Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

অস্তিত্ব সংকটে দেবীগঞ্জের ময়নামতির চর

অস্তিত্ব সংকটে দেবীগঞ্জের ময়নামতির চর
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ময়নামতির চর/ ছবি: বার্তা২৪.কম
মোহাম্মদ রনি মিয়াজী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পঞ্চগড়


  • Font increase
  • Font Decrease

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত ময়নামতির চর জেলার অন্যতম একটি আকষর্ণীয় স্থান। সবুজের সমারোহ আর স্নিগ্ধ বাতাসের নিরিবিলি পরিবেশঘেরা এই স্থানটি সহজেই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে তোলে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলা, নজরদারির অভাব ও নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে ময়নামতির চর আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের একমাত্র এ চর প্রায় ৪০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। চরের উত্তরে সবুজ চা বাগান, পশ্চিমে বহমান করতোয়া নদী, পূর্বে ঘনবসতি ও দক্ষিণে আবাদি জমির সবুজ শ্যামল ফসলের অপররূপ দৃশ্যের সমারোহ যেন খুব সহজেই আকৃষ্ট করে চরে বেড়াতে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের।

ময়নামতির চরে ২০১৭ সালে দশম জাতীয় রোভারমুট ও কমডেকা আসর অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই রোভারমুট ও কমডেকা আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সময় বন বিভাগ ময়নামতি চরের সৌন্দর্য বর্ধনে আকাশমনি, শিশু, দেশি কড়ই, আমলকী, মেহগনি, আম, জাম, কাঁঠাল, বেলসহ নানা প্রজাতির প্রায় ২০ হাজার গাছ রোপণ করায় সময়ের ব্যবধানে সেই গাছগুলো এখন চরের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে কয়েকগুন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560353133645.jpg

বিশেষ করে বাগানের ভেতরে কংক্রিটের তৈরি আঁকাবাঁকা রাস্তা ও বাগান থেকে সবুজের সান্নিধ্যে প্রবাহিত করতোয়া নদীর পাড়ের দৃশ্য দেখতে তৈরি করা হয়েছে সিমেন্টের বেঞ্চ। ফলে ঘুরতে আসা প্রকৃতিপ্রেমীদের ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এ ময়নামতির চর।

প্রাকৃতিক সমারোহের এ চর তার সৌন্দর্য ও অস্তিত্ব সংকটের দিকে নিমজ্জিত হওয়ায় আজ পঞ্চগড়ের মানচিত্র হতে বিলুপ্তির পথে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় প্রতিবছর করতোয়ার বুকে ময়নামতি চর বিলীন হচ্ছে।

শুধু বর্ষা নয়, সারা বছরই চরের পাড় ধসে পড়ছে নদীতে। ফলে উপড়ে পড়ছে মূল্যবান গাছগুলো, ফলে দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে চরের আয়তন। ফলে নদীতে বাঁধ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে কিন্তু বন বিভাগ এতে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

নীলফামারী জেলা থেকে ঘুরতে আসা ইদ্রীস আলী নামে এক পর্যটক জানান, 'ময়নামতি চর অনেক আকষর্ণীয় একটি স্থান। প্রতিবছর পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসি। কর্তৃপক্ষ যদি সংস্কার বা উন্নয়নমূলক কোনো উদ্যোগ নেয় তাহলে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এ চর।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560353156805.jpg

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র পলাশ পাল বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'ময়নামতির চর আমাদের জেলার ঐতিহ্য কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ গুরুত্বপূর্ণ স্থানটির প্রতি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে চরম অবহেলায় আজ ময়নামতির চর।’

এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী প্রিন্স রেজা বার্তা২৪.কম-কে জানান, '২০১৭ সালে ময়নামতি চরে জরিপ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণে সে অর্থবছরে বরাদ্দ না থাকায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। তবে বাঁধ নির্মাণের জন্য স্থান পরিদর্শন, সম্ভাব্য ব্যয়সহ সকল প্রক্রিয়া যাচাই বাছাই এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সার্ভে শেষ হলে টেকনিক্যাল কমিটিতে বিষয়টি আলোচিত হবে।’

এদিকে পঞ্চগড় জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. আলী কবীর বলেন, 'বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, তবে নদী ভাঙন ঠেকানোর বিষয়টা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলছি, এখনো তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’

আপনার মতামত লিখুন :

কক্সবাজারে দেয়াল চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

কক্সবাজারে দেয়াল চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে দেয়াল চাপায় মাহমুদুল্লাহ (৪০) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও এক শ্রমিক।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বেলা পৌনে ১১টার দিকে আইনজীবি সমিতির কার্যালয়ে সংস্কার কাজ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহমুদুল্লাহ কক্সবাজির সদর উপজেলার পিএমখালীর মুচনীয়া পাড়ার মৃত জাকির হোসেনের ছেলে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ নুর উদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'দেয়াল চাপায় গুরুতর আহত এক শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা এলে লাশ হস্তান্তর করা হবে।'

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন মানবপাচারকারী নিহত

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন মানবপাচারকারী নিহত
ছবি প্রতীকী

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' তিন মানব পাচারকারী নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি এলজি ও ১৫টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) ভোরে উপজেলার মহেশখালীয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- টেকনাফের সাবরাং নয়াপাড়ার আব্দুর শুক্কুরের ছেলে কোরবান আলী (৩০), পৌরসভার কে কে পাড়ার আলী হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদের (২৫) ও একই এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে আব্দুর রহমান (৩০)।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'রোহিঙ্গা পাচারে জড়িত এ তিনজনকে আটকের উদ্দেশে গেলে তাদের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে এসব অস্ত্রসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।'

নিহতদের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র