Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

কুড়িগ্রামে ক্রেতা সংকটে মশলার বাজার

কুড়িগ্রামে ক্রেতা সংকটে মশলার বাজার
বাজারে মশলা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
কুড়িগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

আর কয়েক দিন পরেই ঈদুল আজহা। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসলমানরা পশু কোরবানি দেবেন। তাই কোরবানির মাংস রান্নার জন্য প্রয়োজন হবে মশলার। কিন্তু ক্রেতা সংকটে হতাশায় ভুগছেন কুড়িগ্রামের মশলা ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটের মশলার বাজারে ক্রেতা সংকটের এমন চিত্র দেখা যায়।

জেলার বিভিন্ন মশলার বাজার ঘুরে জানা যায়, প্রতি কেজি সাদা এলাচ ২ হাজার ৪৩০ টাকা, প্রতি কেজি বড় এলাচ ১ হাজার ২০০ টাকা, প্রতি কেজি দার চিনি ৪০০ টাকা, প্রতি কেজি জিরা ৩৩০ টাকা, প্রতি কেজি কালো জিরা ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মশলা বিক্রেতা আ. মান্নান, ইয়াকুব আলী, হারুন অর রশিদ জানান, অনান্য বারের তুলনায় এবারের ঈদে মশলার বিক্রি খুবই কম। বন্যায় মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা ধান বিক্রিতে লাভবান হতে না পারায় মশলা কিনতে পারছে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565109897670.jpg

তারা আরও জানান, গত ঈদে তারা প্রতি হাটে ১৫-২০ হাজার টাকা করে মশলা বিক্রি করেছেন। অথচ এবারের ঈদে ক্রেতা না থাকায় ৫ হাজার টাকা বিক্রিতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা।

মশলা কিনতে আসা ঘোগাদহ থেকে আসা মনছুর, নারায়ণপুর থেকে আসা ইছাহাক ও ঝুনকার চর থেকে আসা রফিকুল বলেন, আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বন্যায় অনেক দিন পানিবন্দি থাকায় কোনো কাজ কর্ম করতে না পারায় হাতে টাকা পয়সা নেই। তাই গতবারের থেকেও সামান্য মশলা কিনলাম। যাতে কোনো রকম ঈদের পরিবার পরিজন নিয়ে খেতে পারি।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার জানান, বন্যায় চরাঞ্চলের মানুষজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ায় ঈদের সদাই প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রয় করতে পারছে না।

আপনার মতামত লিখুন :

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা
তালতলীর রাখাইন পল্লীতে কাপড় বুনছেন এক তাঁত শিল্পী/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরগুনা জেলার দক্ষিণে সর্বশেষ উপজেলা তালতলী। ১৭০০ সালের শেষের দিকে মিয়ানমারের আরাকানের মেঘাবতীর সান্ধ্যে জিলার ছেং ডোয়ে, রেমেত্রে, মেং অং অঞ্চল ত্যাগ করে রাখাইনরা এখানে বসবাস শুরু করেন।

তারপর থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য রাখাইন নারীরা তাঁতের কাপড় বোনা শুরু করেন। সেই থেকে কয়েক বছর আগেও তালতলীতে রাখাইনদের তাঁত শিল্ল ছিল জমজমাট। কিন্তু রাখাইন পল্লীতে তাঁত শিল্পের সেই সূবর্ণ দিন এখন আর নেই।

তাঁত বুনার যন্ত্রপাতি পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এই শিল্পের কারিগররা বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। গুটিকয়েক যারা আছেন, ভালো নেই তারা। এখন অনেকটা মানবেতর জীবন পার করছেন এই উপজেলার রাখাইন পল্লীর মানুষজন। বিলুপ্তির পথে এই তাঁত শিল্প।

শীতকালে জনপ্রিয় পোশাক এ তাঁতের কাপর। তাই আগামী শীত মৌসুমের আগে তাঁত শিল্পতে ফিরতে চাচ্ছেন রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা, চাচ্ছেন সরকারি সহযোগিতা। উপজেলা প্রশাসনও বলছে, তাদের নতুন করে প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে তাঁত শিল্পে ফিরিয়ে আনা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618833416.gif

