Alexa

জানেন কি মাত্র ৩০ বছর আগে বিপ্লব ঘটেছিল নেট দুনিয়ার

জানেন কি মাত্র ৩০ বছর আগে বিপ্লব ঘটেছিল নেট দুনিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

আজকের দিনে অন্তর্জাল বা ইন্টারনেট ছাড়া যেন আমাদের চলেই না। ইন্টারনেট বললে এর সঙ্গে উঠে আসে www. এই যে www.যা আমাদের নিত্যদিনের অপরিহার্য নেট দুনিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ- তার আসলে বয়স কতো? কলকাতার সংবাদ মাধ্যম বর্তমান বলছে...

যা বেবি দৌড়ে যাবি শিখবি মাল্টিমিডিয়া/ গুবলু গাবলু স্বপ্নে পেল ডব্লু ডব্লু আইডিয়া/ইমেইলে যুক্ত হল হনুলুলু হলদিয়া/দুনিয়া ডট কম দুনিয়া ডট কম দুনিয়া ডট কম...’ বাংলা ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দুর এই গানটি মনে আছে? এক সময় বাঙালির মনে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। তখন কিন্তু ইন্টারনেট এখনকার মতো সহজলভ্য হয়ে হাতের মুঠোয় আসেনি। ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পেতে গেলে তখন ভরসা বলতে ছিল সাইবার ক্যাফে বা বাবা-দাদাদের অফিস। মোটামুটি এই অবস্থাই ছিল দুই বাংলার বাঙালির।

তবে ডব্লু ডব্লু আইডিয়া -কে গবেষকরা এক সুতোয় বেঁধে যে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছিলেন তা ভালোই টের পাওয়া গিয়েছিল। তা না হলে হনুলুলুর সঙ্গে হলদিয়ার যোগসূত্র কীভাবেই বা স্থাপিত হলো! আজ থেকে ৩৩ বছর আগে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী তথা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার স্যার টিম বার্নার্স লি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তথ্যকে এক জায়গায় এনে অ্যাক্সেস বা ব্যবহার করার কাজটি করেছিলেন।

দিনটি ছিল ১৯৮৯ সালে ১২ মার্চ, সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব অর্থাৎ ডব্লু ডব্লু ডব্লু (www), এ বছর ৩০ বছর পূর্ণ করলো। ন’য়ের দশকে বিশ্বব্যাপী তথ্যের ভাণ্ডার সৃষ্টির পর আমাজন, টেমস, পদ্মা বা গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে বহু পানি। আজ ব্যাপক অগ্রগতি ঘটেছে সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি বা ইন্টারনেটের। কিন্তু, ১৯৮৯ সালে আজকের এই ডব্লুডব্লুডব্লু তৈরির কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। এক কথায় কাজের জগতে হতাশা থেকেই তৈরি হয়েছিল এই www.

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক হওয়ার পর ‘সার্ন’-এর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ দেন বার্নার্স লি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত সার্ন -এর এই প্রধান দপ্তর। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীরা গবেষণার জন্য আজওে এখানে আসেন। কিন্তু সে সময় বার্নার্স লি লক্ষ করেন, তথ্য আদান প্রদানের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গবেষকদের।

কারণ, সে সময়টা বিভিন্ন তথ্য আলাদা করে প্রতিটা কম্পিউটারে রাখা থাকত। আর তা পেতে গেলে আলাদা আলাদা কম্পিউটার লগ অন করতে হত গবেষকদের। যার জেরে কাজের সময় নষ্ট হত। আর এর থেকেই আসে বিরক্তি। বলা যায় একপ্রকার হতাশা। বার্নার্স লির কথায়, এর থেকে বেশি সহজ ছিল কফি পানের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান প্রদান করে নেওয়া। আর এই বিরক্তি থেকেই ১৯৮৯ সালের ৪ মার্চ তার প্রধান মাইক সেন্ডেলের কাছে একটি প্রস্তাব জমা দেন বার্নার্স লি। সেটিই ছিল আজকের ডব্লুডব্লুডব্লু তৈরি করার ইনফরমেশন। ম্যনেজমেন্ট প্রস্তাবটি পড়ে সেদিন কিছু আঁচ করতে পারেননি। শুধু লিখেছিলেন, অস্পষ্ট হলেও রোমাঞ্চকর। আর সেই নোটের শেষে লেখা ছিল, অ্যান্ড নাও? অতএব এরপর কী?

এরপরেই সহকর্মীদের নিয়ে হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ (এইচটিএমএল) লিখতে শুরু করলেন বার্নার্স লি। তৈরি করা হল হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল (এইচটিটিপি)। আর ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর (ইউআরএল)-কে ভর করে ১২ মার্চ আত্মপ্রকাশ করল www। এরপর ১৯৯১ সালে তৈরি হল প্রথম ওয়েবসাইট, যা আজও অনলাইন রয়েছে। info.cern.ch. তবে ওয়েবসাইট সার্চ করতে গেলে তো ব্রাউজার প্রয়োজন। বার্নার্স-লি ও তাঁর টিম ১৯৯২ সালে তৈরি করল প্রথম ওয়েব ব্রাউজার বা পেজ এডিটর। নাম ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ডট অ্যাপ। যা আজকের মতো ঝাঁ চকচকে ছিল না।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো ডব্লুডব্লুডব্লু আর ইন্টারনেট কিন্তু এক নয়। স্বয়ং স্রষ্টা বার্নার্স লি নিজেই এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ইন্টারনেট হল, অসংখ্য কম্পিউটার একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে তৈরি একটি সুবিশাল নেটওয়ার্ক। যার অস্তিত্ব ডব্লুডব্লুডব্লু জন্মের বহু আগে থেকে রয়েছে। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হল, এইচটিএমএল, ইউআরএল এবং এইচটিটিপি দিয়ে তৈরি একটি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন।

তবে, আজকের এই নেট দুনিয়া কখনই চাননি স্যার লি। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক লাভের জন্য মুষ্টিমেয় কয়েকটি সংস্থা ফায়দা তুলছে, সেই লক্ষ্য নিয়ে কখনই ওয়েব তৈরি করেননি তিনি। ২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে ওয়েব স্রষ্টা বলেছেন, বৈষম্য ও বিভাজনের ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে এই ওয়েব। ক্ষমতাশালীরা তাদের নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে তাকে ব্যবহার করছে। আমি সর্বদা মনে করি, ওয়েব হল সবার জন্য। যে পরিবর্তন আমরা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি, তা আরও ভালো ও সুসংবদ্ধ পৃথিবী তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

টেক এর আরও খবর