Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

টাঙ্গাইল কারাগারে রানা, আদালতের নির্দেশ পৌঁছালেই জামিন

টাঙ্গাইল কারাগারে রানা, আদালতের নির্দেশ পৌঁছালেই জামিন
টাঙ্গাইল-৩ আসনের সা‌বেক এম‌পি আমানুর রহমান খান রানা, ছবি: সংগৃহীত
অ‌ভি‌জিৎ ঘোষ
ডি‌স্ট্রিক্ট ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট টাঙ্গাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য টাঙ্গাইল কারাগা‌রে র‌য়ে‌ছেন সা‌বেক এম‌পি আমানুর রহমান খান রানা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ র‌য়ে‌ছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক মো. তানভীর। তবে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছা‌লে তি‌নি এখান থে‌কে মু‌ক্তি পা‌বেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার (১৯ জুন) টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রানাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এতে করে তার আর মুক্তিতে কোন বাঁধা রইল না। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ। রানার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও রুশো মোস্তফা।

আরও পড়ুন: সাবেক এমপি রানার মুক্তিতে বাধা নেই

গত ৬ মার্চ এই মামলায় তাকে ছয় মাসের জামিন দিয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদনের পর চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান গত ১৪ মার্চ জামিন স্থগিত করে দেন। পরে ২৩ এপ্রিল আপিল বিভাগ ওই স্থগিতাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন।
গত ১৮ জুন (মঙ্গলবার) ওই রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। বুধবার রুল মঞ্জুর করে রায় দেন হাইকোর্ট। এখন এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করবে।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক মো. তানভীর বলেন, 'যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় আমানুর রহমান খান রানাকে উচ্চ আদালতকে জামিন দিয়েছেন। তবে আদেশের কপি এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। এছাড়া বৃহস্পতিবার (২০জুন) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ রয়েছে। এ কারণে রানাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে টাঙ্গাইল কারাগারে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফারুক হত্যা মামলায় তাকে আদালতে তোলা হবে।'

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে টাঙ্গাইলে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা আব্দুল আজিজ টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে।

এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ গত বছর ১১ মার্চ, শাহাদত হোসেন ১৬ মার্চ এবং হিরন মিয়া ২৭ এপ্রিল আদালতে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন রানার দিক নির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল।

এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যার সঙ্গে রানার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তারপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

ফারুক হত্যা মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। তবে যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় এর আগে দেয়া জামিন স্থগিত থাকায় তিনি কারাগারেই আছেন। কিন্তু এখন দুইটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে রানাকে জামিন দেয়ায় আর কারাগার থেকে মুক্তিতে কোন বাঁধা রইল না।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় তৎকালীন সাংসদ আমানুর ও তার ভাইদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় রানার ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪জন আসামি রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেল সুপার মঞ্জুর হোসেন বলেন, 'আজকে ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহনের জন্য আমানুর রহমান খান রানাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে আনা হয়েছে। তিনি উচ্চ আদালত থেকে এই মামলায় জামিনে রয়েছেন। তবে যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায়ও বুধবার উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন বলে শুনেছি। আদালতের মাধ্যমে জামিনের আদেশ কারাগারে পৌছলে টাঙ্গাইল কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হতে পারবেন।'

আপনার মতামত লিখুন :

বন্যায় ভেঙেছে সড়ক, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বন্যায় ভেঙেছে সড়ক, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা-বড়খাতার তালেব মোড়ের বাইপাস সড়কটি ভেঙে গেছে প্রায় দুই সপ্তাহেরও বেশি। অথচ এখনো পাকা রাস্তাটি মেরামত করা হয়নি। প্রতিদিন বাধ্য হয়ে হাঁটু পানিতে আবার কখনো কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে ওই এলাকার শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের।

জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত শনিবার (১২ জুলাই) মধ্যরাতে হাতীবান্ধা থেকে বড়খাতার বাইপাস সড়কের তালেব মোড় এলাকার পাকা সড়কটির বড় একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে হাতীবান্ধা-বড়খাতা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে এখানকার লোকজনের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563796596308.JPG

সরেজমিনে দেখা যায়, হাতীবান্ধা-বাড়খাতা শহরের সঙ্গে একমাাত্র পাকা রাস্তাটির ৭০ ফিট ভেঙে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এলাকার ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা হাঁটু পানিতে চলাচল করছে। বিকল্প না থাকায় এ পথেই যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। নৌকা বা ভেলায় চলাচল করতে হচ্ছে।

সড়ক ভাঙন কবলিত এলাকার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আইরিন, তাপস রায়, অনামিকা মীম, মিথিলা সরকার বলেন, আমাদেরকে হাঁটু পানিতে যেতে হলেও অনেকেকে কোমর পানিতে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় বই-খাতা ভিজে যায়। আমরা দ্রুত এই পাকা রাস্তাটি সংস্কারে দাবি জানাই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563796612549.jpg

গড্ডিমারী দ্বি-মুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যাালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এলজিডিকে জানানো হয়েছে। জানানোর পরও প্রকৌশল অধিদফতর থেকে এখনো রাস্তাটি সংস্কারে পদক্ষেপ নেয়নি।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভেঙে যাওয়া তালেব মোড়ের পাকা রাস্তাটি দ্রুত ঠিক করা হবে।

বান্দরবানে আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

বান্দরবানে আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা
বান্দরবানে তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মংমং থোয়াই মারমাকে গুলি করে হত্যা/

বান্দরবানে তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মংমং থোয়াই মারমাকে (৫০) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বান্দরবান জেলা সদরে আসার পথে রোয়াংছড়ি-বান্দরবান সড়কের শামুকছড়ি এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাকে ৫ রাউন্ড গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মংমং থোয়াই মারমার। সে তারাছা ইউনিয়নের বাসিন্দার মিক্যা জাই মারমার ছেলে।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সদর হাসপাতালের চিকিৎসক চিংম্রাসা বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আনার সময় তার দেহে প্রাণ ছিলো না।

এদিকে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে ছুটে যান।

আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে রোয়াংছড়ি বাজারের একটি হলরুমে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফেরার পথে ব্রাশ ফায়ার করে আওয়ামী লীগ নেতা মংমং থোয়াই মারমাকে হত্যা করা হয়েছে। সে তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র