Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জানেন কি মাত্র ৩০ বছর আগে বিপ্লব ঘটেছিল নেট দুনিয়ার

জানেন কি মাত্র ৩০ বছর আগে বিপ্লব ঘটেছিল নেট দুনিয়ার
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আজকের দিনে অন্তর্জাল বা ইন্টারনেট ছাড়া যেন আমাদের চলেই না। ইন্টারনেট বললে এর সঙ্গে উঠে আসে www. এই যে www.যা আমাদের নিত্যদিনের অপরিহার্য নেট দুনিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ- তার আসলে বয়স কতো? কলকাতার সংবাদ মাধ্যম বর্তমান বলছে...

যা বেবি দৌড়ে যাবি শিখবি মাল্টিমিডিয়া/ গুবলু গাবলু স্বপ্নে পেল ডব্লু ডব্লু আইডিয়া/ইমেইলে যুক্ত হল হনুলুলু হলদিয়া/দুনিয়া ডট কম দুনিয়া ডট কম দুনিয়া ডট কম...’ বাংলা ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দুর এই গানটি মনে আছে? এক সময় বাঙালির মনে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। তখন কিন্তু ইন্টারনেট এখনকার মতো সহজলভ্য হয়ে হাতের মুঠোয় আসেনি। ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পেতে গেলে তখন ভরসা বলতে ছিল সাইবার ক্যাফে বা বাবা-দাদাদের অফিস। মোটামুটি এই অবস্থাই ছিল দুই বাংলার বাঙালির।

তবে ডব্লু ডব্লু আইডিয়া -কে গবেষকরা এক সুতোয় বেঁধে যে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছিলেন তা ভালোই টের পাওয়া গিয়েছিল। তা না হলে হনুলুলুর সঙ্গে হলদিয়ার যোগসূত্র কীভাবেই বা স্থাপিত হলো! আজ থেকে ৩৩ বছর আগে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী তথা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার স্যার টিম বার্নার্স লি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তথ্যকে এক জায়গায় এনে অ্যাক্সেস বা ব্যবহার করার কাজটি করেছিলেন।

দিনটি ছিল ১৯৮৯ সালে ১২ মার্চ, সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব অর্থাৎ ডব্লু ডব্লু ডব্লু (www), এ বছর ৩০ বছর পূর্ণ করলো। ন’য়ের দশকে বিশ্বব্যাপী তথ্যের ভাণ্ডার সৃষ্টির পর আমাজন, টেমস, পদ্মা বা গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে বহু পানি। আজ ব্যাপক অগ্রগতি ঘটেছে সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি বা ইন্টারনেটের। কিন্তু, ১৯৮৯ সালে আজকের এই ডব্লুডব্লুডব্লু তৈরির কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। এক কথায় কাজের জগতে হতাশা থেকেই তৈরি হয়েছিল এই www.

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক হওয়ার পর ‘সার্ন’-এর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ দেন বার্নার্স লি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত সার্ন -এর এই প্রধান দপ্তর। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীরা গবেষণার জন্য আজওে এখানে আসেন। কিন্তু সে সময় বার্নার্স লি লক্ষ করেন, তথ্য আদান প্রদানের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গবেষকদের।

কারণ, সে সময়টা বিভিন্ন তথ্য আলাদা করে প্রতিটা কম্পিউটারে রাখা থাকত। আর তা পেতে গেলে আলাদা আলাদা কম্পিউটার লগ অন করতে হত গবেষকদের। যার জেরে কাজের সময় নষ্ট হত। আর এর থেকেই আসে বিরক্তি। বলা যায় একপ্রকার হতাশা। বার্নার্স লির কথায়, এর থেকে বেশি সহজ ছিল কফি পানের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান প্রদান করে নেওয়া। আর এই বিরক্তি থেকেই ১৯৮৯ সালের ৪ মার্চ তার প্রধান মাইক সেন্ডেলের কাছে একটি প্রস্তাব জমা দেন বার্নার্স লি। সেটিই ছিল আজকের ডব্লুডব্লুডব্লু তৈরি করার ইনফরমেশন। ম্যনেজমেন্ট প্রস্তাবটি পড়ে সেদিন কিছু আঁচ করতে পারেননি। শুধু লিখেছিলেন, অস্পষ্ট হলেও রোমাঞ্চকর। আর সেই নোটের শেষে লেখা ছিল, অ্যান্ড নাও? অতএব এরপর কী?

