Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

১০ বছরেও চালু হয়নি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল

১০ বছরেও চালু হয়নি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল
বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলটি নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঝিনাইদহ


  • Font increase
  • Font Decrease

নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি ঝিনাইদহ বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল। শহরের সার্কিট হাউস সড়কের পাশে তিন একর জমির ওপর সমাজসেবা অধিদফতরের মুক-বধির আবাসিক স্কুল স্থাপন প্রকল্পের আওতায় স্কুলটি নির্মাণ করা হয়।

জেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্কুলটির নির্মাণ শুরু হয় ২০০২ সালে, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৬ সালের মধ্যে। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০০৯ সালে। ব্যয় হয় চার কোটি ১৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন, দুটি আবাসিক হলসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়।

স্কুলটিতে প্রতিবছর যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা থেকে মোট ৫০ জন ছেলে ও ৫০ জন মেয়ে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীকে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল।

আরও জানা গেছে, স্কুলের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই আসবাপত্র ও শিক্ষার্থীদের বিছানাপত্র সরবরাহ করা হয়। কিন্তু স্কুল চালু না হওয়ায় সেগুলো সমাজসেবা অধিদফতরের মধুপুর শিশু পরিবারে রাখা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় যার অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। যার মধ্যে দুটি ল্যাপটপও রয়েছে।

স্কুলের জন্য একজন প্রধান শিক্ষক, একজন হাউস প্যারেন্ট, দুই জন শিক্ষক, দুই জন কারিগরি শিক্ষক, একজন হিয়ারিং এইড টেকনিশিয়ান, একজন মেট্রন কাম নার্সসহ ১৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু আজও কোনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

স্কুলটি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের হলেও এখানে দুইজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের অন্যত্র ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এক দিনও ক্লাস হয়নি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খোরাকি বাবদ চলতি অর্থ বছরে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসলেও তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলা সমাজসেবা অফিসের একজন সহকারী পরিচালক স্কুলটি দেখভাল করছেন।

এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুষেন্দু কুমার ভৌমিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এটি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের পর দীর্ঘদিন পড়ে আছে। চালু হলে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা উপকৃত হতো।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় স্কুলটি চালু করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে সমাজসেবা অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

রাস্তায় তাদের রান্না ঘর!

রাস্তায় তাদের রান্না ঘর!
রাস্তায় সংসার পেতেছেন গাইবান্ধ্যার বন্যা কবলিত মানুষ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধায় বন্যার পানি কমতে শুরু হলেও, কমছে না পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ। এখনো ঘরে ফিরতে পারে নি বানভাসি মানুষ। ফলে গৃহহারা পরিবারের গৃহিনীরা রাস্তার মধ্যে চুলা বসিয়ে রান্নার কাজ করছে।

জানা যায়, চলমান বন্যায় গাইবান্ধা জেলার পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ ১৮০টি আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছে। অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও বাঁধের উপরে বসবাস করছে।  এসব মানুষ মাথার উপর পলিথিন ও ট্রিপল টাঙ্গিয়ে দিন পার করছেন। আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আকাশের কাল মেঘ জমলেই তাদের মধ্যে ভীতি বিরাজ করে। কারণ একটু বৃষ্টি হলেও তাদের ভিজে যাবে বিছানাপত্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563797351450.jpg

 বন্যা কবলিত এসব মানুষের নেই কোনো বাসস্থান। খাবার ও চিকিৎসাসহ নানান কিছুর অভাবে ভুগছেন। কে, খাবার দিবে এমন সন্ধানে তারা ছুটাছুটি করছেন। এসব পরিবারের খেটে খাওয়া মানুষরা কোথাও শ্রম বিক্রি করতে পারছেন না। কারণ চারিদিকে থৈ থৈ পানি। কৃষকের ফসলের মাঠ ডুবে আছে পানির নিচে। ফলে কারো কেনো শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে না। এ জন্য দিনমজুর মানুষদের শ্রমের চাহিদা নেই। বন্যায় আশ্রিত মানুষদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে ভিক্ষবৃত্তি শুরু করেছে। দিন শেষে যেটুকু পায়, সেই টুকু দিয়ে কোনো মতে খেয়ে বেঁচে আছেন। সবমিলে নানাবিধ আহাজারি শুরু হয়েছে।

আশ্রিত বানভাসি লুৎফর রহমান জানান, ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছি। কবে নাগাদ ঘরে ফিরতে পারব তার কোনো অন্ত নেই। টাকা পয়সার অভাবে কোনো মতে জীবন যাপন করছি।

বাচ্ছারাণী সরকার নামের এক বৃদ্ধা বলেন, এবারের বানের পানিতে ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে রয়েছে। আশ্রয় নিয়েছি শহর রক্ষা বাঁধে। সারাদিন ভিক্ষাবৃত্তি করে যা পাই, রাস্তায় চুলা বসিয়ে তা রান্নাবান্না করে খাই।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বন্যা দুর্গত মানুষদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। যা চলমান থাকবে।

হত্যা মামলায় যুবদল নেতাসহ পাঁচজনের যাবজ্জীবন

হত্যা মামলায় যুবদল নেতাসহ পাঁচজনের যাবজ্জীবন
প্রতীকী

ফরিদপুরের নগরকান্দার কার্তিক সিকদার হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় যুবদল নেতা সিরাজ মোল্যাসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ দায়রা আদালতের হাকিম মো. মতিয়ার রহমান এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে হাজির ছিল।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নগরকান্দার চর যশোরদী ইউনিয়ন যুবদলের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজ মোল্লা (৩৬) ও তার চার সহযোগী নয়া মোল্লা (৬০), ইমারত মোল্লা (৩২), কালাম মোল্লা (৩৮) ও সিদ্দিক মোল্লা (৩৬)।

২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষের দিকে চর যশোরদী ইউনিয়নের মেঘারকান্দি গ্রামের কার্তিক সিকদারের এক নাবালিকা কন্যাকে জোর করে অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন সিরাজ মোল্লা। এরপর সিরাজ কার্তিক সিকদারের বাড়িঘর দখল করে নিজে বসবাস শুরু করেন।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১ জুন রাতে সিরাজ ও তার সহযোগীরা কার্তিক সিকদারকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে ফেলে রেখে যায়। আহত কার্তিককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতেও বাধা দেওয়া হয়। পরদিন ২ জুন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান কার্তিক সিকদার।

২০০৭ সালের মার্চ মাসের ১৩ তারিখে নিহত কার্তিক সিকদারের স্ত্রী মিলনী সিকদার জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে সিরাজ সিকদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র