Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চাঁদপুরে বাবাকে খুনের দায়ে ছেলে আটক

চাঁদপুরে বাবাকে খুনের দায়ে ছেলে আটক
ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চাঁদপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ছেলে হোসেন গাজীর (২৬) হাতে বাবা দুদু গাজী (৬০) খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ হোসেন গাজীকে আটক করেছে।

বুধবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর উপাদী ইউনিয়নের উপাদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে দুদু গাজী স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরতেই হোসেন তার উপর চড়াও হয়। এ সময় ঘরে থাকা পিঁড়ি দিয়ে হোসেন তার বাবার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের মানুষজন দুদু গাজীকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুদু গাজী স্থানীয় শান্তিনগর বাজারে পান বিক্রি করতেন। হোসেন মানসিকভাবে অসুস্থ বলে জানা যায়।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ইকবাল বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। অভিযুক্ত হোসেন গাজীকে আটক করা হয়েছে। সে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

আপনার মতামত লিখুন :

সাপের কামড়ের প্রতিষেধক দিতে টাকা দাবি: শিশুর মৃত্যু

সাপের কামড়ের প্রতিষেধক দিতে টাকা দাবি: শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে শিশু শাহজালাল ইসলাম (৫) বিষধর সাপের কামড়ে মারা গেছে। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে প্রতিষেধক নিতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। বাবা মোস্তফা ইসলাম টাকা দিতে ব্যর্থ হলে কয়েক ঘণ্টা পর শিশুটি বিষক্রিয়ায় মারা যায়।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় গুরুতর অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়।

সূত্রে জানা যায়, শিশু সন্তানকে বাঁচাতে তার বাবা-মা ঈশ্বরদী উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে বিষের প্রতিষেধক না থাকায় চিকিৎসকেরা শেষ ভরসা হিসেবে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

মৃত শাহজালালের বাবা টিউবওয়েল মিস্ত্রি মোস্তফা ইসলাম বলেন, 'ঈশ্বরদী আলহাজ্ব মোড় এলাকায় বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিত্যক্ত জায়গায় পাতার ছাউনি (ঝুপড়ি ঘর) তুলে বসবাস করি। বিকেলে শিশু শাহজালাল বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় বিষধর সর্প (কিংগোখরা) শিশুটিকে কামড় দেয়। বিষের ব্যথায় শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে, ঘরের মধ্যে ঢুকে দেখতে পায় বিষধর সাপ কামড় দিয়ে বিছানার উপর পায়চারি করছে। এ অবস্থায় দ্রুত শিশু সন্তানকে নিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়।'

শিশুটির মা রিতা খাতুন বলেন, 'আমরা গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। ছেলেটাকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তারদের খুব কাকুতি মিনতি করেছি। কিন্তু ছেলেটারে কোন চিকিৎসা করে নাই। আমার সঙ্গে পৌর সভার কাউন্সিলর সাঈদ হোসেন ছিলেন। ডাক্তাররা বিষ ধ্বংসের ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল। কিন্তু টাকা দিতে পারিনি। হাসপাতালে ডাক্তাররা আমার ছেলেটাকে ভর্তিও করেনি। প্রায় দু ঘণ্টা পর বিনা চিকিৎসায় শিশুটি মারা গেছে।'

এদিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর সাঈদ হোসেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের টাকা দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। 

এ ব্যাপারে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রঞ্জন দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'হাসপাতালে নিয়ে আসার পর সাপের কামড়ের শিকার এক শিশু মারা গেছে এমন কথা শুনেছি। সাপের বিষধ্বংসের প্রতিষেধক নিতে টাকা দাবি করেছেন জরুরী বিভাগের ডাক্তার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালে সাপের বিষ ধ্বংসের প্রতিষেধক নেই। রোগীর প্রয়োজনে স্বজনেরা টাকা দিয়ে বাইরে থেকে কিনে নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।

ডা. রঞ্জনের দাবি, হাসপাতালের বহিরাগত কেউ হয়তো টাকা দাবি করে চিকিৎসার কথা বলতে পারেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন হাসপাতালের এমন কেউ টাকা দাবি করেননি। যদি কোন চিকিৎসক সাপের বিষ ধ্বংসের প্রতিষেধক দেওয়ার নামে টাকা দাবি করে থাকেন, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন সহকারী পরিচালক রঞ্জন দত্ত।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের অবহেলা, ভর্তি না করানো এবং সাপের বিষ ধ্বংসের প্রতিষেধকের ব্যবস্থা না করায় শিশুটির করুণ মৃত্যু হয়েছে।

মংলা বন্দরে পণ্য বোঝাই-খালাস বন্ধ

মংলা বন্দরে পণ্য বোঝাই-খালাস বন্ধ
মংলা সমুদ্র বন্দর/ ফাইল ছবি

মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি শুরু করেছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন মংলা সমুদ্র বন্দরের নৌ শ্রমিকরাও।

ফলে মংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহনের কাজ বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। যাত্রী, পণ্য ও তেলবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দরের সাথে সারাদেশের নৌপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।

এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা। দুর্ভোগে পড়েছেন লঞ্চের যাত্রী সাধারণও। এছাড়া তেলবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সড়ক পরিবহনেও।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ করে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বন্দরে অবস্থানরত ১২টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজসহ দেশীয় সকল জাহাজের পণ্য উঠা-নামার কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দর জেটিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।’

বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের মংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: বাচ্চু বলেন, ‘মালিক পক্ষ বিগত তিন মাস আগে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনে তা বাস্তবায়ন না করায় বাধ্য হয়েই আবারো কর্মবিরতি পালন করতে হচ্ছে। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র