Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নবাবগঞ্জ-দোহার


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার নবাবগঞ্জে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন মাদক ব্যবসায়ীরা।

রোববার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার ফুল্লা ইউনিয়নের আটকাউনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন (৩৫) ফুল্লা ইউনিয়নের মৃত জামাল হোসেনের ছেলে। আরিফ স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

জানা যায়, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার জের ধরে পূর্ব থেকেই আরিফের সাথে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী রতনের শত্রুতা তৈরি হয়। আরিফ একাধিকবার রতনকে মাদক ব্যবসা থেকে সরে আসার আহ্বান করেন। কিন্তু রতন তা না শুনে উল্টো আরিফকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এরই মাঝে আরিফ এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে থানায় অভিযোগও করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রতন আরিফকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেন। 

হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নিহত আরিফের ভাতিজি মৌসুমী (৩২) পুলিশকে জানান, রোববার সন্ধ্যায় আরিফ বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন আরিফ। এ সময় হঠাৎ মাদক ব্যবসায়ী রতন সহ কয়েক জন আরিফকে ধাওয়া করেন। এ সময় রতনের সাথে ছিলেন মো: সাইফুল হোসেন, এরশাদ, শাহ আলম, পিয়াস, আইয়ুব মোল্লা, মো: মজিবর ও রিয়াজুল।

পুলিশ জানায়, ধাওয়া খেয়ে আরিফ দৌড়ে গিয়ে পাশের চাচার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তার পিছু নিয়ে রতন সহ অন্য হামলাকারীরাও ঐ বাড়িতে ঢুকে পড়ে। পরবর্তীতে ঐ বাড়িতে থাকা মৌসুমী ও তার মাকে গলায় অস্ত্র ধরে জিম্মি করে এবং আরিফকে উপর্যপুরি কুপিয়ে জখম করে।

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দোহার সার্কেলের এএসপি এস এম জহিরুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার সাথে জড়িতদের সাথে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

নারায়ণগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি, যুবকের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি, যুবকের মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে অজ্ঞাত (২৫) এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা৷ গুরুতর অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷

শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৮ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির আলামিন নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে৷

স্থানীয়দের সূত্রে, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির আলামিন নগর এলাকার রাজমিস্ত্রী সোহেলের সাত বছরের মেয়ে সাদিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সন্দেহে ওই যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা৷ পরে উত্তেজিত জনতা ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়৷

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেন জানান, ছেলে ধরা সন্দেহে অজ্ঞাত এক যুবককে গণপিটুনি দেয় সাধারণ জনগণ ৷ খবর পেয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন৷

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা যে বাচ্চা মেয়েটিকে ধরেছে বলেছিল পরে তার অভিভাবক জানায়, তার মেয়ে স্কুলে ক্লাস করছে ৷ মেয়েটি স্থানীয় আইডিয়াল কিন্ডারগার্ডেনের ছাত্রী ৷ প্রাথমিকভাবে ছেলে ধরার ব্যাপারে কোন সত্যতা মেলেনি৷ নিহত যুবক গুজবের শিকার বলে ধারণা হচ্ছে ৷

এ ঘটনার দুই ঘণ্টা পর সকাল সোয়া দশটায় মিজমিজির শাপলা চত্বর এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে এক নারীকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা৷ পুলিশ খবর পেয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০  শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়৷

ত্রাণ পাচ্ছে না দুর্গম চরের বাসিন্দারা!

ত্রাণ পাচ্ছে না দুর্গম চরের বাসিন্দারা!
কমছে যমুনা নদীর পানি। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ধীরগতিতে পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষ আর গবাদি পশু একসঙ্গে বসবাস করছে। দুর্গম চরগুলোতে পানিবন্দী মানুষ পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি এবং গোখাদ্যের সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো ত্রাণ পেলেও দুর্গম চরে আটকে পড়া লোকজন পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছে না।

সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনার দুর্গম চর কাজলা ইউনিয়নের বেনুপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য পুটু মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, এই গ্রামের ১৬০ পরিবার গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শনিবার পর্যন্ত তারা কোনো প্রকার ত্রাণ সহযোগিতা পায়নি।

তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষগুলো এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভাত খেতে পারছে না। অন্যদিকে গবাদি পশুগুলো খাবারের অভাবে হাড্ডিসার হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কাজলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ সরকার গত সাড়ে তিন বছরে একবারও চরে আসেননি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563606989785.jpg

তবে কাজলা ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাজলা ইউনিয়নে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে।

তিনি জানান, অনেকে বার বার ত্রাণ নেয়ার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।

বোহাইল চরের বাসিন্দা লিটন সরকার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, তাদের এলাকার মানুষ এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে। এখনো অনেকেই ত্রাণ পায়নি।

বোহাইল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান, ত্রাণ পৌঁছানো হচ্ছে। কিন্তু মানুষের বড় সমস্যা হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন নিয়ে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, প্রতিদিনই ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৫ হাজার পানিবন্দী পরিবারকে শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার পরিবারকে ১৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা কবলিত সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় ৩১ হাজার ৫৮৫ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিন উপজেলায় দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩৩৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১০ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র