Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

মাগুরায় পানির অভাবে পাটচাষিদের দীর্ঘশ্বাস

মাগুরায় পানির অভাবে পাটচাষিদের দীর্ঘশ্বাস
পানির অভাবে কাঁটা হচ্ছে না পাট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
আব্দুল্লাহ তারিক
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মাগুরা


  • Font increase
  • Font Decrease

আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে
দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে –

শ্রাবণের এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেনি আকাশ। মাগুরাসহ দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি নেই। তীব্র গরমের সঙ্গে রয়েছে রোদ্রের ঝলকানি। মাঠে দিশেহারা কৃষক, অবাক বিস্ময়ে ভাবছে কী করবে শতবর্ষের সোনালি আঁশ নিয়ে। পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই। খালে-বিলে স্বল্প পানি থাকলেও তা মাঠ থেকে অনেক দূরে হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে পাটচাষিদের। এমন চিত্রের দেখা মেলে মাগুরা সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে।

সদর উপজেলার গৌরিচরণপুর গ্রামের কৃষক নজরুল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, মাগুরাতে বৃষ্টি নেই অনেকদিন, গাঙ পর্যন্ত পাট টেনে আনতে ভ্যান প্রতি ৪০০ টাকা করে খরচ হয়। ন্যায্য মূল্য না পেলে তাদের মরে যাওয়াই শ্রেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/25/1564059166069.jpg
মাঠ থেকে অনেক দূরে এসে পাটে জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

পাট পরিষ্কার করছিলেন ছফেতারা বেগম, তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, ডোবায় পানি নেই, মাঠ থেকে তার ছেলে পাট কেটে ডাঙ্গায় ফেলে রেখেছে। এই পাঠ পরিষ্কার করা হলে তারপর পাট এনে জাগ দেয়া হবে। মাঠে পাট শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, আমন ধান লাগানোর মৌসুম এসে গেলেও পাট কাটা হয়নি, তাই বাড়ছে চিন্তা। এই বছর পাটের ফলন ভালো হলেও শেষ হাসি হাসতে পারছে না কৃষকরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/25/1564059428862.jpg

 

মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ কুমার জোয়ার্দার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, এ বছর মাগুরায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ হাজার ১১০ হেক্টর, যার মধ্যে মাগুরা সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৭০০ হেক্টর, শ্রীপুর উপজেলায় ৮ হাজার ৭৩০ হেক্টর, শালিখা উপজেলায় ৩ হাজার ৯২৫ হেক্টর এবং মোহাম্মদপুর উপজেলায় ১০ হাজার ২০০ হেক্টর করে মোট ৩২ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপমহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. জাহিদুল আমিন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে মাগুরা জেলায় পানির অভাবে মাত্র ৩ শতাংশ পাট কর্তন করা হয়েছে। যা আশঙ্কাজনক। কৃষকদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচানোর জন্য বলা হয়েছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/25/1564059479318.jpg
পানিতে পাট জাগ দেয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

এ বিষয়ে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অভিহিত করেছেন বলেও জানান তিনি। ডোবা ও খাল খননের কোনো পরিকল্পনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নেই বলেও তিনি জানান।

রিবন রেটিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, পাট কাঁচা অবস্থায় আঁশ আলাদা করে স্বল্প পরিসরে পচানোর পদ্ধতি হলো রিবন রেটিং পদ্ধতি। কৃষক ইচ্ছা করলে বড় চাড়ি বা পলিথিন বেষ্টিত স্থান ব্যবহার করতে পারে। এতে পাটের গুণগত মানের তারতম্য হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/25/1564059535869.jpg
ভ্যানে করে জাগ দেয়ার জন্য পাট নিয়ে আসা হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

চাষিদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতি বিঘা পাট চাষে খরচ হয় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। একবিঘা জমিতে ১০-১২ মন পাট হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা।

আপনার মতামত লিখুন :

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা
তালতলীর রাখাইন পল্লীতে কাপড় বুনছেন এক তাঁত শিল্পী/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরগুনা জেলার দক্ষিণে সর্বশেষ উপজেলা তালতলী। ১৭০০ সালের শেষের দিকে মিয়ানমারের আরাকানের মেঘাবতীর সান্ধ্যে জিলার ছেং ডোয়ে, রেমেত্রে, মেং অং অঞ্চল ত্যাগ করে রাখাইনরা এখানে বসবাস শুরু করেন।

তারপর থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য রাখাইন নারীরা তাঁতের কাপড় বোনা শুরু করেন। সেই থেকে কয়েক বছর আগেও তালতলীতে রাখাইনদের তাঁত শিল্ল ছিল জমজমাট। কিন্তু রাখাইন পল্লীতে তাঁত শিল্পের সেই সূবর্ণ দিন এখন আর নেই।

