Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

টানা আন্দোলনেও আশ্বাস পাননি শিক্ষার্থীরা

টানা আন্দোলনেও আশ্বাস পাননি শিক্ষার্থীরা
গত ৬ জুলাই থেকে চার দফা দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচী শুরু করে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
চট্টগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন ও ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ রেখে টানা নবম দিনের আন্দোলনেও কোনো আশ্বাস পাননি চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা।  

রোববার (১৪ জুলাই) দাবি আদায়ে সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে  আন্দোলনকারীরা।

সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই থেকে চার দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচির অংশ হিসেবে নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ বেসিক গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিবিজিএসএনও) আন্দোলন করে যাচ্ছে। চার দফা দাবিগুলো হলো- নার্সিং পেশায় স্বতন্ত্র ক্যাডার সার্ভিস (বিসিএস) চালু, ইন্টার্ন ভাতা ছয় হাজার থেকে ২০ হাজারে উন্নীত করা, নার্সিং কলেজকে পূর্ণাঙ্গ কলেজে রূপান্তর এবং পুরাতন পাঠদান বহাল রাখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563112813737.jpg
দাবি আদায়ে সকাল থেকেই প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা 

 

সংগঠনটির সহসভাপতি সাব্বির  আহমেদ খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'নার্সিং কলেজে ভর্তির সময় আমাদের পাঠ্যবইয়ে লেখা ছিল নার্সিং ইজ অ্যা নোবেল প্রফেশন, নার্সিং ইজ অ্যা আর্ট অ্যান্ড সায়েন্স। অন্য কোনো পেশায় এর সুযোগ নেই। আমাদের মাঝেও এমন প্রেরণা কাজ করে সব সময়। অথচ নোবেল প্রফেশনের শিক্ষার্থীরা নয় দিন ধরে আন্দোলন করলেও  কোনো সাড়া পাচ্ছে না।' 

এদিকে ক্লাস, পরীক্ষা আর ক্লিনিক্যাল প্যাকটিস থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবির প্রতি শক্ত অবস্থান থাকায় বিপর্যয় নেমে এসেছে প্রশাসনিক কার্যক্রমে। যাতে সংহতি জানিয়ে দেশের সকল নার্সিং কলেজেও  আন্দোলন  অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ বাসন্তী রায়কে একাধিকববার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। 

আপনার মতামত লিখুন :

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার দুই আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি এলজি ও ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (২৪ আগস্ট) ভোর রাতে টেকনাফের জাদিমোরা পাহাড়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ শাহ ও একই ক্যাম্পের আব্দুল আজিজের ছেলে মোহাম্মদ শুক্কুর। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঐ ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিল। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে যুবলীগ নেতা হত্যার আসামি তারা।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে গুলি চালায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে এসব অস্ত্র ও দুইজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি প্রদীপ কুমার।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে টেকনাফের জাদিমোরা ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা
তালতলীর রাখাইন পল্লীতে কাপড় বুনছেন এক তাঁত শিল্পী/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরগুনা জেলার দক্ষিণে সর্বশেষ উপজেলা তালতলী। ১৭০০ সালের শেষের দিকে মিয়ানমারের আরাকানের মেঘাবতীর সান্ধ্যে জিলার ছেং ডোয়ে, রেমেত্রে, মেং অং অঞ্চল ত্যাগ করে রাখাইনরা এখানে বসবাস শুরু করেন।

তারপর থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য রাখাইন নারীরা তাঁতের কাপড় বোনা শুরু করেন। সেই থেকে কয়েক বছর আগেও তালতলীতে রাখাইনদের তাঁত শিল্ল ছিল জমজমাট। কিন্তু রাখাইন পল্লীতে তাঁত শিল্পের সেই সূবর্ণ দিন এখন আর নেই।

তাঁত বুনার যন্ত্রপাতি পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এই শিল্পের কারিগররা বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। গুটিকয়েক যারা আছেন, ভালো নেই তারা। এখন অনেকটা মানবেতর জীবন পার করছেন এই উপজেলার রাখাইন পল্লীর মানুষজন। বিলুপ্তির পথে এই তাঁত শিল্প।

শীতকালে জনপ্রিয় পোশাক এ তাঁতের কাপর। তাই আগামী শীত মৌসুমের আগে তাঁত শিল্পতে ফিরতে চাচ্ছেন রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা, চাচ্ছেন সরকারি সহযোগিতা। উপজেলা প্রশাসনও বলছে, তাদের নতুন করে প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে তাঁত শিল্পে ফিরিয়ে আনা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618833416.gif

জানা যায়, রাখাইন পল্লীতে এক সময় দিন রাত সমান তালে তাঁতের ঠক ঠক আওয়াজ শোনা যেত। তাঁতিদের কর্মব্যস্ততায় সরগরম ছিল রাখাইন পাড়া। উপজেলার রাখাইন মার্কেটে ছিল তাঁতের শাড়ি-কাপড় ক্রয় করার ধুম।

আর এখনে সেই মাকের্টে নেই বেচা-কেনার জট, নেই রাখাইন পল্লীতে কর্মব্যস্ততা। একদিকে যেমন সুতার সংকট, অন্যদিকে সুতার মাত্রাতিরিক্ত দাম, পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সহায়তা, পণ্য বিক্রির পরিবেশ না থাকাসহ নানা সমস্যায় স্থবির হয়ে আছে রাখাইনদের তাঁত শিল্প।

এদিকে দুয়েকটি পাড়ায় তাঁত শিল্প দেখা গেলেও শুধু নিজেদের প্রয়োজনে কাপড় বুনছেন তারা। বাজারজাত করতে হলে সরকারি সহযোগিতা চান সাধারণ এ তাঁত শিল্পীরা।

রাখাইন তাঁত শিল্পী লাচা নো বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘সুতার দাম বেমি থাকায় এখন আর কাপড় বোনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমাদের জীবন যাপন কষ্টে কাটতেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618864981.gif

মনুকে পাড়ার চিং খে উই রাখানই বলেন, ‘এখন নিজেদের প্রয়োজনে দুয়েকটি কাপড় বোনা হয়। আগে কাপড় বুনে শেষ করতে পারতাম না।’

কবিরাজ পাড়ার তাঁতি খেনাচিং বলেন, ‘সুতার দাম বেশি ও কাপড় বিক্রির সুযোগ না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের প্রিয় শিল্প। আর তরুণরা ঝুঁকছে অন্য পেশায়।’

তালতলী উপজেলা তাঁতি সমিতির সভাপতি মংচিন থান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম.কে বলেন, ‘এক সময় রাখাইনদের ঐতিহ্য তাঁত শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সুতার দাম বেশি ও বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় রাখাইন পল্লির মানুষগুলো অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। এ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে দরকার সরকারি সহযোগিতা।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘তাঁত শিল্পিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল থেকে রাখাইনের তাঁত শিল্পিদের জন্য মার্কেট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র