Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ঈদ গেলেও লক্ষ্মীপুরে ভিজিএফ’র চাল পাননি দুস্থরা

ঈদ গেলেও লক্ষ্মীপুরে ভিজিএফ’র চাল পাননি দুস্থরা
ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
লক্ষ্মীপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদে খাবারের অভাব মেটাতে সরকার দুস্থদের জন্য ভিজিএফ’র ১৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ঈদ শেষ হলেও লক্ষ্মীপুরের রামগতির আটটি ইউনিয়নের সাতটিতেই দুস্থরা এখনো চাল পাননি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের খামখেয়ালিপনার কারণেই দুস্থরা এ চাল পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আটটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যেক চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শতকরা ২৫টি ভিজিএফ কার্ডের চাল দাবি করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল। সরকারি নিয়ম পরিপন্থি এ দাবি ছিল চেয়ারম্যানের খামখেয়ালিপনা। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে চাল নেননি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান বলছেন, শিগগিরই চাল বিতরণ শেষ করা হবে।

জানা গেছে, এবার রামগতি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের জন্য প্রায় ২০২ মেট্টিক টন ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ওইসব ইউনিয়নের ১৩ হাজার ৪৯৭ জন কার্ডধারী দুস্থরা প্রত্যেকে ১৫ কেজি করে এ চাল পাবে। কিন্ত উপজেলার চরবাদাম ছাড়া অন্য কোনো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এখনো পর্যন্ত চাল নেননি।

এদিকে, ঈদের আগেই চরবাদাম ইউনিয়নে বরাদ্দ হওয়া প্রায় সবগুলো চাল বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়নটিতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কার্ডধারী রয়েছেন।

অন্যদিকে, মেঘনার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে উপকূলীয় এ উপজেলার মানুষগুলো খুব কষ্টের দিনাতিপাত করছেন। কৃষি কাজ ও নদীতে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে। কিন্তু মার্চ-এপ্রিল নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামলেও গত একমাস কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়েনি জেলেদের জালে। এতে ধারদেনা করে কোনোরকম তাদেরকে ঈদ কাটাতে হয়েছে। ঈদের আগে ভিজিএফ’র চালগুলো পেলে ঈদটি তারা খুশিতে কাটাতে পারতেন।

কিন্তু পাশ্ববর্তী উপজেলার দুস্থরা ভিজিএফের চাল পেলেও রামগতিতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ফণির আঘাতে এ জনপদের তিন শতাধিক কাঁচা ও টিনসেট ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের কাছে শতকরা ২৫টি করে নাম দাবি করেছেন। এটি সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম পরিপন্থি। বিগত দিনে কোনো উপজেলা চেয়ারম্যান এরকম দাবি করেননি। ঈদে দুস্থদের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার চাল দিলেও চেয়ারম্যানের অযৌক্তিক লোভের কারণে তা বিতরণ সম্ভব হয়নি।

চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ঈদের আগেই আমার ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৮১ জনের তালিকা করে উপজেলায় জমা দিয়েছি। জটিলতার কারণে যথাসময়ে চালগুলো বিতরণ করা যায়নি। এতে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।’

রামগতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমান উল্লাহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ভিজিএফের চালগুলো ঈদের আগেই বিতরণের কথা ছিল। নানা কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বাকি চালগুলো বিতরণ করা হবে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সত্য নয়। ঈদের আগে মৎস্য বিভাগের তালিকা অনুযায়ী জেলেদের চাল দিতে হয়েছে। এ কারণে দুস্থদের চাল বিতরণ করতে পারিনি। সঠিকভাবে দুস্থদের নামের তালিকা করতে বলা হয়েছে। খুব শিগগিরই চালগুলো বিতরণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী

ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বন্যার পানিতে ভে‌ঙে যাওয়া ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ‌সেনাবা‌হিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউ‌বো) যৌথভা‌গে জিও ব্যাগ ফেলা‌র কাজ ক‌র‌ছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল থে‌কে কাজ হয়। এর আগে বৃহস্প‌তিবার (১৮ জুলাই) রা‌তে ভুঞাপুর-তারাকা‌ন্দি সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত নলীন-পিংনা-যোকারচর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভে‌ঙে যায়।

স্থানীয়রা জানান, তীব্র স্রো‌তে সড়ক‌টির ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ি নামক স্থানে রাত ৮টার দিকে ভেঙে যায়। ফলে ভূঞাপুর পৌরসভা ও ফলদা ইউনিয়নের আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়। ভূঞাপুরের সাথে তারাকান্দির সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তরব‌ঙ্গসহ বি‌ভিন্ন এলাকায় তারাকা‌ন্দির যাতায়াত বন্ধ র‌য়ে‌ছে।

আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে সড়কটি ভেঙে যেত না বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। তিনি জানান, ভূঞাপুর-তারাকান্দি রাস্তা তারাকান্দি যমুনা সার কারখানার জন্য এই রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন অংশে জিও ব্যাগ ফেলে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। যমুনার পশ্চিমাংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে, পূর্বাংশে প্রাথমিকভাবে কাজ চলছে। বকশিগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত ভাঙন রোধে সার্ভে করে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tangail flood

‘বন্যায় জলাবদ্ধদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস একযোগে কাজ করছে। এলাকাবাসীকেও এব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।’

টাঙ্গাইল পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশরী সিরাজুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরেই সড়ক‌টি হুমকির মুখে ছিল। এজন্য সেটি মেরামত করার তৎপরতা চালানো হয়। তবুও হঠাৎ করেই রাতে টেপিবাড়ি অংশে ভেঙে যায়।

জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের আহবানে সেনাবাহিনী বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন।

যমুনার নদীর পানি আট সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, কালিহাতী, নাগরপুর, দেলদুয়ার উপজেলার প্রায় ১১১টি গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানি প্রবেশ করায় এসব এলাকার ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন: তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

শিশুর মাথা কাটার ঘটনার সঙ্গে পদ্মা সেতু গুজবের সম্পর্ক নেই

শিশুর মাথা কাটার ঘটনার সঙ্গে পদ্মা সেতু গুজবের সম্পর্ক নেই
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

নেত্রকোনায় শিশুর মাথা কাটার ঘটনার সঙ্গে পদ্মা সেতু গুজবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলি এলাকার বাসিন্দা রইছ উদ্দিনের ছেলে শিশু সজিব মিয়াকে (৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী একই এলাকার বাসিন্দা এখলাছ মিয়ার ছেলে রবিন মিয়া (৩০)। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলে ধরা ও পদ্মা সেতুর গুজবের সাথে মিশিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটি নিতান্তই বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তদন্তাধীন বিষয়ে মনগড়া ও অসত্য তথ্য দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ। ঘটনাটির সাথে পদ্মা সেতু গুজবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পদ্মা সেতু ও ছেলে ধরা সংক্রান্ত গুজবে কান না দিতে নেত্রকোনা তথা দেশবাসীকে অনুরোধ জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে ‘মাথা কাটা’ আতঙ্ক

আরও পড়ুন: ব্যাগের ভেতর শিশুর মাথা, গণধোলাইয়ে যুবকের মৃত্যু

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় ছেলে ধরা সন্দেহে যুবক আটক

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র