Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

এবারও বাজেটে সুখবর নেই হাওরবাসীর

এবারও বাজেটে সুখবর নেই হাওরবাসীর
ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
হবিগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দেশের ৪৮ তম বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জনসন্তুষ্টির কথা বাজেটে বিবেচনা করে বেশকিছু চমক দেখানো হলেও সু-সংবাদ আসেনি হাওর অঞ্চলের জনসাধারণের।

তাদের প্রত্যাশা ছিল- হাওবাসীর দুঃখগাঁথা জীবন সংগ্রামের কথা বিবেচনা করে এবারের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ ও পরিকল্পনা রাখা হবে। হাওরের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ থাকবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে প্রায় এক হাজার ২৬১ কোটি টাকা বেশি।

আগামী অর্থবছরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় গবেষণার মাধ্যমে বন্যা, খরা, লবণাক্ত ও অধিক তাপমাত্রা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। শস্যের বহুমুখীকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জনপ্রিয়করণ, খামার যান্ত্রিকীকরণ জোরদার করা হবে। বহুমুখী পাট পণ্য উদ্ভাবনের গবেষণা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

হাওরবাসীদের দাবি, গেল দুই বছর হাওরের কৃষকরা একটি জমির ধানও সঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারেনি। অকাল ব্যনায় বিস্তীর্ণ হাওরের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। তাই অকাল বন্যা রোধে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন ছিল।

হাওরবাসীর সব চেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হচ্ছে বাঁধ নির্মাণ। হাওরের এই বাঁধের অভাবে প্রতি বছর লাখো কৃষকদের পথে বসতে হয়। সেই বাঁধগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে নির্মাণের জন্য আলাদা বরাদ্দের প্রয়োজন ছিল।

কৃষকদের মতে, হাওর সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া। বছরের পর বছর পলি জমে হাওর এলাকার নদীগুলোর নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। তাই পাহাড়ি ঢলে সামান্য পানি এলেই বাঁধ ভেঙে বা উপচে তা হাওরে প্রবেশ করে। তাই বাজেটে হাওর এলাকার নদীগুলো খননের জন্য বড় ধরনের বরাদ্দ আশা করেছিলেন হাওরবাসী।

এদিকে, বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখনও তেমন স্থলপথ সৃষ্টি হয়নি। ফলে যাতায়াত দুরবস্থার কারণে ধান ঘরে তুলতে ভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলে আসলেও সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সরকার।

জানা যায়, শুধু হবিগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০০’র অধিক হাওর রয়েছে। কোনো কোনো হাওরের দূরত্ব গ্রাম থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। এসব হাওরে চাষাবাদ করতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় কৃষকদের। হাওরে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় জমির আল দিয়ে ২০/২৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে চাষাবাদ করতে যেতে হয়।

বিশেষ করে বৈশাখ মাসে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় কৃষকদের। এ সময় বোরো ধান ঘরে তুলেন হাওরের কৃষকরা। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে হাওরের কৃষকদের। সেই সাথে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা, বাড়ছে শ্রমিক সংকট।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য এমদাদুল হোসেন খান বলেন, ‘কৃষিবান্ধব এই সরকারের প্রতি হাওরবাসীর অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাজেট নিয়ে এখন হাওরের জনগোষ্ঠির হতাশা ছাড়া কিছুই নেই।’

সাহিত্য পত্রিকা ‘তরঙ্গ’র সম্পাদক শিব্বির আহমেদ আরজু বলেন, ‘হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ‘হাওর উন্নয়ন’ নমে একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখার। এ জন্য অনেক দাবিও করা হয়েছিল। কিন্তু বাজেটে এ রকম কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। যা সত্যি হাওরবাসীর জন্য দুঃখের বিষয়।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘মানুষের যে মৌলিক অধিকারগুলো রয়েছে তাও হাওরবাসী পান না। শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য সবগুলো বিষয় থেকেই হাওর অঞ্চলের জনগোষ্ঠী পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিবছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে হাওরে কান্নার রোল পড়ে। তাই অবহেলিত এই হাওরবাসীর কষ্টের বিষয়টি বিবেচনা করে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল।’

আপনার মতামত লিখুন :

ভুলে বিকাশে আসা ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন টাইলস মিস্ত্রি

ভুলে বিকাশে আসা ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন টাইলস মিস্ত্রি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

হত্যা, ধর্ষণ, মাদকসহ দুর্নীতির একের পর এক সংবাদে দেশবাসী যখন উৎকণ্ঠিত তখন বিকাশের ভুল নম্বর থেকে আসা ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে সততার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের শিরফল মিয়া (৪০)।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মালিকের হাতে টাকাগুলো তুলে দেন শিরফল মিয়া। শিরফল মিয়া উপজেলা সদরের বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়া গ্রামের ফকির চাঁন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি।

জানা যায়, গত ১১ জুলাই রাতে শিরফল মিয়ার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা আসে। কিন্তু এতো টাকা কিভাবে আসল তা তিনি বুঝতে পারছিলেন না। ভয়ে কারও সঙ্গে বিষয়টি আলাপও করেননি। পরদিন (১২ জুলাই) তার নম্বরে পটুয়াখালি থেকে মো. আল আমিন নামে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে টাকার কথা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। একই সাথে বানিয়াচং ঘুরে যাওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান।

মঙ্গলবার টাকা ফেরত নিতে দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে বানিয়াচং আসেন আল আমিন (২৯)। পরে বিকেলে শিরফল মিয়া তার ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেন। এসময় টাকা ফেরত পেয়ে খুশি হয়ে শিরফল মিয়াকে ২ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক শিব্বির আহমদ আরজু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শেখ সাগর আহমদ ও রেজাউল করিম।

এ টাকা ফেরত পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আল আমিন মিয়া। তিনি বলেন- ‘যখন জানতে পারি ৩০ হাজার টাকা বিকাশের ভুল নম্বরে হবিগঞ্জের বানিয়াচং গিয়েছে তখন ফেরত পাব বলে বিশ্বাস ছিলো। কারণ এখানকার মানুষ অনেক সৎ ও ভালো হিসেবে জানি। সে বিশ্বাসের প্রতিফলন আজ পেয়েছি।’

এ ব্যাপারে শিরফল মিয়া বলেন- ‘ভুল করে টাকা আসতেই পারে। তাই বলে অন্যের টাকা আত্মসাৎ করব এমন শিক্ষা পেয়ে আমি বড় হইনি।’

শিরফল মিয়া বিদেশ ফেরত এক যুবক। তিনি প্রবাস থেকে অর্থ-কড়ি খুইয়ে বাড়িতে এসেছেন প্রায় ৫ বছর। পেশা হিসেবে টাইলস মিস্ত্রি। কিন্তু ৫ সদস্যের সংসারে অর্থের টানাপোড়েন লেগেই আছে। এমতাবস্থা থেকেও শিরফল মিয়া সেই টাকার প্রতি বিন্দুমাত্র লোভ করেননি। এতে তিনি টাকা ফেরত দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় রিকশা চালক নিহত

নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় রিকশা চালক নিহত
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় জাহাঙ্গীর মিয়া (১৫) নামে এক কিশোর রিকশা চালক নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মহাসড়কের আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারের কাছে রাত ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত রিকশা চালক আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে।

প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে রিকশা চালিয়ে আউশকান্দি বাজারে আসছিল জাহাঙ্গীর। এ সময় মুনিম ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছা মাত্রই সিলেট থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাক জাহাঙ্গীরের রিকশাকে চাপা দেয়। এতে রিকশাটি দুমড়ে মুছড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়।

মহাসড়কের প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে মরদেহ হাইওয়ে থানায় রয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র