Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আম পাঠাতে কুরিয়ারে ভিড় চাঁপাইয়ে

আম পাঠাতে কুরিয়ারে ভিড় চাঁপাইয়ে
কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে চাঁপাইয়ের আম
মো. তারেক রহমান
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

এই সময়ের বাজার মানেই খিরসাপাত, গোপালভোগ ও ল্যাংড়াসহ সুস্বাদু নানান আমের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর। আর আম মানেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সারাদেশের আমপ্রিয় মানুষ অপেক্ষায় থাকে কখন চাঁপাইয়ের আম পাকবে। সেই আম বাজারে ওঠার আগে চাঁপাইয়ে চলে বুকিং বাণিজ্য। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন পরিচিত ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন, আমচাষি কিংবা বিক্রেতাদের মাধ্যমে আমের অর্ডার দিয়ে রাখেন।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা তাদের ঊর্ধ্বতনদের খুশি করতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে আম পাঠিয়ে থাকেন। বিভিন্ন মাধ্যমে আমের দাম পরিশোধের পর সেই আম কুরিয়ার মারফত পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে। জেলার বাইরে থাকা আত্মীয়স্বজনদের কাছে আম পাঠান স্থানীয়রা।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/19/1560956304192.jpg
তাই কেবল বিক্রেতারাই নন, আমকে ঘিরে চাঁপাইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্ধশতাধিক কুরিয়ার সার্ভিস বিভিন্ন গন্তব্যে আম পাঠাচ্ছে। তবে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর বিরুদ্ধে সার্ভিস চার্জ ইচ্ছেমত নেয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। আবার কোন কোন কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে আম গায়েব করারও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসএ পরিবহন, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, আহমদ পার্সেল সার্ভিস, করতোয়া, জননী, কন্টিনেন্টাল, এসআর, এজেআর কুরিয়ার, এমটি কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আম পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রেতাদের কাছে আম পাঠাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বুকিং দিচ্ছেন তারা।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/19/1560956334617.jpg
খুলনায় আম পাঠানোর জন্য জননী কুরিয়ার সার্ভিসে ঘণ্টাখানেক ধরে অপেক্ষা করছেন সৌরভ আলী। তিনি বলেন, প্রতি বছর আমের মৌসুম এলেই বিভিন্ন স্থান থেকে আমের জন্য ফোন আসে। কাউকে ফ্রি, আবার কাউকে টাকা নিয়ে আম পাঠাতে হয়।

কানসাট এলাকার নাসিমা বেগম জানান, ফরিদপুরে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম। সে সুবাদে বিভিন্নজনের সঙ্গে পরিচিত বাড়ে। অনেকে আম চেয়ে ফোন করেন। তাদের কথা রাখতে কুরিয়ারে আম পাঠাতে এসেছি। তবে আমের চাইতে কুরিয়ার খরচ বেশি। ২০ কেজি আম পাঠাতে প্রায় সাড়ে তিনশ’ টাকা খরচ হল।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সরাসরি রাজধানীতে আম পাঠাতে প্রতি কেজিতে তারা সার্ভিস চার্জ নিচ্ছেন ১০-১৩ টাকা এবং রাজধানীর বাইরে ১৭ টাকা। অর্ধশতাধিক কুরিয়ার তাদের নিজস্ব পরিবহনে বিভিন্ন গন্তব্যে আম পাটাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় দুই শতাধিক কুরিয়ারের গাড়ি বিভিন্ন গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে প্রতিদিন।

আপনার মতামত লিখুন :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বজ্রপাতে টিলার চালক নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বজ্রপাতে টিলার চালক নিহত
বজ্রপাত, ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বজ্রপাতে কালু (৩৭) নামে এক পাওয়ার টিলার চালক নিহত হয়েছেন। নিহত কালু উপজেলার সূর্যপুর দিয়াড়াপাড়ার মৃত রজব আলীর ছেলে।