তাঁত বুনার যন্ত্রপাতি পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এই শিল্পের কারিগররা বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। গুটিকয়েক যারা আছেন, ভালো নেই তারা। এখন অনেকটা মানবেতর জীবন পার করছেন এই উপজেলার রাখাইন পল্লীর মানুষজন। বিলুপ্তির পথে এই তাঁত শিল্প।

শীতকালে জনপ্রিয় পোশাক এ তাঁতের কাপর। তাই আগামী শীত মৌসুমের আগে তাঁত শিল্পতে ফিরতে চাচ্ছেন রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা, চাচ্ছেন সরকারি সহযোগিতা। উপজেলা প্রশাসনও বলছে, তাদের নতুন করে প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে তাঁত শিল্পে ফিরিয়ে আনা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618833416.gif

জানা যায়, রাখাইন পল্লীতে এক সময় দিন রাত সমান তালে তাঁতের ঠক ঠক আওয়াজ শোনা যেত। তাঁতিদের কর্মব্যস্ততায় সরগরম ছিল রাখাইন পাড়া। উপজেলার রাখাইন মার্কেটে ছিল তাঁতের শাড়ি-কাপড় ক্রয় করার ধুম।

আর এখনে সেই মাকের্টে নেই বেচা-কেনার জট, নেই রাখাইন পল্লীতে কর্মব্যস্ততা। একদিকে যেমন সুতার সংকট, অন্যদিকে সুতার মাত্রাতিরিক্ত দাম, পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সহায়তা, পণ্য বিক্রির পরিবেশ না থাকাসহ নানা সমস্যায় স্থবির হয়ে আছে রাখাইনদের তাঁত শিল্প।

এদিকে দুয়েকটি পাড়ায় তাঁত শিল্প দেখা গেলেও শুধু নিজেদের প্রয়োজনে কাপড় বুনছেন তারা। বাজারজাত করতে হলে সরকারি সহযোগিতা চান সাধারণ এ তাঁত শিল্পীরা।

রাখাইন তাঁত শিল্পী লাচা নো বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘সুতার দাম বেমি থাকায় এখন আর কাপড় বোনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমাদের জীবন যাপন কষ্টে কাটতেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618864981.gif

মনুকে পাড়ার চিং খে উই রাখানই বলেন, ‘এখন নিজেদের প্রয়োজনে দুয়েকটি কাপড় বোনা হয়। আগে কাপড় বুনে শেষ করতে পারতাম না।’

কবিরাজ পাড়ার তাঁতি খেনাচিং বলেন, ‘সুতার দাম বেশি ও কাপড় বিক্রির সুযোগ না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের প্রিয় শিল্প। আর তরুণরা ঝুঁকছে অন্য পেশায়।’

তালতলী উপজেলা তাঁতি সমিতির সভাপতি মংচিন থান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম.কে বলেন, ‘এক সময় রাখাইনদের ঐতিহ্য তাঁত শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সুতার দাম বেশি ও বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় রাখাইন পল্লির মানুষগুলো অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। এ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে দরকার সরকারি সহযোগিতা।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘তাঁত শিল্পিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল থেকে রাখাইনের তাঁত শিল্পিদের জন্য মার্কেট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় নিহত ২

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় নিহত ২
শ্লীলতাহানির চেষ্টাকারী আকবরের ছুরিকাঘাতে নিহত হন স্কুলছাত্রীর মামা হাসান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চুয়াডাঙ্গায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও অপহরণচেষ্টাকালে অপহরণকারীর ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রীর মামা হাসান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত হাসানের পিতা হামিদুল ও স্কুলছাত্রী সুমাইয়া (১৪) আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ সময় এলাকাবাসী ঘটনাস্থল থেকে অপহরণচেষ্টাকারী আকবর আলীকে আটক করে এবং পরবর্তীতে গণপিটুনিতে আকবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত আকবার আলী চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বড় মদনা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে চুয়াডাঙ্গার সদর থানার আমিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সদর থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে আকবর আমিরপুর গ্রামে হামিদুলের বাড়িতে স্কুলছাত্রী সুমাইয়ার ঘরে ঢুকে অপহরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় স্কুলছাত্রীর চিৎকারে তার নানা হামিদুল ও মামা হাসান এগিয়ে আসেন।

অপহরণে বাধা দেওয়ায় হামিদুল ও হাসানকে কুপিয়ে জখম করেন আকবর। এ সময় তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আকবরকে আটক করে ও আহতদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর গ্রামে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন অপহরণচেষ্টাকারী আকবর।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র