Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বগুড়ায় থানা হেফাজতে নির্যাতন, চার পুলিশ বরখাস্ত

বগুড়ায় থানা হেফাজতে নির্যাতন, চার পুলিশ বরখাস্ত
নির্যাতনের শিকার সোহান বাবু আদর, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
বগুড়া


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়া সদর থানায় হেফাজতে রেখে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের এক আদেশে তিনজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরে আরও একজনকে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্তকৃতরা হলেন- বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জব্বার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এরশাদ আলী ও মন্সুী কন্সটেবল এনামুল হক।

পুলিশের নির্যাতনের শিকার সোহান বাবু আদর (৩২) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার সাইদুর রহমানের ছেলে।

আদর ও তার বড় বোন সম্পা বার্তা২৪.কমকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাত ১০টার দিকে থানার মুন্সি কনস্টেবল এনামুল হক মোবাইল ফোনে আদরকে থানায় আসতে বলে। থানায় গেলে তাকে হাজতে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে তার বোন সম্পা রাতেই থানায় গেলে তাকে জানানো হয়- একই এলাকার সাথী বেগম তার মেয়েকে ইভটিজিং ও পাওনা টাকা না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

আদর বলেন, সেই রাত থেকে শুক্রবার (১৪ জুন) রাত ১১টা পর্যন্ত কনস্টেবল এনামুল এসআই জব্বার এবং অজ্ঞাত একজন তাকে নির্যাতন করে। কখনও ঝুলিয়ে আবার কখনও হ্যান্ডকাফ দিয়ে হাত বেধে নির্যাতন করে। এতে কয়েকবার তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে থানা থেকে তার বাবা ও বোনকে ডেকে আনা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার রাতেই আদরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে গেলে এসআই জব্বার এবং কনস্টেবল মুন্সী ভয়ভীতি দেখায়। একারণে পরিবারের কেউ রাতে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহান বাবু আদরের সাথে কথা বলেছি এবং ঊর্দ্ধতন কৃর্তপক্ষকে বিষটি জানানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনের নাম আসায় তাদেরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আরো তদন্ত চলছে। আরো কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত থাকায় সন্ধ্যার পর আরো একজনকে সাসপেন্ড করা হয়। তিনি হলেন- সদর থানার সহকারী উপ-পরির্শদক (এএসআই)  নিয়ামত উল্লাহ।

আপনার মতামত লিখুন :

লালমনিরহাটে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

লালমনিরহাটে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
ফাইল ছবি

লালমনিরহাটের ধরলা নদীর বন্যার পানিতে ডুবে ইশি মনি (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ওয়াবদা বাজারের পাশে ধরলা নদী থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

শিশু ইশি মনি সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ওয়াবদা বাজার এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। ওই বন্যার পানি বাড়িতে ওঠায় শিশু ইশি মনিকে উঁচু স্থানে রেখে কাজ করছিল পরিবারের লোকজন। তবে সবার অজান্তে বন্যার পানিতে পড়ে ওই শিশুটির মৃত্যু হয়।

দুদকের মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

দুদকের মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে
প্রতীকী ছবি

ফরিদপুরে নির্দিষ্ট সময়ে সম্পত্তির বিবরণ জমা না দেওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে আদালতের হাকিম মো. সেলিম মিয়া আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঐ পুলিশ কর্মকর্তার নাম এস এম বদরুল আলম। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ধানকোড়া গ্রামের বাসিন্দা। এস এম বদরুল আলম বর্তমানে গাজীপুর জেলার হাইওয়ে পুলিশের এএসপি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে এস এম বদরুল আলম যশোরের ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঐ বছরের ৪ মে তার সম্পত্তির হিসাব চেয়ে সাত দিনের মধ্যে তা দুদকে জমা দিতে বলা হয়। বদরুল আলম দুদকের নোটিশের ঐ চিঠিটি ৫ মে গ্রহণ করেন। সেই হিসেবে ১৪ মে’র মধ্যে তার সম্পত্তির হিসাব দেওয়ার কথা ছিল।

বদরুল আলম নির্দিষ্ট সময়ে সম্পত্তির হিসাব জমা না দেওয়ায় দুদকের ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবুল হোসেন বাদী হয়ে ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বদরুল আলমকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে।

মামলা দায়েরের পর বদরুল আলম হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তিকালীন জামিন নেন। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ২০১৪ সালের ১৬ জুন এ ব্যাপারে একটি রুল জারি করে রুল নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বদরুল আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুদকের মামলার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। গত ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই হাইকোর্ট বদরুল আলমের দায়ের করা রুলটি খারিজ করে দেন।

জেলা দুদকের আইনজীবী নারায়ন চন্দ্র দাস জানান, হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দিলেও বদরুল আলম সেই তথ্য গোপন রাখেন। অতপর বুধবার তিনি ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র