Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

হুয়াওয়ের নতুন অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে যে ১০টি তথ্য জানা উচিত

হুয়াওয়ের নতুন অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে যে ১০টি তথ্য জানা উচিত
হারমনি সম্পর্কে যে ১০ তথ্য, ছবি: সংগৃহীত
টেক ডেস্ক
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি হুয়াওয়ে তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) 'হারমনি' আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে তাদের এই সিস্টেমটি ছাড়তে অনেক বাধা বিপত্তি পেরোতে হয়েছে। বাণিজ্য যুদ্ধ, ভূরাজনীতি এবং নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন পর্যায় পাড়ি দিতে হয়েছে হুয়াওয়েকে।

বাজারে রাজত্ব করা অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম থাকা অবস্থায় হুয়াওয়ের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তবে সেই বাধা পেরিয়ে অবশেষে এই বছরেই আসতে যাচ্ছে 'হারমনি'।

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক হারমনিতে কী কী থাকবে।

১. ২০১৭ তে শুরু

হুয়াওয়ে হারমনি অপারেটিং সিস্টেমের কাজ ২০১৭ সালে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয় ২০১৯ সাল থেকে তাদের স্মার্টোন নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।

হারমনি ভি১.০ বিশেষভাবে লক্ষ্য হচ্ছে স্মার্ট ডিসপ্লে নিয়ে কাজ করা। ২০২০ সালে মাইক্রোকার্নেল ভি২.০ এবং ২০২১ সালে ভি৩.০ সিস্টেম আপডেট করা হবে।

২. অ্যান্ড্রয়েড থেকে হারমনি কেন আলাদা?

হুয়াওয়ের হারমনি মাইক্রোকার্নেল ভিত্তিক, যা অনেকটা গুগলের ফিউশিয়া অপারেটিং সিস্টেমের মতো। তাই গুগল অ্যান্ড্রয়েডের পরিবর্তে ফিউশিয়ার প্রতিদ্বন্বী হিসেবে দেখছে হারমনিকে। আর লিনাক্সের কার্নেল ভিত্তক সিস্টেম থেকে হারমনি অনেক দ্রুত কাজ করবে।

৩. শক্তিশালী নিরাপত্তা

হুয়াওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের অপারেটিং সিস্টেমে কোনো তৃতীয় পক্ষ প্রবেশ করতে পারবে না। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড এবং লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে জানায় হুয়াওয়ে।

৪. ইন্টারনেট অব থিংস প্রোডাক্টেও ব্যবহৃত হবে হারমনি

নতুন এই অপারেটিং সিস্টেম শুধু স্মার্টফোনেই ব্যবহৃত হবে না। ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি প্রোডাক্ট স্মার্ট ওয়াচ, স্মার্ট স্ক্রিন, স্মার্ট স্পিকার এবং গাড়িতেও ব্যবহৃত হবে সিস্টেমটি।

৫. হুয়াওয়ে স্মার্টফোন থেকে সহজেই হারমনিতে শিফট করা যাবে

হুয়াওয়ের বর্তমান ডিভাইসগুলোতে অ্যান্ড্রয়েডের অপারেটিং সিস্টেম চলছে। তবে ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে গ্রাহকরা চাইলে হারমনিতে শিফট করতে পারবেন।

৬. অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাপ চলবে না

হারমনি সিস্টেমে অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না। হুয়াওয়ের নিজস্ব অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে হবে প্রয়োজনীয় সব অ্যাপ।

৭. নিজস্ব অ্যাপ স্টোর

গুগল প্লে স্টোরের পরিবর্তে হুয়াওয়ে হারমনি সিস্টেমের জন্য নিজস্ব অ্যাপ স্টোর তৈরি করছে। যাকে বলা হচ্ছে হুয়াওয়ে অ্যাপ গ্যালারি।

৮. হুয়াওয়ে মেট-৩০ সিরিজ স্মার্টফোনে থাকতে পারে হারমনি

হুয়াওয়ের নতুন অপারেটিং সিস্টেম তাদের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন মেট-৩০ সিরিজে ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

৯. আগামী বছর থেকে ওপেন সোর্স হিসেবে পাওয়া যাবে হারমনি। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের মত উন্মুক্ত ভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেবে হুয়াওয়ে। ধারণা করা হচ্ছে চীনা মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভো, শাওমি, অপো যৌথভাবে একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করতে পারে।

১০. ওপেন সোর্স সুবিধাটি প্রাথমিকভাবে চীনে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করা হবে।

সূত্র: জীসমোচীনা

আপনার মতামত লিখুন :

শক্তিশালী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এআই প্রসেসর নিয়ে এলো হুয়াওয়ে

শক্তিশালী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এআই প্রসেসর নিয়ে এলো হুয়াওয়ে
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রসেসর অ্যাসসেন্ড ৯১০ এবং এআই কম্পিউটিং ফ্রেমওয়ার্ক মাইন্ডস্পোর বাজারে এনেছে।

অ্যাসসেন্ড ৯১০ দা ভিঞ্চি সিস্টেম আর্কিটেকচারের উপর নির্মিত একটি এআই প্রসেসর এবং অসামান্য পারফরম্যান্স সত্ত্বেও, অ্যাসসেন্ড ৯১০ এর সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা ৩১০ ওয়াট, যা আগের পরিকল্পিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধারণাকৃত মাত্রার (৩৫০ওয়াট) চেয়ে অনেক কম।

