Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কোদাল হাতে পানিতে এডিসি!

কোদাল হাতে পানিতে এডিসি!
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম প্লাবিত এলাকায় পানি আটকানোর কাজ করছেন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
নিয়াজ আহমেদ সিপন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
লালমনিরহাট


  • Font increase
  • Font Decrease

চারদিনের টানা বর্ষণের সঙ্গে উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চল থেকে শুরু করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে প্রায় ১০/১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় হাতীবান্ধার সিন্দুর্ণা ইউনিয়নের রাস্তার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেলে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যান লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পান এক যুবক একা কোদাল দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি সার্বিক) রফিকুল ইসলাম কোদাল হাতে নিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে পানি আটকানোর কাজে সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল ৪টার দিকে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি সার্বিক) রফিকুল ইসলাম প্লাবিত এলাকা দেখতে আসেন। পরিদর্শনে এসে তিনি দেখেন ওই এলাকার একটি ছেলে একা কোদাল হাতে নিয়ে রাস্তা উপচে যাওয়া পানি মাটি দিয়ে আটকানোর করছে। সেখানে কেউ এগিয়ে আসছে না। এমন দৃশ্য দেখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম নিজে কোদাল হাতে নিয়ে পানিতে নেমে পড়েন। পরে এলাকাবাসীরা এগিয়ে এসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলামকে পানি আটকানোর কাজে সহযোগিতা করেন। রাত ৮টার দিকে লালমনিরহাট জেলা প্রসাশক আবু জাফর ওই স্থান পরির্দশন করেছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/12/1562886721133.jpg

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত চারদিনের ভারী বৃষ্টি। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। নৌকা বা ভেলা ছাড়া চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধেঁয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। চারদিকে অথৈ পানির কারণে গবাদি পশুপাখি নিয়ে অনেকটা বিপাকে চরাঞ্চলের খামারি ও চাষিরা। এলাকায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির অভাব।

জেলার ৫ উপজেলার প্রায় ১০/১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা। পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষগুলো বেশি কষ্ট পোহাচ্ছে।

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে এ ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম বলেন, তিস্তায় সামান্য পানি বাড়লেই কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে তালিকা করে কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি প্রবাহ রাত ৯টায় বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণ করতে ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

অনার্স পড়তে হলুদ ক্ষেতে কাজ করেন জিপিএ-৫ পাওয়া রুবেল

অনার্স পড়তে হলুদ ক্ষেতে কাজ করেন জিপিএ-৫ পাওয়া রুবেল
রুবেল হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

প্রাইভেট বা কোচিং করা ভাগ্যে জোটেনি। তবে শুধুমাত্র নিয়মিত ক্লাস করেই এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন রুবেল হোসেন। কিন্তু ভালো ফলাফল করেও শুধুমাত্র অর্থাভাবের কারণে এখন উচ্চ শিক্ষা (অনার্স) নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

রুবেল হোসেন চলতি বছর নাটোরের বাগাতিপাড়ার তকিনগর আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার (২০ জুলাই) উপজেলার তকিনগর মাঠে হলুদ ক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করার সময় কথা হয় রুবেলের সঙ্গে।

রুবেল জানান, তার বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার কামারহাটি গ্রামে এবং দিনমজুর এনামুল হকের ছেলে। তিনি বাগাতিপাড়ার তকিনগর গ্রামে স্থানীয় আবুল কালামের বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করছেন। অভাব অনটনের কারণে মাঠে শ্রমিকের কাজ করতে হয় তাকে। আর তা থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পড়ালেখা করেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563616571411.jpg

জানা গেছে, একই প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি শাখার কম্পিউটার ট্রেডে এসএসসি পরীক্ষাও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন রুবেল। এবার কারিগরি বিএম শাখার হিসাবরক্ষণ ট্রেড থেকে জিপিএ-৫ পেলেন তিনি।

রুবেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে অনার্স পড়তে চান। কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তির জন্যও কোনো কোচিং করতে পারছেন না।

এদিকে দিনমজুর বাবা এনামুল হকের একার পক্ষে সংসারের খরচের পাশাপাশি ছোট বোন ইমা খাতুন ও রুবেলের পড়া-লেখার খরচ জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব।

তবে কী অভাবের কাছে হার মানবে রুবেলের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা? এমন প্রশ্ন তার মা সাবিনা বেগমের।

তিনি বলেন, ‘ছেলে ভালো ছাত্র। নিজের চেষ্টায় এ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। এখন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য মানুষের হলুদের ক্ষেতে কাজ করছে। কিন্তু সেই টাকায় কী বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করা সম্ভব। আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তবে কেউ সাহায্য করলে ছেলের স্বপ্ন হয়তো পূরণ হতো। বিভিন্ন জায়গায় ভর্তির পরীক্ষাগুলো দিতে পারত।’

নাটোরের বাগাতিপাড়ার তকিনগর আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাবরক্ষণ ট্রেডের শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, রুবেল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। সুযোগ পেলে জীবনে অনেক বড় কিছু করতে পারবে সে।

মাছই হবে প্রধান রফতানি সম্পদ: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মাছই হবে প্রধান রফতানি সম্পদ: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
নেত্রকোনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেছেন, মাছে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবুও মৎস্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। মৎস্য আমাদের প্রধান রফতানি সম্পদ হবে।

শনিবার (২০) দুপুরে নেত্রকোনায় ‘স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি’র মৎস্য খামারে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষের প্রতিদিন ৬০ গ্রাম মাছের চাহিদা রয়েছে। আর বর্তমানে মাছ মজুদ আছে জনপ্রতি সাড়ে ৬২ গ্রাম। মাছের উৎপাদন আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

Netrokona

আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে উন্মুক্ত নদী, হাওর ও বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়ে থাকে। কিন্তু সেসব পোনা কারেন্ট জাল ও মশারি জালের মাধ্যমে নিধন করা হচ্ছে, যা আইনগতভাবে অপরাধ। এভাবে মাছ না ধরতে এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানাই।

কারেন্ট ও মশারি জাল দেখলেই ধরে পুলিশকে খবর দিতে স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।

আলোচনা সভায় ‘স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মতীন্দ্র সরকারের সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আল মজিদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীলিপ সাহা প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র