এরপরেই সহকর্মীদের নিয়ে হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ (এইচটিএমএল) লিখতে শুরু করলেন বার্নার্স লি। তৈরি করা হল হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল (এইচটিটিপি)। আর ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর (ইউআরএল)-কে ভর করে ১২ মার্চ আত্মপ্রকাশ করল www। এরপর ১৯৯১ সালে তৈরি হল প্রথম ওয়েবসাইট, যা আজও অনলাইন রয়েছে। info.cern.ch. তবে ওয়েবসাইট সার্চ করতে গেলে তো ব্রাউজার প্রয়োজন। বার্নার্স-লি ও তাঁর টিম ১৯৯২ সালে তৈরি করল প্রথম ওয়েব ব্রাউজার বা পেজ এডিটর। নাম ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ডট অ্যাপ। যা আজকের মতো ঝাঁ চকচকে ছিল না।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো ডব্লুডব্লুডব্লু আর ইন্টারনেট কিন্তু এক নয়। স্বয়ং স্রষ্টা বার্নার্স লি নিজেই এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ইন্টারনেট হল, অসংখ্য কম্পিউটার একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে তৈরি একটি সুবিশাল নেটওয়ার্ক। যার অস্তিত্ব ডব্লুডব্লুডব্লু জন্মের বহু আগে থেকে রয়েছে। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হল, এইচটিএমএল, ইউআরএল এবং এইচটিটিপি দিয়ে তৈরি একটি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন।

তবে, আজকের এই নেট দুনিয়া কখনই চাননি স্যার লি। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক লাভের জন্য মুষ্টিমেয় কয়েকটি সংস্থা ফায়দা তুলছে, সেই লক্ষ্য নিয়ে কখনই ওয়েব তৈরি করেননি তিনি। ২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে ওয়েব স্রষ্টা বলেছেন, বৈষম্য ও বিভাজনের ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে এই ওয়েব। ক্ষমতাশালীরা তাদের নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে তাকে ব্যবহার করছে। আমি সর্বদা মনে করি, ওয়েব হল সবার জন্য। যে পরিবর্তন আমরা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি, তা আরও ভালো ও সুসংবদ্ধ পৃথিবী তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

বুধবার ‘পরিচয়’ গেটওয়ে উদ্বোধন করবেন জয়

বুধবার ‘পরিচয়’ গেটওয়ে উদ্বোধন করবেন জয়
ছবি: সংগৃহীত

সহজে এবং দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের গেটওয়ে ‘porichoy.gov.bd’ উদ্বোধন হবে বুধবার (১৭ জুলাই)। এদিন বিকেল ৩টায় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সেবা সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

‘পরিচয়’ হচ্ছে একটি গেটওয়ে সার্ভার, যা নির্বাচন কমিশনের জাতীয় ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত। এটি এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং যা সরকারি, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত যে কোনো সংস্থার গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করে নিমিষেই সেবা দিতে পারবে। এনআইডি যাচাই করার জন্য এখন থেকে আর আগের মতো ৩-৫ কর্মদিবস অপেক্ষা করতে হবে না।

বর্তমান প্রক্রিয়ায়, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে লগইন করে সংস্থাগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ম্যানুয়ালি যাচাই করে থাকে। আবার অনেক সংস্থা এনআইডি যাচাইকরণও করে না, কারণ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ডাটাবেজের অ্যাক্সেস তাদের নেই। যা গ্রাহকদের জাল বা সঠিক আইডি যাচাই করার জন্য অনুমতি দেয়। কিন্তু ‘পরিচয় গেটওয়ে’ ব্যবহার করলে জাতীয় আইডি যাচাই করার জন্য কোন মানুষের প্রয়োজন নেই। যেকোনো প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘পরিচয় গেটওয়ে’ সার্ভারের সাথে সংযোগ স্থাপন করলে জাতীয় আইডি সনাক্তের ফলাফল সাথে সাথেই পাওয়া যাবে।

