Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

জাবি শিক্ষার্থী ফিরোজের বাঁচার আকুতি

জাবি শিক্ষার্থী ফিরোজের বাঁচার আকুতি
ফিরোজ হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।
মাহমুদ আল হাসান (রাফিন)
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
নীলফামারী


  • Font increase
  • Font Decrease

হাসপাতালের বেডে শুয়ে-বসে নীরব যন্ত্রণায় দিন পার করছেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেধাবী ছাত্র ফিরোজ হোসেন। স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হবার। এখন সে নিজেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন। ‘সোরিয়াসিস আথ্রাইটিস’ ও ‘সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস’ রোগে আক্রান্ত ফিরোজ এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) বাঁচার আকুতি নিয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

বাবা হারা ফিরোজের ভরসা বিধবা মা, মামা ও চাচাতো ভাই। তাদের স্বপ্ন পূরণে ফিরোজ কখনো নিজেকে দাবিয়ে রাখেননি। বরং শত বাঁধাকে পেছনে ফেলে সব সময় সামনে যাবার যুদ্ধ করেছেন। পড়ালেখায় অদম্য ফিরোজ ২০১৫ সালে রংপুর সরকারি কলেজে ৬৫০ জন গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। এছাড়াও ৫ম শ্রেণি ও ৮ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ও এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।

তবে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অসুস্থতা চেপে ধরে ফিরোজকে। ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হতে থাকে সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখটি। পড়ার টেবিল ছেড়ে ফিরোজ পড়ে যান বিছানায়। একাধিকবার ভুল ট্রিটমেন্টে তার আর সেরে ওঠা হয়নি।

বিছানাতেই শুয়ে বসে চলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। প্রথমবার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। হতাশ না হয়ে দ্বিতীয়বার অনেক কষ্টে মেধাবীর যুদ্ধে টিকে যান ফিরোজ। ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে। অসুস্থতার কারণে প্রথম বর্ষের ফাইনালে কোনো রকমে অংশ নিলেও দ্বিতীয় বর্ষ থেকে আর ক্লাসে যাওয়া হয়নি ফিরোজের। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, পিজি হাসপাতালের ১৭ তলার ফ্লোরেই কাটছে দিনের পর দিন।

ফিরোজ হোসেন নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার উত্তর কাজিরহাট গ্রামের মৃত বজলুর রহমান বজু ও ফেরদৌসী বেগমের ছেলে। সপ্তম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় বাবার মৃত্যুর পর ফিরোজের ইচ্ছা ছিল পড়ালেখা শেষ করে মা ও ছোট ভাই-বোনের দায়িত্ব কাঁধে নেবেন, তাদের খুশি রাখবেন। কিন্তু ফিরোজের সেই স্বপ্ন আজ নিভু নিভু করছে।

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ফিরোজের চিকিৎসায় সব সঞ্চয় শেষ হয়েছে তার পরিবারের। এখন অর্থাভাবে থমকে আছে চিকিৎসা।

চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৪ সালে ‘সোরিয়াসিস আথ্রাইটিস’ ও ‘সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস’ রোগে আক্রান্ত হয় ফিরোজ। এরপর থেকে চিকিৎসা বাবদ এ পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিমাসে ফিরোজকে একেকটা ভ্যাকসিন দিতেই ২৫ হাজার টাকা করে লাগত। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন সেই ভ্যাকসিনও আর কাজ করছে না। ওর উন্নত চিকিৎসা দরকার। এ মাসেই চিকিৎসার জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাগবে। তারপর প্রতিমাসে আরও এক লাখ টাকা করে খরচ আছে। এতো টাকা কোথাও পাবো? আমাদের পরিবারের পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

অশ্রুসিক্ত নয়নে আকুতি জানিয়ে মা ফেরদৌসী বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আল্লাহ গরিবের ঘরে এমন রোগ দেন কেন? আমি স্বামীহারা। আমার ছেলেটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ছেলের এমন রোগ হলো, সবকিছু ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবু আমার ছেলেটা সুস্থ হচ্ছে না। আমার সামান্য সঞ্চয়, আর ওর মামার সহায়তায় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখন তো আর পারছি না।’

