Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা’ যেন ময়লার ভাগাড়

‘স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা’ যেন ময়লার ভাগাড়
কুষ্টিয়ার স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা চত্বর। ছবি: বার্তা২৪.কম
এস এম জামাল
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কুষ্টিয়া


  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার ‘স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা’ চত্বরটি যেন ময়লার ভাগাড়। এখানে নাকে রুমাল চেপে রাস্তা পার হতে হয়।

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মেহেদী হাসান সৌখিন নামে এক পথচারী। তিনি শহরের আমলাপাড়ার বাসিন্দা।

তিনি জানান, নিত্যদিনের চলাচলের প্রধান সড়ক এনএস রোডে অবস্থিত ওই স্মৃতিস্তম্ভটির সামনে জমা ময়লার কারণে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে মহান স্বাধীনতার স্মৃতিকে নিদারুণ অবহেলা, অপমান করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের ব্যাপক প্রাণহানির লক্ষ্যে পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া সেলের আঘাতে কুষ্টিয়া পৌরসভা মার্কেটের সামনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির যথাযথ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে এর চেতনা ছড়িয়ে দিতে কুষ্টিয়া পৌরসভার উদ্যোগে ‘স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা’ স্মৃতি ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব, চরম অবহেলা এবং অসাধু চক্রের দখলদারিত্ব প্রভৃতির কারণে মহান মুক্তিযুদ্ধের এ স্মৃতিটি গৌরব হারিয়ে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এ স্মৃতিটির চারপাশে পৌরবাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘স্মৃতিস্তম্ভটিকে ঘিরে সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। কেননা, এক সময় এই ভাস্কর্য চত্বরে অনেক অনুষ্ঠান করা হতো। ১৯৯০ এর গণ আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হতো। অথচ সেই জায়গায় এখন নাকে কাপড় দিয়ে চলতে হয়। তাই স্থানীয় সরকার প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই- এ স্মৃতিস্তম্ভটি অবমুক্ত করে মুক্ত সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা হোক।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/11/1560244388482.jpg

এনএস রোডের দোকান মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদেরী শাকিল জানান, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, চেতনা ও প্রকৃত ইতিহাসের অবমাননা যেকোনো দেশ বা জাতির জন্যই লজ্জাজনক। দীর্ঘ বছরের অবহেলায় ‘স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা’ স্মৃতি ভাস্কর্য আজ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যাতে করে এখানে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে এজন্য পুরো চত্বরটি সংরক্ষণ করার দাবি জানান তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার হাজী রফিকুল আলম টুকু বার্তা২৪.কমকে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের জীবদ্দশায় এমন অবমাননা দেখা অত্যন্ত কষ্টের। অনতিবিলম্বে 'স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা' স্মৃতি ভাস্কর্যটি দখলমুক্ত করে তা যথাযথ সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হোক।

কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বার্তা২৪.কমকে জানান, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আসলাম হোসেন জানান, ‘স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা’ চত্বর এবং এর আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যকর এবং নির্মল পরিবেশ যাতে বজায় থাকে এবং শহরবাসীদের কোনো দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সেজন্য যা যা করণীয় তাই করা হবে। এখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এতে করে দেখা যাবে কে বা কারা ময়লা ফেলে এই স্থানটি ভাগাড়ে পরিণত করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

কলারোয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় নারী নিহত

কলারোয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় নারী নিহত
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নারী, ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় কমলা রানী হালদার (৫২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নারী কলারোয়া পৌর সদরের ঝিকরা গ্রামের মৃত নিতাই হালদারের স্ত্রী। তিনি কলারোয়া মাছ বাজারে পানি দেওয়া ও মাছ পরিষ্কারের কাজ করতেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে কলারোয়া পৌর সদরের ঝিকরা হরিতলা পূজা মণ্ডপের পাশের পুকুর ধারে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের ন্যায় কমলা সকালে বাড়ি থেকে কলারোয়া মাছ বাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। ওই স্থানে পৌঁছালে যশোর দিক থেকে আসা পাথরভর্তি ট্রাক ক্রসিংয়ের সময় পুকুর ধারে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের ধাক্কা খেয়ে কমলা রাণী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

কলারোয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ছাকিমুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান- দ্রতগামী পরিবহনকে সাইড দিতে গিয়ে পাথর ভর্তি ১০ চাকার ট্রাকটি (ঢাকা ২৫৩/অ) মেইন রোডে হরিতলা ও প্রি-ক্যাডেট স্কুলের মাঝামাঝি পুকুরের সাইডে নেমে যায়। পুকুরের পাশে সদ্য মাটি ভরাট করা অংশে ট্রাকটি গেলে মাটি ধসে আস্তে আস্তে পাশের পিলার ভেঙে পুকুরের মধ্যে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি।

সে সময় পথচারী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ঝিকরা গ্রামের কমলা হালদার ট্রাকের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাকটির চালক ও হেলপার পালিয়ে যান।

জামালপুরে বন্যার পরিস্থিতির আরো অবনতি

জামালপুরে বন্যার পরিস্থিতির আরো অবনতি
জামারপুরে বন্যা কবলিত এলাকা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলার ৪৭ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় জেলার ৪৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এসব এলাকার পুকুরের মাছ, গরুর খাবার ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা কবলিত এলাকার ৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563247221662.jpg
জামালপুরে বন্যা কবলিত এলাকায় প্লাবিত হয়েছেন ৮০ হাজার পরিবারের ৫ লাখ মানুষ। বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুকনো খাবারের প্রয়োজনের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে চর্মরোগ ও শিশুদের সর্দি জ্বর।

বন্যা আক্রান্ত মানুষেরা বলছেন তাদের কাছে এখনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা বলছেন বন্যা কবলিত মানুষের সংখ্যার চেয়ে ত্রাণের পরিমাণ কম থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ৬শ’ ৫০ মে. টন চাল, নগদ ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতি উপজেলায় ২টি করে মেডিকেল টিম দেওয়া আছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র