Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের হাতে বাচ্চা জবাই

মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের হাতে বাচ্চা জবাই
ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা : খুলনায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক মা ৯ মাসের সন্তানকে জবাই করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০ বছর বয়সী মা শ্রাবনীকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে খুলনা নগরীর হরিণটানাস্থ রায়েরমহলে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ৯ মাস বয়সী মেহেবকে জবাই করে হত্যার পরেও মানসিক ভারসাম্যহীন মা শ্রাবনী পালিয়ে যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জবাই হওয়া বাচ্চার বাবা জামাল হোসেন খুলনার একটি চকোলেট কোম্পানিতে কাজ করে। সকালে মেহেবের বাবা জামাল কাজে বের হয়ে গেলে মা শ্রাবনী ঘরের বটি দিয়ে বাচ্চাকে জবাই করে। এরপরে শ্রাবনী বাচ্চার বাবা জামালকে মোবাইলে কল দিয়ে বাচ্চাকে জবাই করার কথা জানায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/02/1562056184894.jpeg

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বার্তা২৪. কম-কে বলেন, ‘রায়েরমহলে মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের হাতে বাচ্চা জবাইয়ের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে মা শ্রাবণীকে (২০) আটক করা হয়েছে। জবাইয়ের পরে সে রক্তমাখা বটি ধুয়ে রেখে দেয়।’

তিনি জানান আগেও দু’বার শ্রাবনী তার শিশু সন্তানকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে লোকজন দেখে ফেলায় হত্যা করতে পারেনি। সকালে বাবা না থাকার সুযোগে সন্তানকে জবাই করে শ্রাবনী।

আপনার মতামত লিখুন :

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় নিহত ২

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় নিহত ২
শ্লীলতাহানির চেষ্টাকারী আকবরের ছুরিকাঘাতে নিহত হন স্কুলছাত্রীর মামা হাসান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চুয়াডাঙ্গায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও অপহরণচেষ্টাকালে অপহরণকারীর ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রীর মামা হাসান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত হাসানের পিতা হামিদুল ও স্কুলছাত্রী সুমাইয়া (১৪) আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ সময় এলাকাবাসী ঘটনাস্থল থেকে অপহরণচেষ্টাকারী আকবর আলীকে আটক করে এবং পরবর্তীতে গণপিটুনিতে আকবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত আকবার আলী চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বড় মদনা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে চুয়াডাঙ্গার সদর থানার আমিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সদর থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে আকবর আমিরপুর গ্রামে হামিদুলের বাড়িতে স্কুলছাত্রী সুমাইয়ার ঘরে ঢুকে অপহরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় স্কুলছাত্রীর চিৎকারে তার নানা হামিদুল ও মামা হাসান এগিয়ে আসেন।

অপহরণে বাধা দেওয়ায় হামিদুল ও হাসানকে কুপিয়ে জখম করেন আকবর। এ সময় তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আকবরকে আটক করে ও আহতদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর গ্রামে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন অপহরণচেষ্টাকারী আকবর।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বেনাপোলে পণ্য পরীক্ষণ জটিলতায় লোকসানে ব্যবসায়ীরা

বেনাপোলে পণ্য পরীক্ষণ জটিলতায় লোকসানে ব্যবসায়ীরা
বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের ফাইল ছবি

বেনাপোল স্থলবন্দরের যাত্রা শুরু প্রায় ৪৭ বছর আগে। তবে পথ চলার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বন্দরটি এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষত কেমিক্যাল ও খাদ্যদ্রব্য পরীক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই এ বন্দরে।

এতে মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়া। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে ভোক্তার ওপর।

ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরের বাইরে থেকে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করিয়ে রেজাল্ট আসতে কখনও কখনও মাসের অধিক সময়ও লেগে যায়। এতে তারা যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হন তেমনি বন্দরে লম্বা সময় পণ্য চালান আটকে থেকে গুণগত মানও নষ্ট হয়। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দাতা এ বন্দরে পণ্য পরীক্ষণের নিজস্ব ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, পরীক্ষাগার স্থাপনের বিষয়টি ইতিমধ্যে তারা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে দেশের স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয় তার ৭০ শতাংশ আসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। এ পথে বছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে, যা থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করে। বন্দরে আমদানি পণ্য খালাসের অন্যতম শর্ত পণ্য পরীক্ষণ। এ বন্দর দিয়ে সাড়ে তিন শতাধিক আইটেমের পণ্য আমদানি হয়। যার মধ্যে খাদ্যদ্যব্যের কাঁচামাল, কসমেটিকস ও শিল্প কারখানার কেমিক্যাল জাতীয় ৫৫টি পণ্য পরীক্ষণ সার্টিফিকেট ছাড়া খালাস করা হয় না। কিন্তু পণ্য পরীক্ষণের ভালো কোন ব্যবস্থা নেই বেনাপোল বন্দরে। ফলে আমদানি করা খাদ্যদ্রব্য, খাদ্যদ্রব্যের কাঁচামাল, কসমেটিকস ও শিল্প কারখানার কেমিক্যাল বাইরে থেকে পরীক্ষণে মাসের অধিক সময় নষ্ট হয়। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

আমদানিকারক উজ্জ্বল বিশ্বাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে যে সব পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয় তার বড় একটি অংশ ক্যেমিক্যাল আর শিশুখাদ্য। বন্দরে পণ্য পরীক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় খুলনা বা ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষা করাতে ১৫ থেকে ২০ দিন আবার কখনও মাসের অধিক সময় লেগে যায়। এতে দীর্ঘদিন ধরে এসব পণ্য বন্দরে পড়ে থাকায় অনেক সময় মানও নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি আমদানি পণ্য বন্দর শেডে বা ট্রাকে রেখে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় ব্যবসায়ীদের। যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তার ওপর।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বার্তাটোয়েন্টিফোরকে বলেন, বন্দরে বিএসটিআই ও বিএসআইআর-এর যে মারাত্মক সমস্যা তা নিরসন হওয়া দরকার। এটা বড় সদস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি পণ্য চালান আমদানি করতে এলসিসহ ধাপে ধাপে বিভিন্ন খরচ আছে। যদি পরীক্ষণ সমস্যায় লম্বা সময় পণ্য চালান আটকে থাকে তবে সব খরচ ব্যবসায়ীর ঘাড়ের ওপর পড়ে। আর যদি সময়মতো কাঁচামাল কারখানায় না পৌঁছায় তবে তা কাজে লাগাতে পারেন না ব্যবসায়ীরা।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, পরীক্ষা করাতে হয় এমন অনেক পণ্য ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে রফতানি হয়। কিন্তু সেখানে ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পণ্যের রিপোর্ট ই-মেইলের মাধ্যমে চলে আসে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য বেনাপোল বন্দরে এ সুবিধা নাই। চট্রগ্রাম বন্দরে ৫৫টি পণ্যের বাইরে যদি কোন খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয় তবে মানুষের খাবারের উপযোগী এমন সার্টিফিকেট দিলে ওই পণ্য পুনরায় আর পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। চট্টগ্রামে যদি ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা পান তবে বেনাপোল বন্দরে সেই সুবিধার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দিক-নির্দেশনার বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

বেনাপোলের কাস্টমস কমিশনার মুহাম্মদ বেলাল হুসাইন চৌধুরী জানান, চট্রগ্রাম বন্দরে বিএসটিআই ও বিএসআইআর’র শাখা আছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে এ সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়ে আসছেন। এতে শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রভাব পড়ে বাজারে ভোক্তার ওপর। বেনাপোল বন্দরে কাস্টমস হাউজে স্বল্পপরিসরে বিএসটিআই-এর একটি শাখা চালু হয়েছে। তবে বিসিএসআইআর-সহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখাও যাতে দ্রুত স্থাপন হয় তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র