Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-কৃষি জমি

গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-কৃষি জমি
গড়াই নদীর ভাঙনের কবলে বসতভিটা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঝিনাইদহ


  • Font increase
  • Font Decrease

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গড়াই নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে ছয়টি গ্রাম। এই ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়ি-ঘর, মসজিদ, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। বছরের পর বছর ধরে এই নদী ভাঙছে কিন্তু তা রোধে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন নদী তীরের মানুষ।

সরেজমিনে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়ুলিয়া, কৃষ্ণনগর, মাদলা, মাঝদিয়া, উলুবাড়িয়া ও নলখোলা গ্রামে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও জমি। এক সময় এখানে ছিল চাষের জমি, ছিল রাস্তা ঘাট।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/10/1565443984615.jpg

গত কয়েক বছরের নদী ভাঙনে এসব গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতবাড়ি হারিয়ে ছিন্নমূল হয়েছেন গ্রামের প্রায় আশি ভাগ মানুষ। ২০১২ সালে ভাঙন রোধে কিছু অস্থায়ী কাজ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরোলেও ভাঙন রোধে নেওয়া হয়নি কোনো অস্থায়ী বা স্থায়ী ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন: জাগ দেওয়ার পানির অভাবে ঝিনাইদহে চিন্তিত পাটচাষিরা

চলতি মৌসুমে নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোথাও ফসলি জমি, আবার কোথাও বসতভিটা বা মসজিদ ভেঙে যাচ্ছে। প্রতিদিনই পাল্টাচ্ছে ভাঙনের চিত্র। অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে পাশ্ববর্তী জিকে সেচ খালের জমিতে আবার কেউ সব হারিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্যত্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/10/1565444021036.jpg

বড়ুলিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল খান জানান, কয়েক বছর ধরে এ গ্রামের চার ভাগের তিন ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওয়াপদা থেকে লোক আসে। এমপি ও মন্ত্রী সবাই আসে, কিন্তু কাজ হয় না। কয়েক বছর আগে কিছুটা বাঁধ দিয়েছিল তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এবার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাই বাঁধ নির্মাণ করা খুবই জরুরি।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে ভেঙে পড়লো নির্মাণাধীন ব্রিজের গার্ডার

একই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত রফি উদ্দিন জানান, আট বছর আগেও তার আবাদি জমি ছিল প্রায় ১০ বিঘা। গড়াই নদীতে ভাঙন শুরু হওয়ার পর বছরের পর বছর সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শেষ সম্বল ছিল বসত বাড়ি। এবারের ভাঙনে সেটিও আর নেই। এখন পরের জমিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনো রকম দিন কাটছে। দ্রুত এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ জরুরি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/10/1565444035100.jpg

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান সুজন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে আমরা জরুরি প্রস্তাব প্রেরণ করছি। গত মার্চ মাসে একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’

এদিকে, জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ভাঙনের কবলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের ত্রাণসহ আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গড়াই নদী ঝিনাইদহের শৈলকুপা অংশে প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রবাহিত। আর এই এলাকার মধ্যে ছয়টি গ্রামে প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস। গত ১০ বছরে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

নারায়ণগঞ্জে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

নারায়ণগঞ্জে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি পোশাক কারখানার স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। নিহত বাস  চালক (দুরন্ত বাস) মেহেদী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। 

শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-শিমরাইল সড়কের বার্মাশিল এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে বাস চালক মেহেদীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাস্তায় প্রায় আধা ঘণ্টা তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566628465553.jpg

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-শিমরাইল সড়কের দুরন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস চাষাঢ়ার দিকে যাচ্ছিল আর বিপরীত দিক থেকে নীট কনসার্ন নামে পোশাক কারখানার বাস শিমরাইলের দিকে যাচ্ছিল। দুইটি বাস বার্মাশিল এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের চালক সহ অন্তত ১০জন আহত হয়। শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ বাস দুটি রাস্তা থেকে সরিয়ে যানজট মুক্ত করে। স্থানীয়রা জানিয়েছে উভয় বাসের ১০জন যাত্রী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুরন্ত পরিবহনের চালক সহ আরো একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষনিক আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভাড়ানি খাল রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ভাড়ানি খাল রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

বরগুনায় ভাড়ানি খাল রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযান শুরু হয়। এ সময় বরগুনা ভাড়ানি খালের মাছ বাজার ব্রিজের পশ্চিম অংশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566628110718.jpg

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন- সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনিচুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া তাসমিন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন জানান, খালটি রক্ষায় এ উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566628193901.jpg

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে মানববন্ধন, মিছিল, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিল। স্থানীয়দের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চ বরগুনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) খাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র