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের শেনজেনে শুক্রবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নতুন এই প্রসেসরটি বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান এরিক ঝু সহ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।   

এআই অ্যাপ্লিকেশন বিকাশকে আরো সহজ, বিস্তৃত এবং প্রাইভেসি প্রোটেকশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এআই কম্পিউটিং অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালে, হুয়াওয়ে এআই কাঠামোর উন্নয়নের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে। লক্ষ্যগুলি ছিল সহজ বিকাশ, কার্যদক্ষতা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা। মাইন্ডস্পোর, এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হুয়াওয়ের উল্লেখযোগ্য কাজ। যেহেতু, প্রাইভেসি প্রোটেকশন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাই একটি নিরাপদ ও বিস্তৃত এআই ব্যবস্থাপনার জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।

বিংশ শতাব্দীর রেলরোড এবং বিদ্যুৎ এবং একবিংশ শতাব্দীর গাড়ি, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মতই এআইকে শতাব্দীর একটি অন্যতম প্রযুক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছে হুয়াওয়ে।ঝু এর মতে, এআই এখনো বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সত্যিকারের সাধারণ প্রযুক্তিতিতে পরিণত করতে হলে এআই প্রযুক্তিতে বিদ্যমান ব্যবধানগুলি দূর করতে হবে। হুয়াওয়ের এআই স্ট্র্যাটেজিটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন, এই ব্যবধানগুলি দূর করার মাধ্যমে অতি দ্রুত বিশ্বে এই নতুন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়া যায়। 

এর আগে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের শেনজেনে এই নতুন ওপেন-সোর্স এআই কম্পিউটিং ফ্রেমওয়ার্ক, মাইন্ডস্পোর চালু করে হুয়াওয়ে। মাইন্ডস্পোর এমন একটি এআই কম্পিউটিং অবকাঠামো, যা সব ডিভাইস, এজ এবং ক্লাউড এনভাইরনমেন্টসহ সকল পরিস্থিতিতে এআই অ্যাপ্লিকেশনের বিকাশকে সমর্থন করে। এছাড়াও, বাজারে বিদ্যমান নেতৃস্থানীয় ফ্রেমওয়ার্কে ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি) এর জন্য একটি সাধারণ নিউরাল নেটওয়ার্কে যে পরিমানে মূল কোড রয়েছে, সে তুলনায় মাইন্ডস্পোরের কোডের পরিমান ২০ শতাংশ কম। এর ফলে এটি ডেভেলপারদের কর্মদক্ষতাকে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।  

অ্যাসসেন্ড ৯১০ প্রসেসর এআই মডেল ট্রেনিং ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এর একটি পরীক্ষা হিসেবে শুক্রবারের অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি ট্রেনিং সেশনের আয়োজন করা হলে সেখানে দেখা যায় যে, অ্যাসসেন্ড ৯১০ এবং মাইন্ডস্পোর সিস্টেমকে একত্রীকরণ করে এআই মডেল ট্রেনিং এর ক্ষেত্রে যে গতি পাওয়া যায়, তা টেনসরফ্লো এর গতির তুলনায় দ্বিগুণ গতি সম্পন্ন।

এ প্রসঙ্গে হুয়াওয়ের রোটাটিং চেয়ারম্যান এরিক ঝু বলেন, ‘‘অ্যাসসেন্ড ৯১০ আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভাল পারফর্ম করেছে। নিঃসন্দেহে, বিশ্বের অন্য এআই প্রসেসরের তুলনায় এর আরো বেশি কম্পিউটিং শক্তি রয়েছে।” 

৫ বছরে ২০০০ সরকারি সেবা আসবে অনলাইনে

৫ বছরে ২০০০ সরকারি সেবা আসবে অনলাইনে
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন জুনাইদ আহমেদ পলক

ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি ছাড়া ডিজিটাল ইকোনমি সম্ভব নয় উল্লেখ করে আগামী পাঁচ বছরে ৯০ শতাংশ সরকারী সেবা অনলাইনে দেয়া হবে এবং প্রায় ২০০০ নতুন সেবা অনলাইনে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ধানমন্ডি অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সমাবর্তন ২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত দশ বছরে আইসিটিখাতে দশ লাখ জনবলের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আরও দশ লাখ কর্মসংস্থান হবে।’

তিনি বলেন, ‘দশ বছর আগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫৬ লক্ষ। ইন্টারনেটের দাম বেশি হওয়ার কারণে মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারতো না। বর্তমান সরকার এর দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এনেছে। সারা দেশে হাই স্পিড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক্যাল কেবল স্থাপন করা হচ্ছে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যন্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে ৯ কোটিতে পৌঁছেছে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশে শতভাগ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত হবে।’

এসময় তিনি অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ না করে নৈতিকতা ও সততার ওপর ভিত্তি করে নিজেদেরকে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

অক্সফোর্ড ইন্টার ন্যাশনাল স্কুলের সভাপতি  মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুল হক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক জাফর ইকবাল। বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র