Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতালের এমডি আটক

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতালের এমডি আটক
লক্ষ্মীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
লক্ষ্মীপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরে অপারেশনের সময় জরায়ু কেটে ফেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিচিত্রা কর নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাত ১০টার দিকে শহরের উপশম (প্রাঃ) হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ভুল চিকিৎসায় বিচিত্রার মৃত্যুর অভিযোগ এনে হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন মৃতের স্বজনরা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুদ্দিনকে আটক করে। এ সময় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিহতের স্বজনদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এদিকে হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. কাউছার সাংবাদিকদের কাছে রোগীর মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। কিন্তু হাসপাতালের মূল ফটকে তালা দিয়ে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা প্রদান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নিহত বিচিত্রা লক্ষ্মীপুর পৌরসভার শাখারীপাড়া এলাকার বাবলু করের স্ত্রী।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে প্রসবজনিত কারণে বিচিত্রাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে রোগীকে গাইনি বিশেষজ্ঞ বসাক কুমারকে দেখানো হয়। পরে তার নির্দেশে বিচিত্রাকে উপশম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিকেলে উপশম হাসপাতালেই সিজারের মাধ্যমে মেয়ে সন্তান প্রসব করেন বিচিত্রা। বেডে স্থানান্তরের পর সন্ধ্যায় তার পেটে ব্যাথা অনুভব হয়। ফের তাকে রাত ৯টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে জরায়ু কেটে ফেলে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক বসাক কুমার আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক বসাক কুমারের পরামর্শে বিচিত্রাকে উপশমে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু অপারেশন করে জরায়ু কেটে ফেলায় প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, ঘটনাটি শুনে হাসপাতালের সামনে গিয়ে রোগীর স্বজনদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ সময় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আটক করা হয়। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী

ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বন্যার পানিতে ভে‌ঙে যাওয়া ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ‌সেনাবা‌হিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউ‌বো) যৌথভা‌গে জিও ব্যাগ ফেলা‌র কাজ ক‌র‌ছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল থে‌কে কাজ হয়। এর আগে বৃহস্প‌তিবার (১৮ জুলাই) রা‌তে ভুঞাপুর-তারাকা‌ন্দি সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত নলীন-পিংনা-যোকারচর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভে‌ঙে যায়।

স্থানীয়রা জানান, তীব্র স্রো‌তে সড়ক‌টির ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ি নামক স্থানে রাত ৮টার দিকে ভেঙে যায়। ফলে ভূঞাপুর পৌরসভা ও ফলদা ইউনিয়নের আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়। ভূঞাপুরের সাথে তারাকান্দির সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তরব‌ঙ্গসহ বি‌ভিন্ন এলাকায় তারাকা‌ন্দির যাতায়াত বন্ধ র‌য়ে‌ছে।

আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে সড়কটি ভেঙে যেত না বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। তিনি জানান, ভূঞাপুর-তারাকান্দি রাস্তা তারাকান্দি যমুনা সার কারখানার জন্য এই রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন অংশে জিও ব্যাগ ফেলে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। যমুনার পশ্চিমাংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে, পূর্বাংশে প্রাথমিকভাবে কাজ চলছে। বকশিগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত ভাঙন রোধে সার্ভে করে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tangail flood

‘বন্যায় জলাবদ্ধদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস একযোগে কাজ করছে। এলাকাবাসীকেও এব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।’

টাঙ্গাইল পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশরী সিরাজুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরেই সড়ক‌টি হুমকির মুখে ছিল। এজন্য সেটি মেরামত করার তৎপরতা চালানো হয়। তবুও হঠাৎ করেই রাতে টেপিবাড়ি অংশে ভেঙে যায়।

জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের আহবানে সেনাবাহিনী বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন।

যমুনার নদীর পানি আট সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, কালিহাতী, নাগরপুর, দেলদুয়ার উপজেলার প্রায় ১১১টি গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানি প্রবেশ করায় এসব এলাকার ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন: তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

শিশুর মাথা কাটার ঘটনার সঙ্গে পদ্মা সেতু গুজবের সম্পর্ক নেই

শিশুর মাথা কাটার ঘটনার সঙ্গে পদ্মা সেতু গুজবের সম্পর্ক নেই
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

নেত্রকোনায় শিশুর মাথা কাটার ঘটনার সঙ্গে পদ্মা সেতু গুজবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলি এলাকার বাসিন্দা রইছ উদ্দিনের ছেলে শিশু সজিব মিয়াকে (৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী একই এলাকার বাসিন্দা এখলাছ মিয়ার ছেলে রবিন মিয়া (৩০)। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলে ধরা ও পদ্মা সেতুর গুজবের সাথে মিশিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটি নিতান্তই বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তদন্তাধীন বিষয়ে মনগড়া ও অসত্য তথ্য দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ। ঘটনাটির সাথে পদ্মা সেতু গুজবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পদ্মা সেতু ও ছেলে ধরা সংক্রান্ত গুজবে কান না দিতে নেত্রকোনা তথা দেশবাসীকে অনুরোধ জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে ‘মাথা কাটা’ আতঙ্ক

আরও পড়ুন: ব্যাগের ভেতর শিশুর মাথা, গণধোলাইয়ে যুবকের মৃত্যু

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় ছেলে ধরা সন্দেহে যুবক আটক

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র