৎপরতায় আলোচনার শীর্ষে রয়েছে বরিশাল-২ আসন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা অনেক। মনোনয়ন দৌড়ে বরিশাল-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস ছাড়াও রয়েছেন সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি, শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহে আলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান খান ও সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক বানারীপাড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল ও বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ক্যাপ্টেন এম. মোয়াজ্জেম হোসেন।

বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বার্তা২৪.কমকে জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আবারো তাকে এই আসনে মনোনয়ন দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

দলীয় মনোনয়ন পেতে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়ে তালুকদার ইউনুস জানান, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল এবং বর্তমানে এ দলটির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তাই একাধিক প্রার্থী থাকতেই পারে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে আশা করেন তিনি।

এদিকে এবার বরিশাল-২ আসনে ভাগ বসাতে চাইছে ১৪ দলের শরিক দল বাংলাদেশ জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জেপি এবং জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী।

অপরদিকে বরিশাল-২ আসনে রয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলটির বানারীপাড়া উপজেলায় রয়েছে আলাদা দুটি কার্যালয়। এতেই দলটির কোন্দল পুরো স্পষ্ট। উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুকে ঘিরেই এই দ্বন্দ্ব। তবে জেলা বিএনপির সমর্থনের ক্ষেত্রে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। তাছাড়া ২০০১ সালে এই আসনে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনোনয়ন চাইলে হিসেব অন্য রকম হতে পারে। এছাড়াও দলের টিকিট নেয়ার চেষ্টায় আছেন সাবেক হুইপ ও সংস্কার পন্থী নেতা সৈয়দ শহীদুল হক জামালও।

বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতা গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার বার্তা২৪.কমকে জানান, সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ভাইয়ের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে দলে একটা বিভেদ তৈরি হয়েছে। দেখা যাচ্ছে যারা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তারা পদবঞ্চিত হয়েছে। এখানে গ্রুপিং বিদ্যমান।

এছাড়া রয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও। ইতোমধ্যে দলটির যুব সংগঠন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা নেছার উদ্দিনের নাম বরিশাল-২ আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বরিশাল-২ আসনের নির্বাচনী পরিসংখ্যান মতে, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হারানত বাইনকে পরাজিত করে এমপি হন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম ফারুক অভি বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে পরাজিত করে এমপি হন। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে পরাজিত করে এমপি হন বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুকে পরাজিত করে এমপি হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম মনি। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে দুর্বল এক প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি নির্বাচিত হন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস।

বরিশাল সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুইটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসনে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১ হাজার ৩৯৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০৮ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৯ জন। এছাড়াও এই আসনটিতে সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬টি।

উল্লেখ্য, ৩৯১ দশমিক ৯১ বর্গ কিলোমিটারের এই দুই উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৮৮০ জন। এছাড়াও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪ জন। এই আসনে ভোটার বেড়েছে ৪২ হাজার ৩৪০ জন।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে অক্টোবরের শুরুতে ভোটের পরিকল্পনা

এরশাদের আসনে অক্টোবরের শুরুতে ভোটের পরিকল্পনা
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শূন্য ঘোষিত রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনের জন্য অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনকে পরিকল্পনায় রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচনের মতোই উপ-নির্বাচনেও এই আসনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের কথা ভাবছে কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সচিবালয় এরশাদের আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের পর আসনটিতে উপ-নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আজ ইসির ৫০তম সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে আগস্টে ভোটের পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন দিবস উদযাপনের বিষয়টি মাথায় রেখে অক্টোবরের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে ভোট করার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নব্বই দিনের বাধ্যবাধকতা থাকায় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শূন্য হওয়ার দিন থেকেই নব্বই দিন গণনা করা হয়। ফলে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ওই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা আছে।

গত ১৪ জুলাই এইচএম এরশাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৬ জুলাই সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ.ই.ম গোলাম কিবরিয়া আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন।

সংবিধানের ১২৩(৪) দফায় বলা হয়েছে- সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে নব্বই দিনের মধ্যে পদটি পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এ আসনে ইভিএম ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য উপ-নির্বাচনেও ইভিএমে ভোট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইসির প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট ঈদু আজহা, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ২৩ আগস্ট জন্মাষ্টমী এবং আগস্ট মাসরে ৮/৯ তারিখ পবিত্র হজ্জ পালন হবে। আর ৮ অক্টোবর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যে কোনো নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩৫-৪৫ দিন সময়ের প্রয়োজন হয়।

এসব দিক বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের সুবিধাজনক যে কোনো দিন, ১ থেকে ৩ অক্টোবরের অথবা ১০ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রথম দিকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোটের পরিকল্পনা ছিল। ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতার জন্যই সেপ্টেম্বরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বন্যাসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে কমিশন চাইছে অক্টোবরের শুরুর দিকে ভোট করতে। সম্ভাব্য কয়েকটি তারিখ ইতোমধ্যে প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে। কমিশন যেদিন চাইবে সেদিনই ভোট হবে।

নিয়ম অনুযায়ী অক্টোবরে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলে আগস্টের শেষ অথবা ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আর সেপ্টেম্বরের শেষে নির্বাচন করতে হলে ২০ আগস্টের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই আসনে ভোটের সম্ভাব্য কিছু তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্টে ঈদসহ বিশেষ কিছু দিবস ও অনুষ্ঠান আছে। আজকের সভায় রংপুর-৩ আসনের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আসনে ভোটের জন্য আগস্টের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আর অক্টোবরের ৫ তারিখের মধ্যে ভোট হতে পারে।’

উল্লেখ্য, রংপুর-৩ আসনে ১৭৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ১০৯ জন আর মহিলা ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬২ জন।

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট
রুশেমা বেগম, ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপ-নির্বাচন হবে আগামী ১৮ আগস্ট। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৫ জুলাই, বাছাই ২৮ জুলাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ১৮ আগস্ট।

নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসির যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই রুশেমা বেগম মারা যান। এরপর দিন ১১ জুলাই এ আসন শূন্য করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। পরে ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত গেজেট পাঠায় সংসদ সচিবালয়।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী এমপি রুশেমার মৃত্যু

আরও পড়ুন: রুশেমার মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র