Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসে পাঠদান

শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসে পাঠদান
প্রয়োজনের তুলনায় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ কিছুই নেই বিদ্যালয়টিতে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
তোফায়েল পাপ্পু
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মৌলভীবাজার


  • Font increase
  • Font Decrease

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জাতীয়করণকৃত ১২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি জাগছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। স্কুলের পাশে চা বাগানের হাসপাতালের একটি রুমে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এমনকি বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ খাবার পানি, উন্নত স্যানিটেশন কিংবা অবকাঠামো ব্যবস্থা।

সূত্রে জানা যায়, এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি করা হলে এখনও পর্যন্ত কোনো পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়নি। দোচালা টিনের ঘরে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষে ৩০০ ছাত্র-ছাত্রীকে দুই শিফটে কোনোরকমে পাঠদান করা হচ্ছে।

এদিকে প্রয়োজনের তুলনায় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ কিছুই নেই বিদ্যালয়টিতে। ছাত্র-ছাত্রীদের মাটিতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে।

স্কুলের বাহিরে টেবিল নিয়ে অফিস বানিয়ে কোন রকমে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক তাদের দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সকালের শিফটে দুটি কক্ষে ১ম ও ২য় শ্রেণির পাঠদান এবং বিকেলের শিফটে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চালায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563706122113.jpg
স্কুলের বাহিরে টেবিল নিয়ে অফিস বানিয়ে দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। ওই শ্রেণিতে ক্লাস করাচ্ছেন সহকারী শিক্ষিকা সালমা আক্তার। তিনি বলেন, 'গরমের মধ্যে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা ঠাসাঠাসি করে মাটিতে বসেছে। এতে তাদের লেখাপড়ার সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বেশ কষ্ট পায়। বিদ্যালয়ে বিদ্যমান ১টি শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ বেঞ্চ নেই, ভাঙা কয়েকটি বেঞ্চ দিয়ে কোন রকমে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে পাঠদান। অপর আরেকটি শ্রেণিকক্ষে কোন বেঞ্চ'ই নেই।'

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, 'মাটিতে বসে আমাদের ক্লাস করতে হয়। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। গরমে আমরা একদম বসতেই পারি না।'

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী দাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'স্কুলে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদরে মেঝেতে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা শুধু নতুন ভবনের আশ্বাস দিচ্ছেন।' 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563706168582.jpg
জাগছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পরেশ কালেন্দি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসিয়ে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান দেয়া হচ্ছে। অতি দ্রুত বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থাসহ পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।' 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম তালুকদার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'এই বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা সম্পর্কে অবগত আছি। অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবনের কাজ চলছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও সকল সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'

আপনার মতামত লিখুন :

শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি ইয়াবা সরবরাহ, গ্রেফতার

শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি ইয়াবা সরবরাহ, গ্রেফতার
ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃত নারী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

শ্বশুরবাড়ি হিলি সীমান্ত এলাকা থেকে বাবার বাড়ি বগুড়া শহরে ইয়াবা সরবরাহ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন খাইরুন্নেছা ওরফে খালেদা (৪৭)।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শহরের ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে মাটিডালী মোড় থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, খালেদার বাবার বাড়ি বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ায়। বিয়ে হয়েছে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর (হিলি) থানার নওনাপাড়া গ্রামের মরফিদুল ওরফে মহিদুলের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই খালেদা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৮ সালে হাকিমপুর থানা পুলিশের হাতে মাদকসহ ধরা পড়েন তিনি। কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে কৌশল পাল্টায় খালেদা। এলাকায় মাদক ব্যবসা না করে হিলি সীমান্ত থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে এসে বগুড়ায় বাবার বাড়ি এলাকায় সরবরাহ করতে থাকেন। প্রতি মাসেই একবার বগুড়ায় আসেন মাদকের চালনা পৌঁছাতে।

ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘অনেকদিন ধরে খালেদাকে ধরার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু বার বার কৌশল পরিবর্তন করায় তাকে ধরা যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার পুলিশে পাতা ফাঁদে ধরা পড়ে খালেদা। এ সময় তার কাছে ৩০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। গ্রেফতারের পর খালেদা পুলিশের কাছে তার মাদক ব্যবসার কৌশল বর্ণনা করে।’

তার নামে বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বচ্ছ নির্বাচনে উদাহরণ তৈরি করল পোশাক শ্রমিকরা

