Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হবিগঞ্জে বিপন্ন ঘোষিত ‘গন্ধগোকুল’ এর সন্ধান

হবিগঞ্জে বিপন্ন ঘোষিত ‘গন্ধগোকুল’ এর সন্ধান
উদ্ধারকৃত গন্ধগোকুলের দুই বাচ্চা/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
হবিগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

হবিগঞ্জ শহরে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংস্থা- আইইউসিএন ঘোষিত বিপন্ন প্রাণী ‘গন্ধগোকুল’-এর দুটি বাচ্চার সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় লোকজন এই প্রাণী সম্পর্কে ধারণা না থাকায় প্রথমে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মো. আমিনুর রহমান তানিম নামে এক যুবকের প্রচেষ্টায় রক্ষা পায় বাচ্চা দুটি।

শনিবার (১৫ জুন) সকালে ও শুক্রবার দিবাগত রাতে শহরের শংকর বস্ত্রালয় এলাকায় এই বাচ্চা দু‘টিকে কুড়িয়ে পান স্থানীয় লোকজন। শনিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে বাচ্চা দুটির মাকেও একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

আমিনুর রহমান তানিম জানান, শুক্রবার রাতে স্থানীয় লোকজন একটি গন্ধগোকুলের বাচ্চা পেয়ে এটিকে মেরে ফেলতে চান। কিন্তু তিনি গিয়ে এটিকে বাঁচিয়ে বাসায় নিয়ে রাখেন। পরে শনিবার সকালে আরও একটি বাচ্চা পাওয়ার সংবাদে তিনি ছুটে যান সেখানে। বর্তমানে দু‘টি বাচ্চাই তার কাছে আছে।

তানিম জানান, বাচ্চা দুটির বয়স মাসখানেকের মতো হবে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এগুলো শারীরিকভাবে অনেকটা অসুস্থ। আপাতত কলা ও আম খাওয়ানো হচ্ছে। শারীরিকভাবে একটু সবল হলে গন্ধগোকুলের বাচ্চাগুলোকে তিনি ছেড়ে দেবেন বলেও জানান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/16/1560636472845.jpg

এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক প্রাণিবিদ ড. মোহাম্মদ ফারুক মিয়া বলেন, ‘ছবি ও বাহ্যিক আকৃতি দেখে মনে হচ্ছে- এগুলো স্তন্যপায়ী ও মাংশাসী জাতীয় প্রাণী গন্ধগোকুল। এটি বাংলাদেশের একটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। আইইউসিএন এই প্রাণীটিকে বিপন্ন ঘোষণা করেছে। প্রাণীটি সাধারণত ইঁদুর ও মৃত মুরগি খেয়ে আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাচ্ছে বিধায় খাবারের খোঁজে লোকালয়ে চলে এসেছে। ফলে এখানেই বংশ বিস্তার করছে। আমাদের নিজেদের জন্য এদের বাঁচিয়ে রাখা দরকার। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠা এসব প্রাণী বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসাটা ভাবনার বিষয়।’

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রোটারিয়ান শামীম আহছান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে এগুলোকে খাটাস বলা হয়ে থাকে। এরা প্রাকৃতির জন্য খুব উপকারী। গন্ধগোকুল বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ।’

আপনার মতামত লিখুন :

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিকসহ দলের অঙ্গ সংগঠনের আট নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে শহরের মিজান পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত বাকিদের মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবরের পরিচয় জানা গেছে। আর বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন তাদেরকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩
পুরনো ছবি

ফরিদপুরের নাঈমা সুলতানা পাখি। আর দশ জনের মতো নয়। একজন বিশেষ মানুষ। সব থাকতেও যেন কি যেন নেই। তাতে কি, পাখিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। পাখি উড়ছে নিরবধি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন জিপিএ ৪.৩৩।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের নাদের হোসেন ও শাহেদা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান নাঈমা সুলতানা পাখি। জন্ম থেকে নানা রোগ ছিল দেহে। চিকিৎসার পর চিকিৎসা চলেছেই। এক পর্যায়ে বাবা-মা জানতে পারলেন অন্যসব রোগ ভালো হলেও পাখি উচ্চতায় খুব একটা লম্বা হবেন না। পাখির ২০ বছর বয়স, উচ্চতা মাত্র ২৮ ইঞ্চি।

পাখি পারিবারিক ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজ থেকে ২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্যবসা বাণিজ্য শাখা থেকে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পাখি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বড় হয়ে সরকারি চাকরি করতে চাই। বিসিএস ক্যাডার হতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘৯ বছর আগে বাবা যখন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে গেলো তখন আমার পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু মা সব সময় পাশে ছিল। আর আমিও চেষ্টা করেছি। কখনো ছটো মনে করিনি নিজেকে। মানুষ হিসেবে লেখাপড়া করে গেছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563563395502.jpg

পাখি বলেন, ‘বাবার যে জমি জমা আছে সেসব বর্গা দিয়ে যে টাকা পয়সা পাই, তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলছে। তার উপর তিন বোনের লেখাপড়া চালানো মায়ের জন্য কষ্টকর। তবে আমি সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা ও উপবৃত্তি পাই। তা দিয়ে আমার লেখাপড়ার অনেকটা সহায়ক হয়। সকল বাধা পেরিয়ে আমার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করে আমি এগিয়ে চলছি। আমি সকলের দোয়া চাই।’

পাখির মা শাহেদা বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘পাখির আরও দুটি বোন আছে মেজ বোন হাফছা এবার এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোট বোন ছামিয়া পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। স্বামী দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী।’

পাখির কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মামুন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম বলেন, পাখি হয়তো আর দশ জনের মতো নয়। ক্লাসে প্রাণচাঞ্চল্য থাকতো সে। দেখা হলেই সবাইকে সালাম দেয়। লেখাপড়াও ভালো।’

তিনি জানান, পাখির লেখাপড়ার সুবিধার্থে মুসলিম মিশনে ফ্রিতে থাকা ও খাওয়া এবং লেখাপড়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এবার পাশ করে অনার্সে ভর্তি হলে পাখির আরও সাহায্যের প্রয়োজন হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র