Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

যানবাহনের চাপ নেই দৌলতদিয়া ঘাটে

যানবাহনের চাপ নেই দৌলতদিয়া ঘাটে
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট
সোহেল মিয়া
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রাজবাড়ী


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ কমেছে। যানবাহনের তেমন একটা চাপ না থাকায় স্বস্তিতে পদ্মা নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। ঘাট এলাকায় এসেই খুব অল্পসময়ে যানবাহনগুলো ফেরির নাগাল পাচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কে হাজারের বেশি যানবাহন নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকলেও বুধবার (১২ জুন) এখন পর্যন্ত ঘাট এলাকায় তেমন একটা যানজট দেখা যায়নি। যানবাহনের যে সিরিয়াল রয়েছে তা সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন ঘাট সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার বিকেল ৪টায় ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যানবাহনের তেমন একটা চাপ নেই। দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহন রয়েছে। তাতে সর্বোচ্চ একশো যানবাহন হবে। এর মধ্যে আবার পণ্যবাহী ট্রাকও রয়েছে। ফলে যাত্রীবাহী কোন পরিবহন ঘাটে এসে পৌঁছালেই খুব স্বল্পসময়ের মধ্যেই ফেরিতে উঠতে পারছে। তবে পচনশীল নয় এমন পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বেশকিছু সময় ধরে।

মাগুরা থেকে আসা ঈগল পরিবহনের যাত্রী রাজিব মোল্লা বার্তা২৪.কমকে বলেন, এবারের ঈদে বাড়ি আসার সময় বেশ আরামে নদী পার হতে পেরেছিলাম। আবার ঢাকা ফেরার সময়ও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে কোনরকম ভোগান্তি ছাড়াই নদী পার হতে পারছি। আসলে এবারে ঘাট ব্যবস্থাপনা বেশ ভালো ছিল। এরকম যেন সবসময়ই থাকে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, মঙ্গলবার হঠাৎ করে ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। যানবাহন পার করার জন্য এই নৌরুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। আমরা যানবাহনগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে নদী পার করতে পারায় আজ ঘাটে গাড়ির তেমন একটা চাপ নেই। চাপ বাড়ার সম্ভবনাও তেমন নেই।

তিনি আরো জানান, টার্মিনালে যে ট্রাকগুলো রয়েছে সেগুলো এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যারা সিরিয়ালে আগে ছিল তাদের আগে নদী পার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে।

দৌলতদিয়া ঘাট ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর আবুল হোসেন বলেন, ঈদের আগে থেকে এখন পর্যন্ত আমরা ঘাট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। যার কারণে এবার ঘাটে যাত্রীদের তেমন একটা ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। আর এখন যে যানবাহন রয়েছে তাতে আর কোন সমস্যা হবে না বলে আশা করছি। কারণ ঘাটে এখন যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে।

আপনার মতামত লিখুন :

নীলফামারীতে বজ্রপাতে নিহত ২ 

নীলফামারীতে বজ্রপাতে নিহত ২ 
নিহত আব্দুল আজিজ, ছবি: বার্তা২৪.কম
 
নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলা উপজেলায় বজ্রপাতে গৃহবধূসহ দুই জন নিহত হয়েছেন।   
 
মঙ্গলবার (২৫ জুন) আনুমানিক রাত ৮ টার দিকে ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের দক্ষিন সোনাখুলী (দুদিয়া পাড়া) নামক স্থানে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সময়ে বাজারে যাওয়ার পথে আব্দুল আজিজ (৫৫) বজ্রপাতের কবলে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন।     
 
স্থানীয়রা জানায়, তার গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায়।
 
অপরদিকে, সন্ধা ৭ টায় ক্ষেত বাড়ী থেকে গরু বাসায় নিয়ে আসার সময়ে জেলার ডোমার উপজেলায় বজ্রপাতে আয়েশা আক্তার (৫৫) নামে একজন গৃহবধু নিহত হন।
 
নিহত আয়েশা আক্তার উপজেলার পাঙ্গা মটকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মটকপুর গ্রামের মান্নান হোসেনের স্ত্রী।

ইয়াবা পাচারে নতুন সংযোজন ‘রোহিঙ্গা’

ইয়াবা পাচারে নতুন সংযোজন ‘রোহিঙ্গা’
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ইয়াবার প্রবেশদ্বার খ্যাত টেকনাফে মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নড়েচড়ে বসে। তখন থেকেই ইয়াবা বিরোধী অভিযান জোরদার হয়।