ফিরোজের মামা বলেন, ‘আমার ভাগ্নে মেধাবী ছাত্র। ওর তো দেশকে অনেক কিছু দেবার স্বপ্ন ছিল। দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছে ছিল। আজ একটা কঠিন রোগের কাছে ওর সব স্বপ্ন ধুকে ধুকে মরছে। আমরা টাকার কাছে হেরে যাচ্ছি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনেকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বৃত্তবানদের নজরে এলে আমাদের ফিরোজ হয়তো বেঁচে যাবে।’

ফিরোজের জন্য সাহায্য পাঠাতে পারেন-
মাসুমা (বন্ধু)-০১৭০৬৮০২৭৩৯ (বিকাশ), হারুন (বন্ধু)- ০১৭৪৬০০৮৭৯৪০ (ডাচ বাংলা ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং) এবং সাইফুল ইসলাম (চাচাতো ভাই) অগ্রণী ব্যাংক, জলঢাকা শাখা, হিসাব নম্বর- ০২০০০১২৯৬৪০২৭, মোবাইল নম্বর- ০১৭২৯১২১১৬৮।

আপনার মতামত লিখুন :

হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম

হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের বাজার চড়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম।

পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বন্যার কারণে হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি কমে গেছে ভারতীয় পেঁয়াজের তাই দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। প্রকারভেদে এসব পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা।

দফায় দফায় দাম বাড়ায় পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়েছে পাইকাররা। খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেন আমদানি কম হওয়ায় বন্দরের পাইকার ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশের চাহিদার বেশীর ভাগ পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। আর এ পেঁয়াজ আমদানির কারণে বন্দর এলাকায় গড়ে উঠেছে পেঁয়াজের আড়ত। যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিনতে আসে পাইকাররা। সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলতে পেঁয়াজের বেচা-কেনা।

ব্যবসায়ীরা বলছে, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে বন্যার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তাই আমরা বেশি দামে বিক্রি করছি।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানায়, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজের আমদানি কম হওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানায়, দুইকর্ম দিবসে ৫১টি ভারতীয় পেঁয়াজের ট্রাক আমদানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে। আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

 

হামলার পর মামলা তুলে নেয়ার হুমকি

হামলার পর মামলা তুলে নেয়ার হুমকি
আহত মো. সোহান। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় যুবককে কুপিয়েছে মাদকসেবীরা। এ হামলার বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওয়াসিম মজুমদার ও আশু মিয়া নামে দুজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে মামলার অপর আসামি বাইরে থাকায় পাল্টা অভিযোগ দিয়ে বাদীপক্ষকে হয়রানি ও মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের মির্জা বাড়ির নুরুল আলমের ছেলে মো. সোহানকে কুপিয়ে জখম করে মাদকসেবীরা।

মামলার আসামিরা হলেন- মানুরী মজুমদার বাড়ির লিটন মজুমদার, ওয়াসিম মজুমদার ও আশু মিয়া। এদের মধ্যে পলাতক রয়েছে প্রধান আসামি লিটন মজুমদার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট সোমবার মানুরী মজুমদার বাড়ির সামনে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় মাদকসেবীরা সোহানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে সোহানকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয়রা। সেখান থেকে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রেফার করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও আসামিরা সোহানের কাছে থাকা একটি মোবাইল সেট ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদী সোহানের ভাই বিল্লাল হোসেন সুমন মির্জা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। আমার ভাই চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল শুক্রবার আসামি লিটন মজুমদার ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আহমেদকে নিয়ে এসে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আহমেদ বলেন, ‘আমি মূলত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কথা বলেছি।’

একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উনু মং মারমা জানান, আসামি ওয়াসিম ও লিটন মজুমদার পূর্ব থেকেই মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। হামলার মামলায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে সোহানের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে কেন হয়রানি করা হচ্ছে বিষয়টি তার জানা নেই।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র