Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

'এটা কোনো রাস্তা হলো?'

'এটা কোনো রাস্তা হলো?'
রাস্তার পিচ ঢালাই এখনো হয়নি, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কুষ্টিয়া


  • Font increase
  • Font Decrease

এটা কি একটা রাস্তা হলো? আক্ষেপ করেই এমন কথাগুলো বলছিলেন ইজিবাইক চালক করিম আলী। বেশ কয়েকজন যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেট থেকে ইজিবাইক ছেড়ে যাচ্ছিল বড় বাজারের দিকে। ট্রাফিক বক্স পেরিয়ে আগা ইউসুফ মার্কেটের সামনে এবড়ো থেবড়ো সড়কে যেন উল্টে পড়ার অতিক্রম।

ইজিবাইক চালক এভাবেই বলে ওঠেন 'এই কি একটা রাস্তা হলো'। তিনি কুষ্টিয়া শহরতলির জুগিয়া এলাকার বাসিন্দা। ইজিবাইক চালিয়ে তিনি জীবন যাপন করেন। মজমপুর থেকে বড় বাজার পর্যন্ত প্রতিনিয়তই তার ইজিবাইকে করে যাওয়া আসা। অথচ দীর্ঘদিন সড়ক সংস্কার না হওয়ায় আক্ষেপ শুধু করিম আলীরই নয়। আক্ষেপ এই সড়কে চলাচলরত প্রতিটি ইজিবাইক চালক ও যাত্রী সাধারণদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/09/1560036057330.jpg
রাস্তার এক পাসে পিচ ঢালাই থাকলেও অন্যপাশে পিচ নেই, ছবি: বার্তা২৪

 

কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র এনএস রোড। মজমপুর গেট থেকে শুরু হয়ে পাঁচ রাস্তার মোড়, ছয় হয় রাস্তার মোড়, চার রাস্তার মোড় এবং এনএস রোড হয়ে বড়বাজার চলে গেছে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি।

কাবিল শেখ নামের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার ইজিবাইক চালক বার্তা২৪.কম জানান, দীর্ঘ চার বছর ধরে ইজি বাইক চালাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, 'দীর্ঘ দিন ইজিবাইক চালায় আমি শহরের মধ্যেই। মজমপুর থেকে বড় বাজার পর্যন্ত প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১৫ বার যাওয়া আসা করা লাগে। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর ধরে ও এসব সড়কের কাজ সংস্কার না হয় দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/09/1560036117564.jpg
শেষ হয়নি রাস্তার কাজ, ছবি: বার্তা২৪

 

স্থানীয়রা জানান, মজমপুর থেকে বড় বাজার পর্যন্ত সড়ক যেন দুই ভাগে বিভক্ত। কিছু কিছু জায়গায় ভাঙা গর্ত রয়েছে। আবার কিছুদূর আগালে রাস্তা ভালো পাওয়া যাবে। কিন্তু তারপর আবারও ভাঙাচোরা গর্ত।

মজমপুর শহরের মা হার্ডওয়ারের স্বত্বাধিকারী ইয়ার আলী বার্তা২৪.কম বলেন, 'আমার দোকানের সামনে থেকে শুরু করে পাঁচ রাস্তার মোড় পর্যন্ত রাস্তার একপাশ ভালো আরেক পাশে ভাঙাচোরা গর্ত'র কারণে প্রতিদিনই অ্যাকসিডেন্টের ঘটনা ঘটে। অথচ দীর্ঘদিনেও এই সড়কটি সংস্কার করা হয়নি।'

কিরণ মাহমুদ নামের এক পথযাত্রী বার্তা২৪.কম বলেন, 'শহরের ব্যস্ততম এলাকায় এনএস রোড এর চাঁদ সুলতানা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে থেকে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক দুই বছরের দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙাচোরা গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে। কোনো এক অদৃশ্য কারণে এই রাস্তাটুকু পিচ ঢালাই করা হয়নি। আর এই দীর্ঘ দুই বছরে জনগণের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/09/1560036350908.jpg
রাস্তার অর্ধেক অংশ পিচ ঢালাই করা, ছবি: বার্তা২৪