এর ফলে যারা এখন ব্যাংক একাউন্ট খোলা, ডিজিটাল ওয়ালেট একাউন্ট খোলা বা যে কাজগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় তারা খুব উপকৃত হবে। তাদের জন্য অনেক সহজ ও সময় সাশ্রয় হবে।

‘পরিচয় গেটওয়ে’ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের খরচ কমিয়ে কাজকে দ্রুত করবে।

নোকিয়া ৩.২ ও ২.২ বাংলাদেশের বাজারে

নোকিয়া ৩.২ ও ২.২ বাংলাদেশের বাজারে
নোকিয়া ৩.২ ও ২.২ স্মার্টফোন এখন বাংলাদেশের বাজারে/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশের বাজারে যাত্রা শুরু করল নোকিয়া ৩.২ ও নোকিয়া ২.২ নামের নতুন দুটি সর্বাধুনিক স্মার্টফোন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর লা ভিঞ্চি হোটেলে নোকিয়া ফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এইচএমডি গ্লোবালের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দুটি নতুন স্মার্টফোনের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতের ঘোষণা দেয়া হয়।

স্মার্টফোন দুটির উন্মোচন অনুষ্ঠানে এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস ফারহান রশিদ বলেন, মোবাইল ফোন প্রযুক্তির সর্বশেষ এবং অসাধারণ উদ্ভাবনগুলো থাকা উচিত সবার হাতের নাগালে। তাই নেকিয়া ২.২ এর বিশেষ ফিচারগুলোর মধ্যে আছে বায়োমেট্রিক ফেইস আনলক, এআই ইমেজিং, সেরফি নচ, গুগল লেন্স এবং ডেডিকেটেড গুগল এসিসটেন্ট বাটন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563272970908.jpg

এ সকল ফিচারের মাধ্যমে নোকিয়া আনতে চায় হ্যান্ডসেট ব্যবহারের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন, যোগ করেন তিনি।

নোকিয়া ৩.২ স্মার্টফোনটি সম্পর্কে ফারহান রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত নোকিয়ার স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে সবথেকে বড় ডিসপ্লে হচ্ছে নোকিয়া ৩.২ ফোনটির ডিসপ্লে। চোখের উপর বাড়তি চাপ ছাড়া যার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ সেরে নেয়া যাবে । নিরাপত্তার জন্য ফোনটির পিছনে থাকছে ফিঙ্গার ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

এছাড়াও ৩.২ ফোনটিতে আছে নোটিফিকেশন লাইট, যা দিবে প্রতিটি নোটিফিকেশনের সংকেত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563272985657.jpg

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস ফারহান বলেন, ফোন দুটির কনফিগারেশন ও দামে ভিন্নতা রয়েছে। দুটি ফোনই পাওয়া যাবে সেরা দামে। নোকিয়া ৩.২ (৩/৩২ জিবি) ১৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, নোকিয়া ২.২ (২/১৬ জিবি) ১০ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং নেকিয়া ২.২ (৩/৩২ জিবি) ১২ হাজার ৯৯৯ টাকায়।

নোকিয়া ৩.২ হ্যান্ডসেটটিতে একবার ফুল চার্জ দিলে দুই দিন পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।

ফারহান রশিদ আরও বলেন, বাজারে নোকিয়া ৩.২ এক্সক্লুসিভলি শুধুমাত্র দারাজ.কম এ পাওয়া যাবে। আনুষ্ঠানিক এ উন্মোচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন বিপণন কেন্দ্রে পাওয়া যাবে নোকিয়া ২.২।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন  গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল কবির, দারাজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদল হক, এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশের মার্কেটিং লিড ইফফাত জহুরসহ প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র