Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

কুমেকে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ১৭ ডেঙ্গু রোগী

কুমেকে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ১৭ ডেঙ্গু রোগী
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।
জাহিদ পাটোয়ারী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
কুমিল্লা


  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৭ জনেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। কুমেকের ভর্তি রেজিস্ট্রার খাতায় গত ৬ দিনের পাওয়া তথ্যে এ চিত্র দেখা গেছে। সব মিলিয়ে জুলাইয়ের ২২ তারিখ থেকে শনিবার (৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৩২ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এর মধ্যে রোববার (২৮ জুলাই) থেকে শনিবার পর্যন্ত ৬ দিনে ভর্তি হয়েছে ১০৪ জন। গত ২৭ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭ জন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র মতে, হাসপাতালটিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৭৮ জন। আর ৫৪ জন রোগী বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

এছাড়াও তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে চিকিৎসাধীন সবাই ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে।

এদিকে কুমিল্লায় ভয়াবহভাবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে নগরবাসীসহ জেলায় বসবাসকারীরা।

কুমেকের রেকর্ড সূত্রে জানা যায়, ২৩ জুলাই পর্যন্ত কুমিল্লায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪ জন। এরপর ২৭ জুলাই এর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৭ জনে। মূলত ২৮ জুলাই থেকেই কুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়তে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/03/1564816037745.jpg

ক্রমেই বাড়তে থাকা রোগীর সংখ্যা ৩১ জুলাই এসে দাঁড়ায় ৯৪ জনে। আর চলতি মসের প্রথম দুই দিনসহ সব মিলিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন ১৩২ জন ডেঙ্গু রোগী। আর হোমনা ও তিতাস উপজেলা মিলিয়ে বর্তমানে এর সংখ্যা ১৪০ জন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, গত কয়েকদিনে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ জন কুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা করেছে। এদের মধ্যে ১৫ জনকে শনাক্ত করেছে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ। বাকি রোগীরা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডেঙ্গুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে।

ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যে পরিমাণ কিট রয়েছে তা দিয়ে শনিবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত কার্যক্রম চালানো যাবে। রোববার (৪ আগস্ট) আবার নতুন করে কিট সংগ্রহ করতে হবে।

এদিকে কুমিল্লায় ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির খবরে অনেকটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে নগরবাসীসহ জেলার বাসিন্দারা।

তবে এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুমিল্লায় ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রতিরোধে নগরীতে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এছাড়াও জনগণকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি নগরী ও নগরীর বাইরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আলাদাভাবে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতামূলক ‘হেল্প ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। কুমিল্লায় ডেঙ্গুর প্রকোপ নির্মূলে সরকারি বেসরকারি সংগঠনসহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম

হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের বাজার চড়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম।

পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বন্যার কারণে হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি কমে গেছে ভারতীয় পেঁয়াজের তাই দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। প্রকারভেদে এসব পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632868081.jpg

 

দফায় দফায় দাম বাড়ায় পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়েছে পাইকাররা। খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেন আমদানি কম হওয়ায় বন্দরের পাইকার ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশের চাহিদার বেশীর ভাগ পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। আর এ পেঁয়াজ আমদানির কারণে বন্দর এলাকায় গড়ে উঠেছে পেঁয়াজের আড়ত। যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিনতে আসে পাইকাররা। সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলতে পেঁয়াজের বেচা-কেনা।

ব্যবসায়ীরা বলছে, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে বন্যার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তাই আমরা বেশি দামে বিক্রি করছি।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানায়, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজের আমদানি কম হওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানায়, দুইকর্ম দিবসে ৫১টি ভারতীয় পেঁয়াজের ট্রাক আমদানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে। আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

 

হামলার পর মামলা তুলে নেয়ার হুমকি

হামলার পর মামলা তুলে নেয়ার হুমকি
আহত মো. সোহান। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় যুবককে কুপিয়েছে মাদকসেবীরা। এ হামলার বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওয়াসিম মজুমদার ও আশু মিয়া নামে দুজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে মামলার অপর আসামি বাইরে থাকায় পাল্টা অভিযোগ দিয়ে বাদীপক্ষকে হয়রানি ও মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের মির্জা বাড়ির নুরুল আলমের ছেলে মো. সোহানকে কুপিয়ে জখম করে মাদকসেবীরা।

মামলার আসামিরা হলেন- মানুরী মজুমদার বাড়ির লিটন মজুমদার, ওয়াসিম মজুমদার ও আশু মিয়া। এদের মধ্যে পলাতক রয়েছে প্রধান আসামি লিটন মজুমদার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট সোমবার মানুরী মজুমদার বাড়ির সামনে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় মাদকসেবীরা সোহানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে সোহানকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয়রা। সেখান থেকে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রেফার করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও আসামিরা সোহানের কাছে থাকা একটি মোবাইল সেট ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদী সোহানের ভাই বিল্লাল হোসেন সুমন মির্জা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। আমার ভাই চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল শুক্রবার আসামি লিটন মজুমদার ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আহমেদকে নিয়ে এসে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আহমেদ বলেন, ‘আমি মূলত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কথা বলেছি।’

একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উনু মং মারমা জানান, আসামি ওয়াসিম ও লিটন মজুমদার পূর্ব থেকেই মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। হামলার মামলায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে সোহানের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে কেন হয়রানি করা হচ্ছে বিষয়টি তার জানা নেই।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র