 

একতারা মোড় এলাকার মুসাফির হোটেলের স্বত্বাধিকারী শাহিন আলী বার্তা২৪.কম বলেন, 'সিঙ্গার মোড় থেকে লাভলী টাওয়ার পার হয়ে রাস্তার মাঝে থেকে এক পাশে আড়াই ইঞ্চি মত পিচ ঢালাই দেওয়া এবং আর একদিকে আড়াই ইঞ্চি মতো এবড়ো থেবড়ো অবস্থা। অথচ এটুকু সংস্কার করেনি কর্তৃপক্ষ।

কুষ্টিয়া পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ রানভির আহমেদ বার্তা২৪.কম বলেন, 'পৌরসভার মাধ্যমে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জোরেশোরে কাজ চলছে। ড্রেনেজ কাজ সম্পন্ন হলেই সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে। তখন শহরবাসী বেশ উপকৃত হবে এবং শহরটা নতুন মনে হবে।'

আপনার মতামত লিখুন :

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতের আঘাতে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও ১০ জন।

আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকি ৮ জনকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নে ও রাণীশংকৈল উপজেলায় এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের দালালবস্তী গ্রামের আব্দুল জব্বার (৪৫), রাণীশংকৈল উপজেলার আলসেয়া গ্রামের মনছুর আলীর ছেলে আবু সাঈদ (১৩), একই গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৮), জগদল গ্রামের মৃত বাচা মোহাম্মদের ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৩) ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563886918443.jpg

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাব্বেরুল হক জানান, বিকেলে বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সরকারবস্তী গ্রামের ভাঙ্গারু নামে এক ব্যক্তির আম বাগানে পাহারার কাজে নিয়োজিত ছিলেন রবিউল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম। এ সময় বজ্রপাতে রবিউল ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরে নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যায়।

একই সময় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দালালবস্তী গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় আব্দুল জব্বার বজ্রপাতে ঝলসে গিয়ে মারা গেছেন।

অপরদিকে রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, বিকেলে প্রতিবেশী আব্দুল খালেকের সঙ্গে মাঠে হাঁস আনতে গিয়েছিলেন আবু সাঈদ। বজ্রপাতে সেখাইনেই তার মৃত্যু হয়। তবে প্রতিবেশীর কোনো ক্ষতি হয়নি ।

বন্যা দুর্গত প্রত্যেক ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো হবে: কৃষিমন্ত্রী

বন্যা দুর্গত প্রত্যেক ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, বন্যা দুর্গত প্রত্যেক মানুষের বাড়িতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রানসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। বন্যার সময় যেমন খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল বাঁচামারা, শিবালয় উপজেলার অন্বয়পুর এবং হরিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুরে বন্যাকবলিতদের ত্রাণ প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ, ভাঙন ও বন্যা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে সরকার বন্যা ও ভাঙন মোকাবিলায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চাঁদপুর থেকে পদ্মা ও যমুনা নদীতে ড্রেজিং করা হবে। ড্রেজিংয়ের মাটি নদীর পাড়ে ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভাঙন রোধ হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতি হয় কৃষিতে। বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনের জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান করা হবে। এজন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, কৃষি পুনর্বাসনে কোনো সমস্যা হবে না।

বিএনপি নেতাদের বন্যা নিয়ে কোনো মাথাব্যথ্যা নেই মন্তব্য  করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, বিএনপি নেতা রিজভী শুধু দলীয় কার্যালয়ে বসে প্রেসরিলিজ দেন আর সাংবাদিকরা তা মিডিয়াতে তুলে ধরেন। এছাড়া বিএনপি নেতাদের কোনো কাজ নেই।

Manikganj

তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল। ওই সময় উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা ও বন্যা হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুর্গতদের ত্রাণ দেন। কিন্তু গত ১১ বছরে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায়নি।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক উপ-কমিটির পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জের এই তিন উপজেলায় নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত তিন হাজার পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল, ডাল, তেল, চিড়া, আলু ও লবণ দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মির্জা আজম, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, স্থানীয় সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান জানু, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম রাজা, হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র