Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

পীরগাছায় নদী ভাঙনে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে

পীরগাছায় নদী ভাঙনে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে
নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা ছেড়ে যাচ্ছেন মানুষজন
আমিনুল ইসলাম জুয়েল
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
পীরগাছা (রংপুর)


  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের পীরগাছায় প্রতি বছর নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। এক সময়ের গৃহস্থ পরিবারগুলো প্রমত্তা তিস্তার করাল গ্রাসে আজ ভূমিহীন। সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করায় এসব পরিবারের সদস্যরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

উপজেলার তিস্তার তীরবর্তী ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের গাবুড়ার চর, শিবদেব চর, কিশামত ছাওলা, পূর্ব হাগুরিয়া হাশিম, ছাওলা, চর কাশিম, চর তাম্বুলপুর ও চর রহমত প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পড়ছে। ভাঙনের কারণে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে এসব গ্রামের শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সাথে বসতবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অসংখ্য পরিবার।

শুধু বাসস্থান নয়, তাদের কর্মসংস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্যানিটেশনের ভালো কোনও ব্যবস্থা নেই। দিনমজুরি করে তারা কোনরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেক পরিবার ১০-১৫ বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক অন্যের জমিতে বসবাস করছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/29/1564398852264.jpg
সোমবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদী ভাঙন ও বন্যায় সহায়-সম্বলহারা অসহায় মানুষ ঠিকানাবিহীন গন্তব্যে ছুটে চলছেন। নদী ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে শেষ সম্বলটুকু নিয়ে বাঁধসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে।

নতুন কোনও আশ্রয়স্থল না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। অনেকে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে ভূমিহীন পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভূমিহীন অনেক পরিবার পাশের গ্রামের বিত্তবানদের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক জমি নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখছে। গড়ে একটি পরিবারের বসবাসের জন্য ৫-৬ শতাংশ জমির প্রয়োজন। ফলে প্রতিবছর ভাড়া বাবদ তাদের দিতে হবে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা। তবে যাদের চুক্তিভিত্তিক জমি নেওয়ার সামর্থ্য নেই তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে অনেক পরিবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ভাসমান মানুষের তালিকায় নাম লেখাচ্ছে।

এদিকে, গত সাত দিনে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের গাবুরার চর, রামসিং, চর হরিরাম গ্রামে নতুন করে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এবারের ভাঙনে প্রায় একশ হেক্টর ফসলি জমি ও দুই শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/29/1564398874026.jpg
পাওটানা বাজারের পাশে আশ্রয় নেওয়া বাবু মিয়া, মজিদ আলী ও আকবর আলীসহ কয়েকজন জানান, নদী ভাঙনের শিকার হয়ে নিস্ব হয়েছেন তারা। এখন দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয় ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, প্রতি বছর নদী ভাঙনে শত শত পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। এত সংখ্যক পরিবারের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা ৪০ জন পরিবারের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। আরও ৬০ জন ভূমিহীন পরিবারের বসবাসের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ও বরাদ্দ চেয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি, ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় জয়দেব (৪৫) নামে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা মহল্লার তাহেরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। জয়দেব শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের শ্রী চমৎকারের ছেলে।

নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) জিন্নাতের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা মহল্লার তাহেরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জয়দেবকে গ্রেফতার করে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।


এদিকে, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে সোমবার রাতেই জয়দেবকে আসামী করে নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

শিশুটির মা জানান, সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে শিশুটিকে ফুসলিয়ে জয়দেব নয়াগোলার মোমিনপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে শিশুটি চিৎকার দিলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে, শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি বললে তার মা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ৮৮জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ৮৮জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত
চুয়াডাঙ্গা মানচিত্র, ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ কমলেও আবারও হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৩২ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ১১ জন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য খোলা হয়েছে আলাদা ৩টি ডেঙ্গু কর্নার।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামীম কবীর জানান রোগীরা রাজধানী ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সদর হাসপাতালে গত মাসের ২৭ জুলাই থেকে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) পর্যন্ত ৮৮ জন ডেঙ্গু রোগীকে শনাক্ত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এরই মাঝে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান হাসপাতালের সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র