Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পিস্তল দিয়ে হামলা

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পিস্তল দিয়ে হামলা
ছাত্রদের বিক্ষোভে পিস্তল দিয়ে হামলা। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নড়াইল


  • Font increase
  • Font Decrease

নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে এ বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।

এ সময় ছাত্রদের ওপর পিস্তল দিয়ে হামলা চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।

জানা গেছে, ১৫ জুন সকালে শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিকের প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে পরীক্ষা দেয় সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সানজিনা এরিনা। তবে খাতায় নাম না লেখার কারণে ওই ছাত্রীকে মারধর করেন প্রদেশ কুমার। ওই ছাত্রী বাড়িতে এসে তার বাবাকে ঘটনাটি জানায়। পরে ওই ছাত্রীর বাবা স্থানীয় ঠিকাদার মঈনুল্লাহ দুলু শিক্ষককে বাড়ি থেকে কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এ ঘটনা জানাজানি হলে অন্য শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে একঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে।

এ সময় ঠিকাদার মঈনুল্লাহ দুলুর সমর্থকরা পিস্তল নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিয়ে স্কুল গেটে বিক্ষোভ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলে সন্ত্রাসী দুলুসহ তার সমর্থকরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এদের মধ্যে একজন পিস্তল নিয়ে আমাদের ওপর গুলি করতে তেড়ে আসে।’

ছাত্রদের দাবি, শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। তাই সকল শিক্ষার্থীর সামনে ওই অভিভাবককে শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বার্তা২৪.কমকে জানান, ‘ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং ঘটনা যেহেতু জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, তাই তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নিব।’

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বার্তা২৪.কমকে বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এখন বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। তবে আলম নামে একজনের পিস্তল থানায় জমা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

রাস্তায় তাদের রান্না ঘর!

রাস্তায় তাদের রান্না ঘর!
রাস্তায় সংসার পেতেছেন গাইবান্ধ্যার বন্যা কবলিত মানুষ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধায় বন্যার পানি কমতে শুরু হলেও, কমছে না পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ। এখনো ঘরে ফিরতে পারে নি বানভাসি মানুষ। ফলে গৃহহারা পরিবারের গৃহিনীরা রাস্তার মধ্যে চুলা বসিয়ে রান্নার কাজ করছে।

জানা যায়, চলমান বন্যায় গাইবান্ধা জেলার পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ ১৮০টি আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছে। অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও বাঁধের উপরে বসবাস করছে।  এসব মানুষ মাথার উপর পলিথিন ও ট্রিপল টাঙ্গিয়ে দিন পার করছেন। আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আকাশের কাল মেঘ জমলেই তাদের মধ্যে ভীতি বিরাজ করে। কারণ একটু বৃষ্টি হলেও তাদের ভিজে যাবে বিছানাপত্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563797351450.jpg

 বন্যা কবলিত এসব মানুষের নেই কোনো বাসস্থান। খাবার ও চিকিৎসাসহ নানান কিছুর অভাবে ভুগছেন। কে, খাবার দিবে এমন সন্ধানে তারা ছুটাছুটি করছেন। এসব পরিবারের খেটে খাওয়া মানুষরা কোথাও শ্রম বিক্রি করতে পারছেন না। কারণ চারিদিকে থৈ থৈ পানি। কৃষকের ফসলের মাঠ ডুবে আছে পানির নিচে। ফলে কারো কেনো শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে না। এ জন্য দিনমজুর মানুষদের শ্রমের চাহিদা নেই। বন্যায় আশ্রিত মানুষদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে ভিক্ষবৃত্তি শুরু করেছে। দিন শেষে যেটুকু পায়, সেই টুকু দিয়ে কোনো মতে খেয়ে বেঁচে আছেন। সবমিলে নানাবিধ আহাজারি শুরু হয়েছে।

আশ্রিত বানভাসি লুৎফর রহমান জানান, ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছি। কবে নাগাদ ঘরে ফিরতে পারব তার কোনো অন্ত নেই। টাকা পয়সার অভাবে কোনো মতে জীবন যাপন করছি।

বাচ্ছারাণী সরকার নামের এক বৃদ্ধা বলেন, এবারের বানের পানিতে ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে রয়েছে। আশ্রয় নিয়েছি শহর রক্ষা বাঁধে। সারাদিন ভিক্ষাবৃত্তি করে যা পাই, রাস্তায় চুলা বসিয়ে তা রান্নাবান্না করে খাই।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বন্যা দুর্গত মানুষদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। যা চলমান থাকবে।

হত্যা মামলায় যুবদল নেতাসহ পাঁচজনের যাবজ্জীবন

হত্যা মামলায় যুবদল নেতাসহ পাঁচজনের যাবজ্জীবন
প্রতীকী

ফরিদপুরের নগরকান্দার কার্তিক সিকদার হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় যুবদল নেতা সিরাজ মোল্যাসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ দায়রা আদালতের হাকিম মো. মতিয়ার রহমান এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে হাজির ছিল।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নগরকান্দার চর যশোরদী ইউনিয়ন যুবদলের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজ মোল্লা (৩৬) ও তার চার সহযোগী নয়া মোল্লা (৬০), ইমারত মোল্লা (৩২), কালাম মোল্লা (৩৮) ও সিদ্দিক মোল্লা (৩৬)।

২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষের দিকে চর যশোরদী ইউনিয়নের মেঘারকান্দি গ্রামের কার্তিক সিকদারের এক নাবালিকা কন্যাকে জোর করে অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন সিরাজ মোল্লা। এরপর সিরাজ কার্তিক সিকদারের বাড়িঘর দখল করে নিজে বসবাস শুরু করেন।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১ জুন রাতে সিরাজ ও তার সহযোগীরা কার্তিক সিকদারকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে ফেলে রেখে যায়। আহত কার্তিককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতেও বাধা দেওয়া হয়। পরদিন ২ জুন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান কার্তিক সিকদার।

২০০৭ সালের মার্চ মাসের ১৩ তারিখে নিহত কার্তিক সিকদারের স্ত্রী মিলনী সিকদার জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে সিরাজ সিকদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র