জানা যায়, রাখাইন পল্লীতে এক সময় দিন রাত সমান তালে তাঁতের ঠক ঠক আওয়াজ শোনা যেত। তাঁতিদের কর্মব্যস্ততায় সরগরম ছিল রাখাইন পাড়া। উপজেলার রাখাইন মার্কেটে ছিল তাঁতের শাড়ি-কাপড় ক্রয় করার ধুম।

আর এখনে সেই মাকের্টে নেই বেচা-কেনার জট, নেই রাখাইন পল্লীতে কর্মব্যস্ততা। একদিকে যেমন সুতার সংকট, অন্যদিকে সুতার মাত্রাতিরিক্ত দাম, পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সহায়তা, পণ্য বিক্রির পরিবেশ না থাকাসহ নানা সমস্যায় স্থবির হয়ে আছে রাখাইনদের তাঁত শিল্প।

এদিকে দুয়েকটি পাড়ায় তাঁত শিল্প দেখা গেলেও শুধু নিজেদের প্রয়োজনে কাপড় বুনছেন তারা। বাজারজাত করতে হলে সরকারি সহযোগিতা চান সাধারণ এ তাঁত শিল্পীরা।

রাখাইন তাঁত শিল্পী লাচা নো বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘সুতার দাম বেমি থাকায় এখন আর কাপড় বোনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমাদের জীবন যাপন কষ্টে কাটতেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618864981.gif

মনুকে পাড়ার চিং খে উই রাখানই বলেন, ‘এখন নিজেদের প্রয়োজনে দুয়েকটি কাপড় বোনা হয়। আগে কাপড় বুনে শেষ করতে পারতাম না।’

কবিরাজ পাড়ার তাঁতি খেনাচিং বলেন, ‘সুতার দাম বেশি ও কাপড় বিক্রির সুযোগ না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের প্রিয় শিল্প। আর তরুণরা ঝুঁকছে অন্য পেশায়।’

তালতলী উপজেলা তাঁতি সমিতির সভাপতি মংচিন থান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম.কে বলেন, ‘এক সময় রাখাইনদের ঐতিহ্য তাঁত শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সুতার দাম বেশি ও বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় রাখাইন পল্লির মানুষগুলো অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। এ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে দরকার সরকারি সহযোগিতা।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘তাঁত শিল্পিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল থেকে রাখাইনের তাঁত শিল্পিদের জন্য মার্কেট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় নিহত ২

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় নিহত ২
শ্লীলতাহানির চেষ্টাকারী আকবরের ছুরিকাঘাতে নিহত হন স্কুলছাত্রীর মামা হাসান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চুয়াডাঙ্গায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও অপহরণচেষ্টাকালে অপহরণকারীর ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রীর মামা হাসান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত হাসানের পিতা হামিদুল ও স্কুলছাত্রী সুমাইয়া (১৪) আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ সময় এলাকাবাসী ঘটনাস্থল থেকে অপহরণচেষ্টাকারী আকবর আলীকে আটক করে এবং পরবর্তীতে গণপিটুনিতে আকবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত আকবার আলী চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বড় মদনা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে চুয়াডাঙ্গার সদর থানার আমিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সদর থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে আকবর আমিরপুর গ্রামে হামিদুলের বাড়িতে স্কুলছাত্রী সুমাইয়ার ঘরে ঢুকে অপহরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় স্কুলছাত্রীর চিৎকারে তার নানা হামিদুল ও মামা হাসান এগিয়ে আসেন।

অপহরণে বাধা দেওয়ায় হামিদুল ও হাসানকে কুপিয়ে জখম করেন আকবর। এ সময় তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আকবরকে আটক করে ও আহতদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর গ্রামে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন অপহরণচেষ্টাকারী আকবর।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র