Alexa

তফসিলের পর ইন্টারনেটে গুজবের আশঙ্কা

তফসিলের পর ইন্টারনেটে গুজবের আশঙ্কা

ছবি: বার্তা২৪

দেশের রাজনীতিতে জাতীয় নির্বাচনের ডামাঢোল বেজে গেছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ চলছে। এরই মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি চক্র দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ইন্টারনেটে তৎপর হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন গোয়েন্দা বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, নির্বাচনী  স্বাভাবিক পরিবেশকে ধ্বংস করতে ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে সংঘবদ্ধ হচ্ছে একদল ‘নেটিজার’ চক্র। যারা কিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে নির্বাচনের আগে নানা ধরণের গুজব রটানোর পরিকল্পনা করছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, চলমান রাজনৈতিক সংলাপকে বিভিন্ন খাতে ধাবিত করতে ও সংলাপ বানচাল করতে ইতোমধ্যেই তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন চক্র। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে নানা রকম মিথ্যা তথ্য ও ভিডিও ভাইরাল করছে।

এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্থিরচিত্র, সংলাপের ভিডিও ফুটেজ সম্পাদনা করে মিথ্যা তথ্য সংযোজনসহ নানা রকম মিথ্যা পোস্ট করা। যাতে করে সংলাপ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হয় এবং সংলাপ বানচাল হয়ে যায়।

ডিএমপি’র সাইবার সিকিরিউটি ও ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলমান সংলাপকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যে চক্রটি ইন্টারনেটে গুজব ছড়াচ্ছে তাদের মধ্যে কয়েকজনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ সম্প্রতি কয়েকটি আন্দোলনের দাবি সরকার মেনে নেওয়ার পরও একদল নেটিজার চক্র নানা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। সে সময় দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও এসব গুজবের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা বেশামাল হয়ে গিয়েছিল, যাতে সরকার কিছুটা হলেও বেকায়দায় পড়েছিল।’

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, কোটা সংস্কারসহ আরও কয়েকটি আন্দোলনে যেভাবে ইন্টারনেটে গুজব রটানো হয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় জাতীয় নির্বাচনে আগে গুজব রটানো হতে পারে। যাতে করে সুষ্ঠু নির্বাচন  না হতে পারে এবং অরাজকতা সৃষ্টি হয়। ফলে দেশে যারা গণতন্ত্রাতিক পরিবেশ চায় না, তারা এর সুবিধা নিবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই লক্ষ্যে কয়েকটি চক্র সংগঠিত হচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে ইন্টারনেটে নির্বাচনী গুজব তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর শুরু হতে পারে বলেও গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

এ গুজব রুখতে ইতোমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে ডিএমপি’র সাইবার সিকিরিউটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইন্টারনেটের যেসব মাধ্যমে গুজব ছড়াতে পারে সেসব সাইটে ইতোমধ্যেই নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে বিভাগটি। নির্বাচনী গুজব যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না ছড়াতে পারে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভাগটির কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে ডিএমপি’র সাইবার সিকিরিউটি এবং ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো.নাজমুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সংলাপ নিয়ে যারা গুজব রটিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যেই তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন নিয়ে নতুন করে গুজব রটানোর অপচেষ্টা হতে পারে। তবে সকল অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার জন্য ডিএমপি ও সাইবার সিকিরিউটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :