Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

দশ বছর ধরে নষ্ট সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন

দশ বছর ধরে নষ্ট সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মোহাম্মদ রনি মিয়াজী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
পঞ্চগড়
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি প্রায় ১০ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অভিযোগ আছে, মেশিনটি মেরামত করার কোনো উদ্যোগ নেয় না কর্তৃপক্ষ। ফলে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার হাজার হাজার রোগী।

জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মানুষের একমাত্র ভরসা এ হাসপাতালটি। তবে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সিমেন্স এক্স-রে ৫০০এমএ মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। সিএমএসডি থেকে বরাদ্দ আসা এক্স-রে মেশিনটি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ২০০৯ সালে স্থাপন করা হয়। প্রতিদিন ২০০-৩০০টি এক্স-রে করার ক্ষমতা থাকলেও এখন সেটা আর ব্যবহার করা যায় না।

আরও জানা গেছে, ২০০২ সালের দিকে ২০০ এমএ মেশিন দিয়ে এক্সে-রে করা হত। পরে ২০০৯ সালে ৫০০এমএ মিশনটি স্থাপন করা হয়। কিন্তু সেটিও কিছুদিনের মধ্যে বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে ১০০এমএ মেশিন দিয়ে এক্স-রে করা হচ্ছে। যেটি দিয়ে প্রতিদিন ১০টি এক্স-রে করা যায় না। কিন্তু প্রতিদিন চাহিদা আছে ৫০টি।

এদিকে এক্স-রের মান নিম্ন, ভোগান্তি ও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে পঞ্চগড়ের সাধারণ রোগীদের বাধ্য হয়ে প্রাইভেট প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে।

দশ বছর ধরে নষ্ট সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন

জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা দেবনগর এলাকার বাসিন্দা সেলিনা বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'হাসপাতালে শুধু ফ্রি থাকা যায়। এখানে ডাক্তার নেই, এক্স-রে মেশিন থাকলেও বিকল।'

একই ভোগান্তির কথা জানান পঞ্চগড় পৌরসভার বাসিন্দা আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, 'এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে আমাদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।'

জানা গেছে, সরকারের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএএসডি) ৪৫টি ডিজিটাল এক্সে-রে মেশিন মজুদ থাকলেও প্রাইভেট প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের যোগসাজশে সেগুলো হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের এক্স-রে অপরেটর আরফান আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'বর্তমানে ব্যবহৃত এক্স-রে মেশিনটি দিয়ে ভালো ও পরিষ্কার ছবি না আসায় রোগীরা বিভিন্ন অভিযোগ করেন।'

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) প্রতীক কুমার বনিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার এক্স-রে মেশিনের চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।'

আপনার মতামত লিখুন :

হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম

হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের বাজার চড়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম।

পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বন্যার কারণে হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি কমে গেছে ভারতীয় পেঁয়াজের তাই দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। প্রকারভেদে এসব পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632868081.jpg

 

দফায় দফায় দাম বাড়ায় পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়েছে পাইকাররা। খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেন আমদানি কম হওয়ায় বন্দরের পাইকার ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশের চাহিদার বেশীর ভাগ পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। আর এ পেঁয়াজ আমদানির কারণে বন্দর এলাকায় গড়ে উঠেছে পেঁয়াজের আড়ত। যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিনতে আসে পাইকাররা। সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলতে পেঁয়াজের বেচা-কেনা।

ব্যবসায়ীরা বলছে, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে বন্যার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তাই আমরা বেশি দামে বিক্রি করছি।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানায়, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজের আমদানি কম হওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানায়, দুইকর্ম দিবসে ৫১টি ভারতীয় পেঁয়াজের ট্রাক আমদানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে। আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

 

হামলার পর মামলা তুলে নেয়ার হুমকি

হামলার পর মামলা তুলে নেয়ার হুমকি
আহত মো. সোহান। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় যুবককে কুপিয়েছে মাদকসেবীরা। এ হামলার বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওয়াসিম মজুমদার ও আশু মিয়া নামে দুজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে মামলার অপর আসামি বাইরে থাকায় পাল্টা অভিযোগ দিয়ে বাদীপক্ষকে হয়রানি ও মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের মির্জা বাড়ির নুরুল আলমের ছেলে মো. সোহানকে কুপিয়ে জখম করে মাদকসেবীরা।

মামলার আসামিরা হলেন- মানুরী মজুমদার বাড়ির লিটন মজুমদার, ওয়াসিম মজুমদার ও আশু মিয়া। এদের মধ্যে পলাতক রয়েছে প্রধান আসামি লিটন মজুমদার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট সোমবার মানুরী মজুমদার বাড়ির সামনে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় মাদকসেবীরা সোহানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে সোহানকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয়রা। সেখান থেকে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রেফার করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও আসামিরা সোহানের কাছে থাকা একটি মোবাইল সেট ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদী সোহানের ভাই বিল্লাল হোসেন সুমন মির্জা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। আমার ভাই চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল শুক্রবার আসামি লিটন মজুমদার ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আহমেদকে নিয়ে এসে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আহমেদ বলেন, ‘আমি মূলত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কথা বলেছি।’

একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উনু মং মারমা জানান, আসামি ওয়াসিম ও লিটন মজুমদার পূর্ব থেকেই মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। হামলার মামলায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে সোহানের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে কেন হয়রানি করা হচ্ছে বিষয়টি তার জানা নেই।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র