Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিষখালী নদীর বাঁধ ভেঙে ৫ গ্রাম প্লাবিত

বিষখালী নদীর বাঁধ ভেঙে ৫ গ্রাম প্লাবিত
বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বরগুনা


  • Font increase
  • Font Decrease

বরগুনার বেতাগীতে বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়েছে শতাধিক পরিবার। পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের ছোট মোকামিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে ওই ইউনিয়নের ছোট মোকামিয়া, কেওড়াবুনিয়া, ঝিলবুনিয়া, হাট মোকামিয়া, বড় মোকামিয়া গ্রাম এবং বেতাগী সদর ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

শনিবার (১০ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধ ভেঙে বিষখালী নদীর পানি ধানক্ষেতে প্রবেশ করে আউশ, ইরি ও আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ছোট মোকামিয়া গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন জানান, জমিতে পানি প্রবেশ করায় আধাপাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

একই গ্রামের বাসিন্দা মো. জয়নাল জানান, হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। এমনকি রান্না করতে না পারায় অনাহারে রয়েছেন।

মোকামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সুজন মল্লিক জানান, পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাজিব আহসান জানান, বাঁধ মেরামতের কাজ আগামীকাল থেকে শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি ইয়াবা সরবরাহ, গ্রেফতার

শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি ইয়াবা সরবরাহ, গ্রেফতার
ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃত নারী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

শ্বশুরবাড়ি হিলি সীমান্ত এলাকা থেকে বাবার বাড়ি বগুড়া শহরে ইয়াবা সরবরাহ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন খাইরুন্নেছা ওরফে খালেদা (৪৭)।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শহরের ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে মাটিডালী মোড় থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, খালেদার বাবার বাড়ি বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ায়। বিয়ে হয়েছে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর (হিলি) থানার নওনাপাড়া গ্রামের মরফিদুল ওরফে মহিদুলের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই খালেদা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৮ সালে হাকিমপুর থানা পুলিশের হাতে মাদকসহ ধরা পড়েন তিনি। কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে কৌশল পাল্টায় খালেদা। এলাকায় মাদক ব্যবসা না করে হিলি সীমান্ত থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে এসে বগুড়ায় বাবার বাড়ি এলাকায় সরবরাহ করতে থাকেন। প্রতি মাসেই একবার বগুড়ায় আসেন মাদকের চালনা পৌঁছাতে।

ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘অনেকদিন ধরে খালেদাকে ধরার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু বার বার কৌশল পরিবর্তন করায় তাকে ধরা যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার পুলিশে পাতা ফাঁদে ধরা পড়ে খালেদা। এ সময় তার কাছে ৩০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। গ্রেফতারের পর খালেদা পুলিশের কাছে তার মাদক ব্যবসার কৌশল বর্ণনা করে।’

তার নামে বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বচ্ছ নির্বাচনে উদাহরণ তৈরি করল পোশাক শ্রমিকরা

স্বচ্ছ নির্বাচনে উদাহরণ তৈরি করল পোশাক শ্রমিকরা
ভোট দিচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাজীপুর থেকে: কারখানায় উৎপাদন চলছে পুরোদমে। সুইং মেশিনে সেলাই হচ্ছে নামী ব্র্যান্ডের পোশাক। আবার একইসঙ্গে চলছে ভোট উৎসব।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সরেজমিনে এমন দৃশ্যই দেখা গেল গাজীপুরে চন্দ্রায় ইন্টারস্টফ এ্যাপারেলস লিমিটেড নামে তৈরি পোশাক কারখানায়।  

নিরাপত্তার নামে নেই কোনো কড়াকড়ি। কিংবা কাউকে ভোট দেবার বিষয়ে চাপাচাপিও নেই। চারপাশে কর্মমুখর পরিবেশ। শ্রমিকরা যাচ্ছেন পোলিং কেন্দ্রে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে নিজের ভোট দিচ্ছেন। আবার ফিরে এসে নিজের কাজে যোগ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566460238260.jpg
কর্মকর্তারা নজরদারি করছেন

 

পার্টিসিপেশন কমিটি (পিসি) নামে পরিচিত শ্রমিক ও মালিক অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে শ্রমিকদের চোখে মুখে নতুন দিনের সোনালী স্বপ্ন।

রোজিনা খাতুন নামে এক অপারেটর জানান, আমাগো ইলেকশন থাইকা সবার অনেক কিছু শেখার আছে। এ ইলেকশনে স্যাররা (কর্মকর্তারা) যেভাবে নজরদারি করছেন ভোট শেষ হইলে পরে কেউ কারচুপির অভিযোগ করতে পারে না।

নির্বাচন নিয়ে কথা হয় নির্বাচন কমিশনার ও কারখানার জেনারেল ম্যানেজার আমজাদ হোসেনের সঙ্গে।

তিনি জানান, ৪ হাজার ৬০০ শ্রমিক স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এদের সংখ্যা হবে ১৮ জন। এদের মধ্য থেকেই আবার একজনকে নির্বাচিত করা হবে সহ-সভাপতি হিসেবে।

কারখানার একজন পরিচালক পদাধিকার বলে সভাপতি। আর সহ-সভাপতি ও নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা মিলেই নির্ধারণ করেন কারখানার কর্ম পরিবেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566460330151.jpg

 

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কেবল শ্রমিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশের চর্চা হচ্ছে না, তারা নিজেরাও সচেতন হচ্ছেন। তাদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবেন যিনি তাকেই যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (ওয়্যারহাউজ) আনজুর হোসেন জানান, বৈশ্বিক কারণে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানার মান বেড়েছে। শ্রম আইন ও বিভিন্ন বিদেশি ক্রেতাদের বেঁধে দেয়া শর্ত অনুযায়ী এখন কারখানায় পার্টিসিপেশন কমিটি (পিসি) নামে পরিচিত  শ্রমিক ও মালিক অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হচ্ছে। এটা অবশ্য আমাদের কারখানায় নতুন নয়। এর আগেও এমন তিনটি নির্বাচন হয়েছে।

দুই বছর মেয়াদী এই কমিটি শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে বলেন আনজুর হোসেন।

কারখানার সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং ও মার্সেন্ডাইজিং) এস এম শফিকুর রহমান, এ ধরনের নির্বাচন কারখানার কর্ম পরিবেশকে নি:সন্দেহে উন্নত করে। কারখানার উৎপাদনশীলতা বাড়লে শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা বাড়ে। শিল্প রক্ষায় মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক রক্ষা জরুরি। আর এ নির্বাচন সেই বন্ধনকে আরো জোরদার করবে বলে আশা করছেন এস এম শফিকুর রহমান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566460353553.jpg
ভোট দিচ্ছেন শ্রমিকরা 

 

কারখানার সিনিয়র কাটারম্যান, শ্রমিক ও মালিক অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি কমিটির বিগত সহ-সভাপতি তুহিন হোসেন এবারও নির্বাচনে প্রার্থী।

তিনি জানান, এ নির্বাচন শ্রমিকদের সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি জানান, শ্রমিকরাই যে কারখানার প্রাণ আর শ্রমবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে সে বিষয়ে তারা সচেতন হচ্ছেন। তৈরি পোশাক খাত নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা হলে পুলিশ কিংবা আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী এগিয়ে আসার আগেই নিজের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় নির্ভয়ে সামনে এসে দাঁড়ান শ্রমিকরা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনজুর হোসেন বলেন, তৈরি পোশাক কারখানা ও ভবিষ্যতের জন্য একটা বড় সুরক্ষার দেয়াল তৈরি করতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে তৈরি পোশাক খাতে নতুন দিগন্ত।  

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র