Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নড়াইলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

নড়াইলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করসেপন্ডেন্ট
র্বাতা২৪.কম
নড়াইল


  • Font increase
  • Font Decrease

নড়াইলের লোহাগড়ায় স্কুলছাত্রী নুপুর খানম নামে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ জুন) পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

নুপুর উপজেলার রায় গ্রামের হিরু বিশ্বাসের মেয়ে। সে আরকেকে জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। রোববার (২ জুন) সন্ধ্যায় লোহাগড়া হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের চাচা বাচ্চু বিশ্বাস বলেন, ছয়দিন আগে নুপুর খাতুন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। রোববার সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে লোহাগড়া হাসপাতালে গিয়ে নুপুরের মরদেহ পান তারা।

তার অভিযোগ, ব্রানডাংগা গ্রামের ওবায়দুর রহমান মানিকের ছেলে রবিউল ইসলাম রুবেল ও জালালসী গ্রামের চান সরদারের ছেলে আজাদ সরদার নুপুরকে অপহরণ করে। তারা লোহাগড়া বাজারের পোদ্দারপাড়া গ্রামের মিনি বেগমের বাসায় রেখে গণধর্ষণ করে।

তবে পোদ্দারপাড়া মিনি বেগমের দাবি, চার-পাঁচদিন আগে নুপুর আমার বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় নুপুর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসাপাতালে আনার আগেই নুপুরের মৃত্যু হয়।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

দিনাজপুরে এরশাদের কলেজসহ ৭ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল

দিনাজপুরে এরশাদের কলেজসহ ৭ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ৭টি কলেজ থেকে কেউই পাস করতে পারেনি। এই সাত কলেজের মধ্যে সদ্য প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে কলেজ রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) ফল প্রকাশের পর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৪ হাজার ৮২৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৬৪ হাজার ১৭৮ জন এবং ছাত্রী ৬০ হাজার ৭০১ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৯ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ।

গতবারের চেয়ে এবার পাসের হার বাড়লেও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে সাত কলেজে কেউ পাস করেনি বলেও জানান তিনি।

এই কলেজগুলো হলো- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা এম এম আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুড়িগ্রামের রাজারহাট সিঙ্গার দবরিরহাট বি এল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আদিতমারী উপজেলার নামুরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ব্যাপারীটলা আদর্শ কলেজ, ঠাকুরগাঁওয়ের পীলগঞ্জ উপজেলার পীরগঞ্জ আদর্শ কলেজ ও পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার আলহাজ তজিম উদ্দিন কলেজ।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, শুকনো খাবার-বিশুদ্ধ পানির সংকট

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, শুকনো খাবার-বিশুদ্ধ পানির সংকট
বন্যায় বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রৌমারীর এই বৃদ্ধ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঘরে শুকনো খাবার নেই। নেই রান্নার খড়িও। নলকূপ তলিয়ে থাকায় মিলছে না বিশুদ্ধ খাবার পানি। টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ছে বিড়ম্বনা। এ চিত্র এখন কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের ৫৬টি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক পরিবারের।

এসব পরিবারের প্রায় সোয়া ছয় লাখ মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে দিন পার করছেন। এদের বেশির ভাগই পানির ওপরে নৌকায় ও ঘরের ভেতর মাচান উঁচু করে অতি কষ্টে দিন-রাত যাপন করছেন। খাবারের তীব্র সংকটে পড়েছে এ পরিবারগুলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361590191.gif

আর যারা ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, তারাও পড়েছেন নানা দুর্ভোগে। কোথাও কোথাও বন্যা দুর্গতদের আশ্রিত স্থানেও হানা দিয়েছে বন্যার পানি। অনেক পরিবার নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে দোকান থেকে কেনা শুকনো খাবারের উপর। কিন্তু নগদ টাকার অভাবে অনেক পরিবারের ভাগ্যে জুটছে না সেই খাবার টুকুও।

বাঁধ ও পাকা সড়কের দুই ধারে খুপড়ি ঘর ও পলিথিনের তাবু টানিয়ে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও গবাদি পশু নিয়ে বসবাস করলেও অনেক পরিবার পলিথিন বা ত্রিপলের অভাবে রয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছেন নারীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361887840.gif

এদিকে সরকারি হিসাবেই জেলায় প্রায় সোয়া ছয় লাখ মানুষ বন্যাদুর্গত হয়ে শুকনো খাবারের সংকট নিয়ে বসবাস করলেও জেলা প্রশাসন থেকে তাদের জন্য দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

রৌমারী উপজেলার চর বন্দবের ইউনিয়নের সাধু শেখের স্ত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘বন্যায় খুব দুর্ভোগে আছি। রান্না করার উপায় নাই। ঘরে শুকনো খাবারও নাই। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাঁচার উপায় থাকবে না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361626587.gif

বন্দবের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, ‘ইউনিয়নের ৪৭ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত, এদের বেশির ভাগ ইউনিয়ন পরিষদসহ উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। এসব বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ১১০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপঙ্কর রায় জানান, ‘উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দিদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361643993.gif

জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ১০০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে বন্যার পানির চাপে জেলার রৌমারী, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ ছিড়ে ও সড়ক-মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে তা ঢুকে পড়ছে উঁচু এলাকার গ্রাম ও হাটবাজারগুলোতে।

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘৯ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বন্যা কবলিতদের মধ্যে শুকনো খাবার কিনে দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে চার লাখ ৮৮ হাজার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ভিজিএফ বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা দ্রুত বিতরণ করা হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র