ইয়াবার আস্তানা ও কারবারিদের একের পর এক হানায় নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে। মাদক নির্মূল করতে গিয়ে টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে ১০১ জন মাদক কারবারী নিহত হয়। এর মাঝে পুলিশের ৭৪ জন, বিজিবির সঙ্গে ১৮ জন, র‌্যাবের সঙ্গে ৭ জন নিহত হন। তবে নিহতদের মধ্যে নারীসহ অনেক রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃংখলা বাহিনীর ভয়ে ১০২ মাদককারবারী আত্মসর্ম্পন করেছে। অন্যান্য মাদক কারবারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

জানা যায়, ইয়াবা কারবার কিছুটা থামতে না থামতেই রোহিঙ্গা শিবির ভিত্তিক ইয়াবা সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার এখনো থামেনি, তবে আগের মতো ইয়াবার বেপরোয়া গতি এখন আর নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত অবস্থানে কারবারিরা তেমন সুবিধা করতে পারছেন না।

তবে রোহিঙ্গা ইয়াবা সিন্ডিকেট এখনো মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান দেশে ঢুকাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নতুন করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারে যুক্ত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আর্ত্মসমপণে ইয়াবা পাচার থামছে না বরং পাচারে নতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে, সহজলভ্য ও সস্তা মাদক বহনকারী হয়ে উঠেছে শিবিরের রোহিঙ্গারা। পাচারকারী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে রোহিঙ্গা পুরুষ ও নারীরা।

এদিকে বিভিন্ন সংস্থার গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোহিঙ্গা আসার পর শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় কক্সবাজারে ইয়াবা আটকের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়ে গেছে মাদক মামলা ও আসামির সংখ্যাও। তবে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে হটলাইনে যাওয়ায় চলতি বছরে মাদক পাচার কিছুটা কমেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561507718945.jpg

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে মাদকের চাহিদার কারণে সরবরাহও আছে, কিন্তু সরবরাহ বন্ধ করা না গেলে চাহিদা বাড়তেই থাকবে, যার কারনে বাংলাদেশকে মাদক পাচারের রুট হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আটক হওয়া রোহিঙ্গারা পরিচয় লুকানোর কারণে মাদক সংক্রান্ত মামলায় রোহিঙ্গা আটকের সঠিক পরিসংখ্যা জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক বছরে কক্সবাজারের ৩৪ রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক বিক্রি ও সেবনের আখড়া গড়ে উঠেছে। ইয়াবা মজুতের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে জনবহুল এই ক্যাম্পগুলো। তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৈরি করা ইয়াবা কারবারির তালিকায়ও ১৩ জন নেতৃস্থানীয় রোহিঙ্গার নাম রয়েছে।

স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতারা জানান, ইয়াবা ব্যবসায় বেশি জড়াচ্ছে শিবিরের স্বামীহারা নারীরা। তারাই এখানে সবচেয়ে অসহায়। তারা সীমান্তরক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে ওপারে যাওয়া-আসার নিরাপদ পথ চেনে।

টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভলপমেন্ট কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আলমের মতে, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রোহিঙ্গাদের এ কাজে জড়াচ্ছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রচারনা চালানো হচ্ছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের পর ইয়াবার পাচার বেড়ে গেছে। যে কারণে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ ও ১৮ সালে অনেক বেশি ইয়াবার চালান ও পাচারকারী আটক হয়েছে। তবে মাদক বিরোধেী অবস্থানে ২০১৯ সালে অনেকটা কমে এসেছে। রোহিঙ্গা শিবিরকে নিরপদ মনে করে অনেক ইয়াবা কারবারি সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ‘সীমান্তের ইয়াবা বন্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছেন। মাদক বিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে ৭৪ জন শীর্ষ ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে এবং ১০২ জন কারবারি আত্মসমর্পন করেছেন। এছাড়া অনেক ইয়াবা কারবারি পালিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতায় স্থানীয় লোকজন এখন ইয়াবা কারবারে জড়াতে চাচ্ছেনা। তবে রোহিঙ্গা এখন নতুন করে ইয়াবা পাচারে চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা শিবিরে ইয়াবা সিন্ডিকেট ও কারবারিদের পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে এবং তাদের মাঝে মাদক বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

র‌্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্প ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহতাব বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর পর স্থানীয় অনেক ইয়াবা পাচারকারীও রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। যে কারণে শিবিরগুলোতে র‌্যাবের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।’

টেকনাফস্থ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে.কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খাঁন বার্তা২৪.কমকে বলেন, সীমান্তে ইয়াবার পাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গত ৬ মাসে বিজিবির অভিযানে ৪২ লক্ষ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে এবং ১৮ জন ইয়াবা কারবারি বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই রোহিঙ্গা নাগরিক।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র