Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চাঁদপুরে দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে লঞ্চ

চাঁদপুরে দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে লঞ্চ
চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চাঁদপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগের পর চাঁদপুর থেকে নৌরুটে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় ফিরছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার দিক চিন্তা না করে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো চলছে। এতে করে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ নেই।

সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে লঞ্চঘাটে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময় হয়ে গেলেও লঞ্চগুলো ছাড়া হচ্ছে না। সোমবার (১০ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমভি সোনারতরী, এমভি রফ রফ, এমভি ঈগল, এমভি আবে জমজম, এমভি প্রিন্স অব রাসেল, মেঘনা রাণী ও বোগদাদিয়া-৭ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ঘাট ছেড়েছে।

চাঁদপুর লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি রুহুল আমিন জানান, চাঁদপুর-ঢাকা-চাঁদপুর নৌরুটে ভ্রমণ আরামদায়ক হওয়ার কারণে যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে এ রুটে ২২টি বিলাসবহুল লঞ্চ যাতায়াত করছে। চাঁদপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুর জেলার আংশিক মানুষ এখন এ রুটে যাতায়াত করে। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে এখন কর্মমুখী মানুষগুলো ঢাকাসহ নিজ গন্তব্যে ফেরার জন্য লঞ্চেই যাওয়া শুরু করেছে।

চাঁদপুর লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার জানান, যাত্রীদের না ওঠার জন্য নিষেধ করলেও তারা জোরপূর্বক লঞ্চে উঠছে। এ কারণে নির্দিষ্ট যাত্রীর চাইতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো চাঁদপুর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। চাপ থাকায় যাত্রী পারাপারের জন্য ২টি স্পেশাল লঞ্চ দেওয়া হয়েছে।

ঈগল, ময়ুর, বোগদাদীয়া, ইমাম হাসানসহ কয়েকটি লঞ্চের চাঁদপুর ঘাটের দায়িত্বরত মালিক প্রতিনিধি আলী আজগর সরকার জানান, যাত্রীদের লঞ্চে না ওঠার জন্য বারণ করলেও তাদেরকে থামিয়ে রাখা যায় না। তারা জোর করে লঞ্চে ওঠে। যার ফলে লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘাট ত্যাগ করছে।

চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, স্বাভাবিকের চাইতে বেশি যাত্রী যাচ্ছে। ওভারলোডিংও হচ্ছে। তবে তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর কোস্টগার্ডের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।

আপনার মতামত লিখুন :

নারায়ণগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি, যুবকের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি, যুবকের মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে অজ্ঞাত (২৫) এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা৷ গুরুতর অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷

শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৮ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির আলামিন নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে৷

স্থানীয়দের সূত্রে, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির আলামিন নগর এলাকার রাজমিস্ত্রী সোহেলের সাত বছরের মেয়ে সাদিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সন্দেহে ওই যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা৷ পরে উত্তেজিত জনতা ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়৷

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেন জানান, ছেলে ধরা সন্দেহে অজ্ঞাত এক যুবককে গণপিটুনি দেয় সাধারণ জনগণ ৷ খবর পেয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন৷

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা যে বাচ্চা মেয়েটিকে ধরেছে বলেছিল পরে তার অভিভাবক জানায়, তার মেয়ে স্কুলে ক্লাস করছে ৷ মেয়েটি স্থানীয় আইডিয়াল কিন্ডারগার্ডেনের ছাত্রী ৷ প্রাথমিকভাবে ছেলে ধরার ব্যাপারে কোন সত্যতা মেলেনি৷ নিহত যুবক গুজবের শিকার বলে ধারণা হচ্ছে ৷

এ ঘটনার দুই ঘণ্টা পর সকাল সোয়া দশটায় মিজমিজির শাপলা চত্বর এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে এক নারীকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা৷ পুলিশ খবর পেয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০  শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়৷

ত্রাণ পাচ্ছে না দুর্গম চরের বাসিন্দারা!

ত্রাণ পাচ্ছে না দুর্গম চরের বাসিন্দারা!
কমছে যমুনা নদীর পানি। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ধীরগতিতে পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষ আর গবাদি পশু একসঙ্গে বসবাস করছে। দুর্গম চরগুলোতে পানিবন্দী মানুষ পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি এবং গোখাদ্যের সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো ত্রাণ পেলেও দুর্গম চরে আটকে পড়া লোকজন পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছে না।

সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনার দুর্গম চর কাজলা ইউনিয়নের বেনুপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য পুটু মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, এই গ্রামের ১৬০ পরিবার গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শনিবার পর্যন্ত তারা কোনো প্রকার ত্রাণ সহযোগিতা পায়নি।

তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষগুলো এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভাত খেতে পারছে না। অন্যদিকে গবাদি পশুগুলো খাবারের অভাবে হাড্ডিসার হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কাজলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ সরকার গত সাড়ে তিন বছরে একবারও চরে আসেননি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563606989785.jpg

তবে কাজলা ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাজলা ইউনিয়নে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে।

তিনি জানান, অনেকে বার বার ত্রাণ নেয়ার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।

বোহাইল চরের বাসিন্দা লিটন সরকার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, তাদের এলাকার মানুষ এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে। এখনো অনেকেই ত্রাণ পায়নি।

বোহাইল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান, ত্রাণ পৌঁছানো হচ্ছে। কিন্তু মানুষের বড় সমস্যা হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন নিয়ে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, প্রতিদিনই ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৫ হাজার পানিবন্দী পরিবারকে শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার পরিবারকে ১৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা কবলিত সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় ৩১ হাজার ৫৮৫ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিন উপজেলায় দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩৩৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১০ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র