নিহতের পারিবারিকসূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে কালু (৩৭) জমিতে ধান লাগানোর জন্য পাওয়ার টিলার চালাচ্ছিল। এসময় বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। বৃষ্টিপাতের এক পর্যায়ে টিলার চালানো অবস্থায় বজ্রপাতে কালু গুরুতর আহত হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে মাঠের অন্য কৃষকরা কালুকে উদ্ধার করে নাচোল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম নিহতের ব্ষিয়টি জানান, কালু নিহতের খবর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তার পরিবারতে আর্থিক সহায়তা করা হবে।

সাপের কামড়ের প্রতিষেধক দিতে টাকা দাবি: শিশুর মৃত্যু

সাপের কামড়ের প্রতিষেধক দিতে টাকা দাবি: শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে শিশু শাহজালাল ইসলাম (৫) বিষধর সাপের কামড়ে মারা গেছে। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে প্রতিষেধক নিতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। বাবা মোস্তফা ইসলাম টাকা দিতে ব্যর্থ হলে কয়েক ঘণ্টা পর শিশুটি বিষক্রিয়ায় মারা যায়।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় গুরুতর অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়।

সূত্রে জানা যায়, শিশু সন্তানকে বাঁচাতে তার বাবা-মা ঈশ্বরদী উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে বিষের প্রতিষেধক না থাকায় চিকিৎসকেরা শেষ ভরসা হিসেবে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

মৃত শাহজালালের বাবা টিউবওয়েল মিস্ত্রি মোস্তফা ইসলাম বলেন, 'ঈশ্বরদী আলহাজ্ব মোড় এলাকায় বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিত্যক্ত জায়গায় পাতার ছাউনি (ঝুপড়ি ঘর) তুলে বসবাস করি। বিকেলে শিশু শাহজালাল বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় বিষধর সর্প (কিংগোখরা) শিশুটিকে কামড় দেয়। বিষের ব্যথায় শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে, ঘরের মধ্যে ঢুকে দেখতে পায় বিষধর সাপ কামড় দিয়ে বিছানার উপর পায়চারি করছে। এ অবস্থায় দ্রুত শিশু সন্তানকে নিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়।'

শিশুটির মা রিতা খাতুন বলেন, 'আমরা গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। ছেলেটাকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তারদের খুব কাকুতি মিনতি করেছি। কিন্তু ছেলেটারে কোন চিকিৎসা করে নাই। আমার সঙ্গে পৌর সভার কাউন্সিলর সাঈদ হোসেন ছিলেন। ডাক্তাররা বিষ ধ্বংসের ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল। কিন্তু টাকা দিতে পারিনি। হাসপাতালে ডাক্তাররা আমার ছেলেটাকে ভর্তিও করেনি। প্রায় দু ঘণ্টা পর বিনা চিকিৎসায় শিশুটি মারা গেছে।'

এদিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর সাঈদ হোসেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের টাকা দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। 

এ ব্যাপারে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রঞ্জন দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'হাসপাতালে নিয়ে আসার পর সাপের কামড়ের শিকার এক শিশু মারা গেছে এমন কথা শুনেছি। সাপের বিষধ্বংসের প্রতিষেধক নিতে টাকা দাবি করেছেন জরুরী বিভাগের ডাক্তার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালে সাপের বিষ ধ্বংসের প্রতিষেধক নেই। রোগীর প্রয়োজনে স্বজনেরা টাকা দিয়ে বাইরে থেকে কিনে নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।

ডা. রঞ্জনের দাবি, হাসপাতালের বহিরাগত কেউ হয়তো টাকা দাবি করে চিকিৎসার কথা বলতে পারেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন হাসপাতালের এমন কেউ টাকা দাবি করেননি। যদি কোন চিকিৎসক সাপের বিষ ধ্বংসের প্রতিষেধক দেওয়ার নামে টাকা দাবি করে থাকেন, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন সহকারী পরিচালক রঞ্জন দত্ত।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের অবহেলা, ভর্তি না করানো এবং সাপের বিষ ধ্বংসের প্রতিষেধকের ব্যবস্থা না করায় শিশুটির করুণ মৃত্যু হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র