Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

নরসিংদীতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে হত্যার পর ধর্ষণ

নরসিংদীতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে হত্যার পর ধর্ষণ
হত্যার পর ধর্ষণের ধায়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে র‌্যাব/ ছবি: সংগৃহীত
ডিসিট্রক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নরসিংদী


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কারায় নরসিংদীতে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে প্রথমে হত্যা ও পরে মৃত কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে গ্রেফাতার করেছে র‌্যাব-১১।

মঙ্গলবার (১১ জুন) রাতে শিবপুর উপজেলার কলেজ গেইট এলাকা থেকে অভিযুক্ত ঐ ধর্ষককে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১ এর একটি অভিযানিক দল। গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম শিবপুর উপজেলার দুলালপুর এলাকার মৃত হানিফ ফকিরের ছেলে।

বুধবার (১২ জুন) দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শামশের উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, অভিযুক্ত সাইফুলের সাথে প্রায় তিন মাস আগে একটি মাজারে পরিচয় হয় একই উপজেলার মাছিমপুর এলাকার ঐ শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীর।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560336442346.jpg

এরপর থেকে দুই সন্তানের পিতা সাইফুল ঐ কিশোরীকে একাধিকবার কু-প্রস্তাব দেয়। এতে কিশোরীটি রাজি না হওয়ায় গত ৬ জুন তাকে নিয়ে সিএনজিতে করে দুলালপুর এলাকার কাজীবাড়ির একটি কলা বাগানে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় সাইফুল।

এ সময় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে প্রথমে গলাটিপে হত্যা ও পরে মৃত ঐ প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে সাইফুল। ঘটনার দুইদিন পর ঐ এলাকা থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে শিবপুর থানা পুলিশ।

পরে কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে র‌্যাব-১১। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করেছে বলে জানায় র‌্যাব।

আপনার মতামত লিখুন :

নেত্রকোনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু

নেত্রকোনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু
ছবি: প্রতীকী

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আনোয়ার হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।

সোমবার (১৯ আগস্ট) ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত আনোয়ার হোসেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের গন্ডা গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি ঢাকার বনশ্রীতে একটি মাদরাসায় বাবুর্চির কাজ করতেন।

আনোয়ার হোসেনের ছেলে তুহিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকায় থাকতে বাবার জ্বর হয়। পরে গত ৮ আগস্ট ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন তিনি। পরে ঈদের আগের দিন ১১ আগস্ট জ্বরের তীব্রতা বেড়ে গেলে প্রথমে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই সময় আমরা জানতে পারি বাবার ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে। আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা মারা যান।’

তুহিন আরও বলেন, ‘বাবার উপার্জিত অর্থেই সংসার চলত। বাবার মৃত্যুতে এখন আমরা খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি।’

নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু বিষয়ে মানুষকে সচেতন করছি। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

‘পত্রিকায় শুধু লিখে দিয়েন, আমরা কষ্টে আছি’

‘পত্রিকায় শুধু লিখে দিয়েন, আমরা কষ্টে আছি’
অনীল কান্ত বিশ্বাস, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

‘মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনী বাড়িঘর লুটপাট করে জ্বালিয়ে দেয়। গুলি করে হত্যা করে আমার মাকে। দেশের জন্য মা প্রাণ দিলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। অভাবের তাড়নায় ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালালেও একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড ভাগ্যে জোটেনি। শহীদের সন্তান হয়ে এর চেয়ে বেদনা আমার জন্য আর কি হতে পারে।’

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে কথাগুলো বলার সময় বারবার চোখ ভিজে আসছিল অনীল কান্ত বিশ্বাসের। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শালীহর গ্রামে। বাবা রজনী কান্ত বিশ্বাস মারা গেছেন মুক্তিযুদ্ধের আগেই। ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট শালীহর গ্রামে পাকবাহিনীর গণহত্যায় অনিলের মা খীরদা সুন্দরী শহীদ হন।

আরও পড়ুন: গৌরীপুরে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

অনিলের বয়স এখন ৭২। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন তিনি। ভুগছেন বার্ধক্যজনিত রোগে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই তার পথচলা। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ভিক্ষাবৃত্তি করতে হয়ে এ পাড়া থেকে ও পাড়া। গ্রামের একখণ্ড জমিতে ছোট্ট কুঁড়েঘরে অনিলের বসবাস। দাম্পত্য জীবনে তার স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি নবম শ্রেণিতে পড়ে। তার লেখাপড়ার জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217034304.jpg

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শালীহর গ্রামে বাড়ির সামনে দেখা মিলে অনীল কান্ত বিশ্বাসের। সেখানে বসেই জীবনের পাওয়া না পাওয়া গল্প তুলে ধরেন বার্তা২৪.কমের কাছে। তিনি বলেন, ‘আগে দিনমজুরি করে সংসার চালাতাম। কিন্তু এখন বয়স হওয়ায় আগের মতো খাটা-খাটনি করতে পারি না। বৃদ্ধ বলে কেউ কাজে নেয় না। তাই ভিক্ষাবৃত্তি করি। দিন শেষে শ খানেক টাকা আয় হয়। এটা দিয়ে সংসার চলে।’

আরও পড়ুন: মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শিশু নাহিদ

১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট গণহত্যার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনিল বলেন, ‘সেদিন পাকবাহিনী গ্রামে হানা দিয়ে আমাদের বাড়িঘর লুটপাট শেষে জ্বালিয়ে দেয়। জীবন বাঁচাতে যে যেদিক পারি পালিয়ে যাই। মা দৌড়ে আশ্রয় নেন মুসলমানপাড়ায় এক বাড়িতে। পাকবাহিনী সেখানে গিয়ে মাকে গুলি করে। অনেকক্ষণ যন্ত্রণায় ছটফট করে মা মারা যান। সেদিন মায়ের মরদেহ সৎকার করতে না পেরে মাটিতে পুতে রাখি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217046875.jpg

অনিলের সঙ্গে গল্প করতে করতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, এমন সময় আগমন ঘটে তার স্ত্রী সুধা রানী বিশ্বাসের। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাস এলেই সাংবাদিকরা শুধু ছবি তুলে নিয়ে যায়। কিন্ত ছবির মানুষগুলো যে মানবেতর জীবনযাপন করে তাদের পাশে তো কেউ দাঁড়ায় না। এবারই শেষ ছবি আর নাহ।’

কথার মাঝে স্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে অনিল বলেন, ‘ওর (স্ত্রীর) কথায় কিছু মনে করবেন না। পত্রিকায় শুধু লিখে দিয়েন, আমরা কষ্টে আছি। সরকারের কাছে ঘর ও একটা ভাতার কার্ড চাই। শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে আমার দাবি এতটুকুই।’

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘অনিল কান্ত বিশ্বাস যেন ভাতা পায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র