Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

শেষ মুহূর্তে দম ফেলার সময় নেই কুমিল্লার কামারদের

শেষ মুহূর্তে দম ফেলার সময় নেই কুমিল্লার কামারদের
কুমিল্লার কামার পট্টিতে কাজ করছেন কারিগররা। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।
জাহিদ পাটোয়ারী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
কুমিল্লা


  • Font increase
  • Font Decrease

টুং টাং শব্দে মুখরিত কুমিল্লার কামার পট্টি। এই শব্দই জানান দিচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা সন্নিকটে। ঈদের আর মাত্র ২ দিন বাকি। তাই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দিন-রাত সমান তালে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমিল্লার কামার শিল্পীরা।

শনিবার (১০ আগস্ট) নগরীর চকবাজার কামার পট্টিতে সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। গত একমাস ধরেই তারা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দা, ছুরি, বঁটি তৈরি ও মেরামতের কাজ করছেন। সময় যত ঘনিয়ে আসছে বেচা-কেনাও বাড়ছে তাদের। শেষ মুহূর্তে দম ফেলার সময় নেই কামারদের।

কুমিল্লা নগরীর বেশ কয়েকটি কামারের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি দোকানে ৩-৪ জন কর্মকার কোরবানির গরু কাটার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত। শুধু তাই নয়, নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে কুমিল্লা মহানগরীর চকবাজার, রাণীর বাজার, পদুয়ার বাজার, চৌয়ারা বাজার এবং জেলার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, সদর দক্ষিণ, চান্দিনা, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, দাউদকান্দি, হোমনা, তিতাস ও মেঘনা উপজেলার কামার শিল্পীদের একই দৃশ্য।

টাঙানো মূল্য তালিকা থেকে জানা যায়, পুরনো দা, বঁটি ঝালাই দিতে মজুরি ৪০ থেকে ১২৫ টাকা। গরু জবাইয়ের বড় ছুরি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা, চাপাতি পাওয়া যায় ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। নিজেরা লোহা সরবরাহ করলে মজুরি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, প্রতি পিস বঁটি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দা ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/10/1565444751939.jpg

চকবাজার কামার পট্টিতে নূর উদ্দিন মজুমদার নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছর কোরবানির গরু কাটার সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি। গত বছর গরু জবাইয়ের বড় ছুরি ক্রয় করেছি ৪০০ টাকায়। এ বছর একই ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকায়।’

রাখাল কর্মকার নামের এক ব্যবসায়ী জানান, কামার শিল্পীদের দৈনিক মজুরি ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গরু কাটার সরঞ্জাম।

চকবাজার কামার পট্টিসহ প্রতিটি দোকানে এখন দৈনিক গড়ে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ মৌসুমে প্রতি দোকান মালিক প্রায় লাখ টাকার মতো আয় করবেন। আর কামার শিল্পীরা ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা রোজগার করেন বলে জানা যায়। সারা বছর কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা তেমন দেখা না গেলেও কোরবানির ঈদ এলে ব্যস্ততা বেড়ে যায় অনেক বেশি।

একাধিক কামার শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারা বছর মাংস কাটার দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি প্রভৃতি বিক্রি করে যে ব্যবসা হয়, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ব্যবসা হয় কোরবানির ঈদে।

উত্তম কর্মকার নামে এক কামার শিল্পী জানান, এ কাজ তারা ব্রিটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে করে আসছেন। এ পেশায় বর্তমানে যারা রয়েছেন তারা বেশিরভাগই বাপ-দাদার ব্যবসাকে আঁকড়ে ধরে আছেন।

তবে রঞ্জিত বাবু নামে আরেক কামার শিল্পী জানালেন ভিন্ন কথা। তার মতে, বর্তমানে এই পেশাটি অনেকটা মৌসুমি হয়ে গেছে। যার কারণে অনেকে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

নারায়ণগঞ্জে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

নারায়ণগঞ্জে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি পোশাক কারখানার স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। নিহত বাস  চালক (দুরন্ত বাস) মেহেদী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। 

শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-শিমরাইল সড়কের বার্মাশিল এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে বাস চালক মেহেদীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাস্তায় প্রায় আধা ঘণ্টা তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566628465553.jpg

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-শিমরাইল সড়কের দুরন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস চাষাঢ়ার দিকে যাচ্ছিল আর বিপরীত দিক থেকে নীট কনসার্ন নামে পোশাক কারখানার বাস শিমরাইলের দিকে যাচ্ছিল। দুইটি বাস বার্মাশিল এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের চালক সহ অন্তত ১০জন আহত হয়। শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ বাস দুটি রাস্তা থেকে সরিয়ে যানজট মুক্ত করে। স্থানীয়রা জানিয়েছে উভয় বাসের ১০জন যাত্রী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুরন্ত পরিবহনের চালক সহ আরো একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষনিক আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভাড়ানি খাল রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ভাড়ানি খাল রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

বরগুনায় ভাড়ানি খাল রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযান শুরু হয়। এ সময় বরগুনা ভাড়ানি খালের মাছ বাজার ব্রিজের পশ্চিম অংশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566628110718.jpg

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন- সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনিচুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া তাসমিন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন জানান, খালটি রক্ষায় এ উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566628193901.jpg

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে মানববন্ধন, মিছিল, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিল। স্থানীয়দের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চ বরগুনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) খাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র