স্বচ্ছ নির্বাচনে উদাহরণ তৈরি করল পোশাক শ্রমিকরা
ভোট দিচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাজীপুর থেকে: কারখানায় উৎপাদন চলছে পুরোদমে। সুইং মেশিনে সেলাই হচ্ছে নামী ব্র্যান্ডের পোশাক। আবার একইসঙ্গে চলছে ভোট উৎসব।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সরেজমিনে এমন দৃশ্যই দেখা গেল গাজীপুরে চন্দ্রায় ইন্টারস্টফ এ্যাপারেলস লিমিটেড নামে তৈরি পোশাক কারখানায়।  

নিরাপত্তার নামে নেই কোনো কড়াকড়ি। কিংবা কাউকে ভোট দেবার বিষয়ে চাপাচাপিও নেই। চারপাশে কর্মমুখর পরিবেশ। শ্রমিকরা যাচ্ছেন পোলিং কেন্দ্রে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে নিজের ভোট দিচ্ছেন। আবার ফিরে এসে নিজের কাজে যোগ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566460238260.jpg
কর্মকর্তারা নজরদারি করছেন

 

পার্টিসিপেশন কমিটি (পিসি) নামে পরিচিত শ্রমিক ও মালিক অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে শ্রমিকদের চোখে মুখে নতুন দিনের সোনালী স্বপ্ন।

রোজিনা খাতুন নামে এক অপারেটর জানান, আমাগো ইলেকশন থাইকা সবার অনেক কিছু শেখার আছে। এ ইলেকশনে স্যাররা (কর্মকর্তারা) যেভাবে নজরদারি করছেন ভোট শেষ হইলে পরে কেউ কারচুপির অভিযোগ করতে পারে না।

নির্বাচন নিয়ে কথা হয় নির্বাচন কমিশনার ও কারখানার জেনারেল ম্যানেজার আমজাদ হোসেনের সঙ্গে।

তিনি জানান, ৪ হাজার ৬০০ শ্রমিক স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এদের সংখ্যা হবে ১৮ জন। এদের মধ্য থেকেই আবার একজনকে নির্বাচিত করা হবে সহ-সভাপতি হিসেবে।

কারখানার একজন পরিচালক পদাধিকার বলে সভাপতি। আর সহ-সভাপতি ও নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা মিলেই নির্ধারণ করেন কারখানার কর্ম পরিবেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566460330151.jpg

 

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কেবল শ্রমিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশের চর্চা হচ্ছে না, তারা নিজেরাও সচেতন হচ্ছেন। তাদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবেন যিনি তাকেই যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (ওয়্যারহাউজ) আনজুর হোসেন জানান, বৈশ্বিক কারণে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানার মান বেড়েছে। শ্রম আইন ও বিভিন্ন বিদেশি ক্রেতাদের বেঁধে দেয়া শর্ত অনুযায়ী এখন কারখানায় পার্টিসিপেশন কমিটি (পিসি) নামে পরিচিত  শ্রমিক ও মালিক অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হচ্ছে। এটা অবশ্য আমাদের কারখানায় নতুন নয়। এর আগেও এমন তিনটি নির্বাচন হয়েছে।

দুই বছর মেয়াদী এই কমিটি শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে বলেন আনজুর হোসেন।

কারখানার সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং ও মার্সেন্ডাইজিং) এস এম শফিকুর রহমান, এ ধরনের নির্বাচন কারখানার কর্ম পরিবেশকে নি:সন্দেহে উন্নত করে। কারখানার উৎপাদনশীলতা বাড়লে শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা বাড়ে। শিল্প রক্ষায় মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক রক্ষা জরুরি। আর এ নির্বাচন সেই বন্ধনকে আরো জোরদার করবে বলে আশা করছেন এস এম শফিকুর রহমান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566460353553.jpg
ভোট দিচ্ছেন শ্রমিকরা 

 

কারখানার সিনিয়র কাটারম্যান, শ্রমিক ও মালিক অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি কমিটির বিগত সহ-সভাপতি তুহিন হোসেন এবারও নির্বাচনে প্রার্থী।

তিনি জানান, এ নির্বাচন শ্রমিকদের সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি জানান, শ্রমিকরাই যে কারখানার প্রাণ আর শ্রমবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে সে বিষয়ে তারা সচেতন হচ্ছেন। তৈরি পোশাক খাত নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা হলে পুলিশ কিংবা আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী এগিয়ে আসার আগেই নিজের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় নির্ভয়ে সামনে এসে দাঁড়ান শ্রমিকরা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনজুর হোসেন বলেন, তৈরি পোশাক কারখানা ও ভবিষ্যতের জন্য একটা বড় সুরক্ষার দেয়াল তৈরি করতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে তৈরি পোশাক খাতে নতুন দিগন্ত।  

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র