Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৮ নভেম্বরেই তফসিল ঘোষণা চায় এরশাদ

৮ নভেম্বরেই তফসিল ঘোষণা চায় এরশাদ
৮ নভেম্বরেই তফসিল ঘোষণা চায় এরশাদ, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সবারই কথা বলার অধিকার আছে, দাবি জানানোর অধিকার আছে। সবার কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আপনাদের। আমরা মনে করি, আমাদের সামনে যেটুকু সময় আছে তার মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ পেছানোর কোনো অবকাশ নেই।

বুধবার (৭ নভেম্বর)প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লিখিত বক্তব্যে এমন আহ্বান জানানো হয়।

বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কনফারেন্স রুমে একাদশ জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সভায় আট দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়।

প্রায় দেড় ঘন্টা সফল আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি।

আমরা যতটুকু ধারণা পাচ্ছি- তাতে মনে করছি যে, আগামী মাসের অর্থাৎ ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে আপনারা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তাতে দেখা যাচ্ছে- নির্বাচনের মধ্যে আর ৬ সপ্তাহের মতো সময় আছে। এটা খুবই অল্প সময়। এর মধ্যে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের পার্লামেন্টারী বোর্ড গঠন এবং বোর্ডের মিটিংসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

দলীয় মনোনয়নের আবেদন ফরম বিতরণ, প্রার্থীদের কাছ থেকে আবার তা গ্রহণ করা, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রার্থী মনোনয়নের সুপারিশ গ্রহণ করা, প্রার্থীদের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা ইত্যাদিসহ সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এখনকার একটি ঘন্টার মূল্য একটি সপ্তাহের সময় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা করছিলাম, ৪ নভেম্বর তারিখের মধ্যেই আপনারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। যা হোক, অনিবার্য কারণে হয়তো তা পারেননি। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) তফসিল ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত আছে।

আমরা ইতোমধ্যে এটাও অবগত হয়েছি যে, একটি জোটের পক্ষ থেকে তফসিল ঘোষণার তারিখ পেছানোর দাবী জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন হিসাবে সকল পক্ষের কথা আপনাদের শুনতে হবে, দাবীর কথা শুনতে হবে এটাই স্বাভাবিক।

ইসি ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে। ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তফসিল ঘোষণার তারিখ পেছানোর জোর দাবী জানিয়েছে। এতে তফসিল নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এরশাদ লিখিত প্রস্তাবনায়, মনোনয়নের আবেদন আগের তুলনায় সহজ ও নির্বাচনকে কালো টাকার প্রভাবমুক্ত করা। নির্বাচন কমিশন থেকে একক পোস্টার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাসহ ৮ দফা প্রস্তাবনা জমা দেয়।

আট দফার মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনে অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্বাচনী প্রচারণায় সংঘাত এড়াতে মোটরসাইকেল বা গাড়ি ব্যবহার সীমিত রাখা। নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখা। তবে তাদের হাতে বিচারিক ক্ষমতা না দেওয়া।

ইভিএম আধুনিক ভোটিং পদ্ধতি হলেও সাধারণ ভোটাররা ইভিএম ব্যবহারে এখনও অভ্যস্ত নয়। এটা ব্যবহারে আরও পরীক্ষা-নিরিক্ষার প্রয়োজন আছে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করতে হবে। সর্বপরি নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে এবং সে নিশ্চয়তা নির্বাচন কমিশনকেই দিতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশ ও জাতির সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় উপনীত। আগামী ৫ বছর দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন কতটুকু ঘটবে, তার সোপান রচিত হবে সামনের মাত্র কয়েকটি দিনের মধ্যে। আর এই সময়ের সব দায়-দায়িত্ব আপনাদের ওপর ন্যস্ত। গোটা দেশ এখন তাকিয়ে আছে আপনাদের দিকে। আপনাদের সফলতার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের দেশ ও জাতির সফলতা। সুতরাং এখন আপনাদের সময় অনেক মূল্যবান। তার মধ্যে যে আমাদের সময় দিয়েছেন তার জন্য আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আপনারা নিশ্চয় অবলোকন করছেন যে, দেশের রাজনীতিতে একটা গুণগত পরিবর্তন এসেছে এবং সার্বিকভাবে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বিরাট দূরত্ব ছিলো তা কমে এসেছে। সরকারের সঙ্গে দেশের সব রাজনৈতিক দল বা জোটের সংলাপ হয়েছে। এর ফলে যে মুখ দেখা দেখিও বন্ধ ছিলো, তার অবসান হয়েছে।

পরস্পরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আমাদের সঙ্গেও সরকার পক্ষের সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে হয়তো প্রধানমন্ত্রী সমাপ্ত হয়ে যাওয়া ধারাবাহিক সংলাপের ফলাফল সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করবেন। আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটা সুন্দর এবং সর্বমহলের কাছে গ্রহণযোগ্য উপসংহার শুনতে পাবো।

সরকারের এই মহতি উদ্যোগের সুফল নিশ্চয় নির্বাচন কমিশন উপভোগ করতে পারবে। আমরা মনে করি, সরকার তাদের এই মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে রাজনীতির ময়দানে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন তার ফলে আপনাদের আগামী দিনের চলার পথ অনেক মসৃণ হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট
রুশেমা বেগম, ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপ-নির্বাচন হবে আগামী ১৮ আগস্ট। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৫ জুলাই, বাছাই ২৮ জুলাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ১৮ আগস্ট।

নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসির যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই রুশেমা বেগম মারা যান। এরপর দিন ১১ জুলাই এ আসন শূন্য করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। পরে ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত গেজেট পাঠায় সংসদ সচিবালয়।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী এমপি রুশেমার মৃত্যু

আরও পড়ুন: রুশেমার মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ছবি: বার্তা২৪.কম

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস পার হলেও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এদের মধ্যে আট দলকে জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর প্রার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আর এ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন প্রায় এক হাজার ৮৫০ জন। ভোটের পর ১ জানুয়ারি নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করে কমিশন। গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের এবং ৯০ দিনের মধ্যে দলের নির্বাচনী খরচের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই হিসাবে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। আর দলের ক্ষেত্রে সেই সময় শেষ হয় এপ্রিলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় হিসাব ইসিতে জমা দেয়। বাকি ৩৮টি দলকে ৯ জুনের মধ্যে হিসাব জমা দিতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয় ইসি। ওই চিঠির পর ৩০টি দল বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয়। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে তা না দিলে দলগুলোকে সতর্ক করে এক মাসের মধ্যে হিসাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়।

সবমিলিয়ে আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাব জমা দেয়নি।

এদিকে নোটিশের পরও হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আট দলকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৪৪ সিসিসি (৫) অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দলগুলোকে এ নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে কমিশন সচিবালয়। দলগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব আব্দুল হালিম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তাদের আমরা নোটিশ দিয়েছি। তারপরেও অনেকে হিসাব জমা দেয়নি। তাই আইন অনুযায়ী তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।'

আর নির্বাচনে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়ায় ৩৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছে ইসি। আর নাটোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন মৃধা এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিতে সময় চাওয়ায় তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব দেননি। তাদের মধ্যে দুইজন প্রার্থী সময় চেয়ে আবেদন করায় তাদের এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।'

এছাড়াও নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে অডিট রিপোর্ট জমা দিতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরপর তিন বছর কমিশনে এ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির।

এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা জানান, ২০১৮ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করিয়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি দিয়েছে ইসি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র